বিভাগ: সাহিত্য

আযান হলে

মো: আরিফ হোসেন

আযান হলে আম্মু বলে
নামাজ পড়তে যাও
রোজ-হাশরে আজাব থেকে
মুক্তি যদি চাও।

উচ্চ সুরে বলবে সদা
মহান আল্লাহ্ এক
লিখবে তবে ফেরেশতারা
আমলনামায় নেক।

প্রাণটা খুলে করবে দোয়া
তুলে দু’টি হাত,
সবাই যেন দ্বীনের পথে
থাকে দিবারাত।

 

খোকার পণ

মিসবাহ উদ্দিন জামিল

একটি খোকা পণ করেছে
করবে বিশ্ব জয়,
তার নামেতেই বাংলাদেশটা
হবে পরিচয়।

ক্রিকেট খেলায় মাঠ কাঁপাবে
ইচ্ছা মতো খেলে,
ষোল কোটি জনতারই
ভালোবাসা পেলে।

ক্রিকেট খেলে করবে উঁচু
বাংলাদেশের মাথা,
নামটাকে তার রাখবে লিখে
ইতিহাসের পাতা।

সেই খোকাটি বাংলাদেশে
বাঁচুক চিরকাল,
ক্রিকেট বিশ্বে ধরুক যে সে
বাংলাদেশের হাল।

 

আল-হা’ক্ক আল-মাজীদ তুমি

তা।রে।ক। লি।ম।ন

আল-হা’ক্ক আল- মাজীদ তুমি
তুমি মুশকিলে আসান
আল-ক্বাহার আল- গফ্ফার তুমি
তুমি রহীম ও রাহমান,
আল-হা’ক্ক আল-মাজীদ তুমি
তুমি মুশকিলে আসান (২)

অপরূপ তোমার সৃষ্টি
চাঁদ তারা, সূর্য বৃষ্টি
মাটি দিয়ে বানাইছো মানব
তাতে দিলায় প্রাণ,
আল-হা’ক্ক আল-মাজীদ তুমি
তুমি মুশকিলে আসান (২)

চাইলে তুমি সবই পারো
তুমি বাঁচাও তুমি মারো
তুমি অতুল, নাই তোমার তুল
গায় সকলে তোমার গান,
আল-হা’ক্ক আল-মাজীদ তুমি
তুমি মুশকিলে আসান (২)

এই তারেক আজ বেপথগামী
দেখাও তাঁরে সুপথ তুমি
যেই পথে চলিলে দয়াল
এপার ওপার পাই সম্মান,
আল-হা’ক্ক আল-মাজীদ তুমি
তুমি মুশকিলে আসান (২)

অভিলাষী প্রেম

ছাদিকুর রহমান

ভালোবাসা মাংস পিন্ডে পড়ে গেছে আটকা
সাদা বর্ণ সবাই চায়, চায়রে নতুন টাটকা
কালো যারা মুটো যারা নাইকো তাদের মন
সাদা বর্ণের ভালোবাসা হয়েছে ফ্যাশন
মাংস পিন্ডের লোভে সবাই করছে ভালোবাসা
মাংস পিন্ডের ঘ্রাণে আছে কিযে দারুণ নেশা।

শিশু বড় হবে

কবির কাঞ্চন

আজকের শিশু আগামীতে
বড় হবে যেই
মা মাটি দেশ ভালোবেসে
মানুষ হবে সেই।

বাড়বে শিশু হেসেখেলে
মুক্ত রবে যেই
পাখপাখালী ভালোবেসে
মানুষ হবে সেই।

শিখবে শিশু মনানন্দে
বড় হবে যেই
জ্ঞানের আলোর মশাল জ্বেলে
মানুষ হবে সেই।

দেখবে শিশু মধুর স্বপন
মহা আনন্দেই
আকাশসম স্বপ্ন দেখে
মানুষ হবে সেই।

স্কুল হবে নিরাপদ এক
শিক্ষা গ্রহণেই
গড়বে শিশু ভবিষ্যৎকাল
ভালোবাসাতেই।

পুড়ে যাচ্ছে নদীর শরীর

শাহরুবা চৌধুরী

স্পর্শ করি রুদ্ধ বাতায়নে
অকস্মাৎ খুলে যদি দ্বার
ত্রাণহীন বন্দি এ জীবনে
মুক্তিপণ- তুমিই আমার

চৈত্রদিন। পুড়ে যাচ্ছে নদীর শরীর
বৃক্ষদের চঞ্চল নিঃশ্বাস
অচিরেই নামবে গোধূলি
ডাকবে না খোঁপার পলাশ!

ভেসে যায় ক্লান্ত মেঘমালা
শেষ হয় অপেক্ষার দিন
যাকে তুমি ছুঁড়েছিলে তির
আমি সেই আহত হরিণ।

সেই করচ বৃক্ষটারে

নেছার আহমদ নেছার

আমার ছোট বেলার গাছুনি খেলার
করচ বৃক্ষটারে খুববেশী মনে পড়ে;
বিরাট বিস্তৃত করচার হাওরের পারে
সারাটি বিকাল গাছ বেয়ে খেলা করার সাথী,
প্রকান্ড বৃক্ষটার প্রায় চতুর দিকের ডানা মেলে ছিল।
দুরন্ত বালক বালিকারা একদিকে উঠে নিমিষেই
চতুর দিকেই সরু ডালে ঝুলে নেমে আসতো মাটিতে।
কি যে হৈ-চৈ। নিরানন্দেরও আনন্দ হতো;
বহুদিন পর হঠাৎ এক রাতে প্রচন্ড ঝড় বয়ে গেল
দুমড়ে মুছড়ে ফেলে দিন করচ বৃক্ষটারে,
সকালে উঠে সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতির বিষাদের
মাঝেও আমার কান্না আসেনি,
বৃক্ষটির পাশে গিয়ে ঝড়ের কর্তাকে অনেক
অভিশাপ দিলাম, মাটি থুবড়ে পড়া
প্রকান্ড করচ বৃক্ষটার বড় একটি ডালের আড়ালে
দাঁড়িয়ে কেঁদে ছিলাম অনেকটা সময়।
এখনও কয়েক দশক পরেও সেই স্থানে আসলেই
বুকের মাঝে ঝড় বয়ে যায়-আমার শৈশর
কৈশোরের স্মৃতিময় অজস্র অনুভব আমায়
তাড়িয়ে বেড়ায়।
আজও মনে পড়ে কেবলি মনে পড়ে
সাথীদের কত স্মৃতি, দুষ্টুমী, পিতামহের ভয়,
চাকরদের ঘুষ দেয়া- সে দিনের সেই ক্ষণ
আর আসবে না ফিরে, তবুও খুব বেশী মনে পড়ে
আমার গাছুনি খেলার শৈশব ও কৈশোরে
স্মৃতিময় প্রকান্ড সেই করচ বৃক্ষটারের।

জীবন মানে

আব্দুল কাদির জীবন

জীবন মানে দুঃখ-সুখ আর কান্না-হাসি
জীবন মানে গল্প-নাটক পাশাপাশি
জীবন মানে চন্দ্র-তারা সূর্য-রবি
জীবন মানে রংতুলিতে আঁকা ছবি।

জীবন মানে দুঃখ-সুখের একটি খেলা
জীবন মানে রঙ্গ-মঞ্চে একটি মেলা
জীবন মানে প্রকৃতির এক নীরবতা
জীবন মানে এক নদী জল বিষন্নতা।

জীবন মানে প্রেম-পীরিতি, আড্ডাবাজি
জীবন মানে হরেক রূপে আমরা সাজি
জীবন মানে নদীর জোয়ার এবং ভাটা
জীবন মানে প্রেম-বিরহের তিক্ত কাঁটা।

জীবন মানে ছন্দে গড়া ছন্দিত মন
জীবন মানে দুনিয়াজোড়ে নন্দিত মন।

শরৎ মানে

শওকত আলী

শরৎ মানে নীল গগনে
সাদা মেঘের ভেলা,
শরৎ মানে নদীর তটে
কাশ কন্যারর খেলা।

শরৎ মানে মাটে মাটে
আমন ধানের চাষ,
শরৎ মানে পাখী উড়া
শঙ্খচিল আর হাস,

শরৎ মানে বিলে-ঝিলে
নানা রঙ্গের ফুল,
শরৎ মানে কাশে ভরা
নদীর উভয় কূল।

 

পাপ-পুণ্য

রমজান আলী রনি

মনের যত আসল রূপ
খুঁজে দেখনা তারে
কিসের-ই পাপ কিসের-ই পুণ্য
গোলক ধাঁধার সাড়ে।

তুলসী পাতার প্রলেপ দিয়ে
কত কিছুই হয়
পাপের ভয়ে কেউবা আবার
ছিঁড়তে পায় যে ভয়!

পাপ-পুণ্যেরও হিসাব কষে
থাকনা দূরে সরে
কাঁদিস না মন বাহির হলে
একলা একা ঘরে।

দমের হাওয়ার বাতাস যেদিন
তোমায় যাবে ছাড়ি
পাপ-পুণ্যেরও হিসাব সেদিন
করবে ভীষণ আড়ি।