গোয়াইনঘাটে চুরির অপবাদে কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন, আটক ১

গোয়াইনঘাট থেকে সংবাদদাতা :
গোয়াইনঘাটে পূর্ব বিরোধের জের ধরে মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে হাত ও পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনের পর এক পর্যায়ে ওই কিশোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মাদকের মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করে। নির্যাতনের শিকার সোহেল (১৭) নামের ওই কিশোরটি বর্তমানে পুলিশের দায়ের করা মাদকের মামলায় জেল হাজতে রয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর উপজেলার মানাউড়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
এ ঘটনায় সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আবুল হাসনাত খান’কে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
নির্যাতনের এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার বিকেলে ইসবর আলী নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরের ভাই ফিরোজ আলী জানান তার ভাই সোহেল পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক। পরিবারের অর্থের জোগান দিতে সে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতো।
পূর্ব শত্র“তার জের ধরে ঘটনার দিন সকালে আমার ভাইকে বাড়ির সামনে থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোন চুরির মিথ্যা অভিযোগে গাছের সঙ্গে দুই হাত ও পা বেঁধে ওই গ্রামের বাসিন্দা ইসবর আলী (৬৫) নামে এক ব্যক্তি সোহেলকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। তখন সে যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল। এ সময় নির্মম ওই দৃশ্যের ভিডিও চিত্রও ধারণ করা হয়। কিন্তু কৌতুহলী মানুষ জটলা পাকিয়ে এমন নির্মম দৃশ্য দেখলেও তার আর্তচিৎকারে কারও মন গলেনি। এমনকি তাকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি। পিটুনির এক পর্যায়ে কান ধরে উঠবস করিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা করে পুলিশ। এছাড়া মামলার এজাহারে ছেলেটির বয়স বাড়িয়ে ১৮ বছর লেখা হয়েছে।
ছেলেটির পরিবারের অভিযোগ সোহেলকে যখন পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এ সময় গ্রামের আজিজুর রহমান ও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের ১১ মে ওই গ্রামের আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগে গোয়াইনঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তার মা। আর এ কারণেই পূর্ব শত্র“তার জের ধরে সোহেলকে মিথ্যা চুরির অভিযোগে নির্যাতনের বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই আব্দুল্লাহ ও তার চাচাতো ভাই আজির উদ্দিন দুইজন মিলে মাদকের মামলা সাজিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আজিজুর জানান আমি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলাম কিন্তু তাকে মারধর করিনি। আর পুলিশ তাকে কোন মামলায় চালান দিয়েছে তা আমার জানা নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য খোয়াজ আলী বলেন কেউ যদি চুরি করে তাহলে তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করা উচিত। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে মারধর করা কোন ভাবেই কাম্য নয়। যে বা যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত ফাঁড়ির (ইনচার্জ) ও ছেলেটির বিরুদ্ধে করা মাদক মামলার বাদী উপ-পরিদর্শক সুশংকর পাল জানান ঘটনার দিন স্থানীয় কয়েকজন লোক ইয়াবাসহ ছেলেটিকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি তিনি জানেন না। আর মামলার এজাহারে বয়স বাড়িয়ে লেখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তাৎক্ষণিক ভাবে স্থানীয় লোকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করার পর তারা যা জানিয়েছে তাই লিখেছি।
থানার ওসি (তদন্ত) হিল্লোল রায় জানান কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আবুল হাসনাত খান’কে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে কিশোরকে হাত ও পা বেঁধে পিটানোর অভিযোগে ইসবর আলী নামক এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।