বিভাগ: সাহিত্য

বিশ্বজোড়া দিগন্তে

রমজান আলী রনি

আকাশ যখন অঝর ধারায়
ডেকে-ডেকে অস্থির
ছেলে-মেয়ে ভিজে তখন
পলক ফেলে স্বস্তির।

ছোট-বড়ো জোয়ান-বুড়ো
করছে মেঘে খেলা
বৃষ্টির-ফোঁটায় ঝুমুর-ঝুমুর
চলছে মেঘের ভেলা।

আম কুড়াতে যাচ্ছে সবাই
এদিক-ওদিক ছুটে
বিশ্বজোড়া দিগন্তে আজ
কত কিছুই জুটে?

ফুলের শাখায় ঘাসের ডগায়
প্রজাপতির বাসা
বৃষ্টি-মেঘে খেলছে সবাই
হৈ-হুল্লড়ে পাশা।

 

নদীর ধারে পাখির বাসা

আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ

নদীর ধারে পাখির বাসা
চিল-শালিকে করে খেলা,
নদীর গালায় ফোঁকর করে
পাখি সবে ফুরায় বেলা।

গাঙ শালিক আর হলুদ শালিক
এদিক-ওদিকে যায় উড়ে,
পাখ-ঝাপ্টায় আর কুজন দিয়ে
মাতায় নদী দুকূল জুড়ে।

তালের গাছের ফোঁকর দিয়ে
টিয়ে ছানা উঁকি মারে,
হঠাৎ আসলে মা পাখিটা
মায়ের মুখের খাবার কাড়ে!

 

আলোকিত কাঠের জাহাজ

আতিক আজিজ

রাতের পোষাক থেকে ঝরে জল- রাতে হলো বৃষ্টিপাত খুব ;
সারারাত, তোমার গভীর মুখ ভিজেছিলো বৃষ্টি জলে!…চোর
মধ্যরাতে এসেছিলো- নিয়ে গেছে আলোকিত কাঠের জাহাজ।
শেকলের ঠান্ডা দাগ,সারা গায়ে লেগে আছে!
করতলে ভোর
বকুলের নির্জন গন্ধে ভরে যায়।

রূপের মানুষ একা …..রাখে হাত, শান্ত, বকুল ফুলে।
‘সারারাতে বৃষ্টি হলো’Ñওকে বলিÑভিজেছিলো রাতের পোষাক।
তোমার গম্ভীর মুখ ভেজা, ঝরে পড়ে জল।
জাহাজের বাঁশিÑ
মধ্যরাতে বেজেছিলো, লম্বা, টানাÑ
ভেসে গেছে রতœময় কাঠের জাহাজ ;

রূপ’র মানুষ Ñএকা Ñতুলে নিলো বকুলফুল,
মুখে তার শেকলের আড়াআড়ি দাগ।

চেয়ে থাকি

ড. সুজিত কুমার বিশ্বাস

আমি তুমি পাশাপাশি
এক ছাদ এক ঘর;
একটি তোমার আছে
আর একটি আমার।

কথা বলি পায়ে হাঁটি
তবে মুখ দেখা বন্ধ;
জ্বেলে দিই সাঁঝবাতি
রাতে রজনির গন্ধ।

তুমি গাও, আমি শুনি
সব কথা পাশাপাশি;
সকাল থেকে বিকাল
কত কথা হাসাহাসি।

আটপোরে মন ওই
সুখি এই সংসার;
মাঝখানে মহাকাল
চেয়ে থাকি বারবার।

নেই

সাইফুর রহমান

কে বলে ভুল নেই?
সাদা মনে কাদা নেই?
ঝাল নেই টক নেই-
রাজনীতির রাজ নেই-
নীতিকথার বাজ নেই-
এই নেই সেই নেই-
মুখ আছে কথা নেই-
আইন নাকি অন্ধ!
তার চোখে আলো নেই!
ঘাস পাতা শাখ নেই-
বৃদ্ধের হাঁক নেই-
বলিষ্ঠ কন্ঠে বজ্র আওয়াজ নেই।

সব কিছুতেই আজ জড়িত স্বার্থ-
দমন আর পীড়নে সত্যের বাক নেই।
ইতিহাস কথা বলে শক্তের ভক্তের-
জয়ীদের নাম হয় প্রতিদান রক্তের-
সময়ের পালা শেষে ইতিহাস দোহরায়-
পুনরাবৃত্তিতে হিসেব হয় পুনরায়…
সত্য বা মিথ্যে আবারো চোখ চমকায়
আহত বাঘের মত আক্রোশে লড়ে যায়-
সুখ কারো জয়ে নেই….
প্রতিশোধে বর্বর এখানে আর হৃদ নেই।
মন নেই মান নেই, ঐক্যের গান নেই-
দলে দলে মানুষেরা মতবাদে প্রাণ দেয়।
একসাথে বেঁচে থাকার বিশ্বাসে দম নেই।
নেই নেই কিছু নেই,
তবু মনে নিরাশার কালোমেঘ ধুয়ো নেই।
আশাহত মনে আশা আলো ফের আসবেই।
আলো ফের আসবেই….

 

 

ভালোবাসি

মোঃ শাহারুখ হোসেন

ভালোবাসি তোমায় আমি
পারিনি তা বলতে
পারিনি তো তোমার সাথে
পাশাপাশি চলতে

তুমি জানো না কতটা
বাসি তোমায় ভালো
তুমি তো আমার জীবনে
অন্ধকারের আলো

তোমার ঐ কাজল পরা চোখ
দেখে আমি বিভোর
তোমার ঐ মিষ্টি ঠোঁট দেখে
কাটে না আমার ঘোর

তোমার মুখের মিষ্টি হাসি
অনেক ভালোবাসি
তাইতো তোমার কাছে আমি
বারে বারে আসি

চোখটা তোমার অনেক ছোট
দেখে লাগে ভালো
তোমার রুপের ঝলক যেন
পূর্ণ চাঁদের আলো

আজ তোমাকে বলব আমি
আমার মনের কথা
ভালোবাসি তোমায় আমি
দিওনা যে ব্যথা

নতুন সনে

হাজেরা সুলতানা হাসি

বিদায় নিলো একটি বছর
আসলো নববর্ষ
দূর হোক মন থেকে সব
দুঃখ সংঘর্ষ।

নতুন সনে নতুন করে
এসো শপথ করি
প্রভুর দেওয়া বিধানমতে
জীবনটাকে গড়ি।

নতুন সনে আনন্দ মনে
শুভেচ্ছা তোমাদের জানাই
এসো নতুনত্বে নতুন করে
মনটাকে রাঙাই।

 

নববর্ষ

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

পুরাতন সব ঝেড়ে ফেলি
আসল নব দিন
মুছে ফেলি কষ্ট দু:খ
হোক সব বিলীন

আজ থেকে নতুন করে
চলার পথ হোক
শান্তির পায়রা আবারো
সবার ঘরে আসুক

দিনটা শুরু কর তবে
শুনে আজানের সুর
নামাজ শেষে তেলাওয়াতে
কাটুক প্রতি ভোর

নব জীবনের ন্যায় তোমার
মন হবে প্রস্ফুটিত
আঁধার সব দূর হয়ে
হবে ধরা আলোকিত।

নতুন দিনের নতুন আভায়
পালাক সব কালো
সবার মনটা যাক ভরে
নিয়ে পবিত্র আলো।

পয়লা বোশেখ

আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ

নানান সাজে শহর গ্রামে
পয়লা বোশেখ সাজে,
চারিদিকে উৎসব আমেজ
বাদ্যি বাজনা বাজে।

হাটতলায় আর বটতলাতে
ঘুড়ি বেলুন উড়বে,
মিঠাই মুখে খোকাখুকি
নাগরদোলায় চড়বে!

পহেলা বৈশাখ

রমজান আলী রনি

নতুন জামা নতুন শাড়ি
পরছে জনে-জনে
বৈশাখের এই খুশির দিনে
মিলে সবার-সনে।

মেলায়-মেলায় কতশত
চলছে আয়োজন
বটেরমূলে ছায়ানটে
সবার প্রিয়জন।

বাংলা গানে নগর-বন্দর
পেলো নতুন প্রাণ
বৈশাখের এই প্রথম দিনে
ছড়ায় ফুলের ঘ্রাণ।