বিভাগ: সাহিত্য

লেখক আড্ডার বন্ধু হলেন যারা

বন্ধু নং-১৩০১
নাম ঃ তাবাস্সুম জান্নাত জুঁহি
পিতার নাম : মো: আব্দুল্লাহ
ঠিকানা ঃ ভূঁইয়াবাড়ী, বালুটিকর আ/এ, রোড নং-০১, শাহ ওয়ালী উল্লাহ রোড, পো: খাদিমনগর, থানা- শাহপরান, সিলেট।

 

বাংলা ভাষা

রমজান আলী রনি

বাংলা ভাষায় মিটে আশা
বাংলায় দেখি স্বপন
মায়ের কোলের শিশুর ভাষা
বাংলায় অংকুর বপন।

রাখাল ছেলে বাংলায় বলে
গানের কলির ছন্দ
বাংলা আমার প্রাণের চাওয়া
বাংলায় আমি অন্ধ।

হাজার যুগের শ্রেষ্ঠ জাতি
বাংলায় যুদ্ধ করি
শত জাতি পিছন ফেলে
ভাষার ইতিহাস গড়ি।

মায়ের মুখের ভাষার জন্য
নিবেদিত প্রাণ
পতাকার ঐ রক্তিম শাখে
ছড়ায় বীরের ঘ্রাণ।

কবিতার ইন্দ্রজাল

শামীম আহমেদ

রাত্রি ঘুমিয়ে থাকে কোনো নিসঙ্গ উপত্যকায়,
কোনো এক সন্ধ্যায়, নেমে ছিলো ঘুম কবির চোখেও ;
চিনিবটের ডালে, বাতাসের নৃত্যের তালে তালে
শব্দের গতর

ছুঁয়ে উঠে আসে কবিতার ইন্দ্রজাল,
কবি ভুলে যায় জাগতিক আকাক্সক্ষা নিমিষে,
মদে মত্ত নয়, ধ্যানে মগ্ন নয়, তবুও করি
শব্দের প্রতিমা গড়ে অক্ষরে অক্ষরে
জেগে উঠে জীবন্ত কবিতায় প্রেয়সীর দুই ঠোঁট
তারপর চোখ, খুব চোনামুখ, মনে হয় জন্ম
জন্মান্তরের বন্ধন, কাঁপে তনুমন, পরম সোহাগে
নিবিড় অনুরাগে মনের মতো গড়া প্রিয়ার মুখ,
সৃষ্টিতেই কবির সুখ।
তারপর
কপালের লাল টিপে চেয়ে রয় ভোরের অপেক্ষায়,
হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায়;
নাগরিক কোলাহলে পৃথিবীর পথে

কালের আগুনে পুড়ে ফাগুন

এ কে এম আব্দুল্লাহ

ফাগুন দেখব প্রভাতের বুকে রাখি নাঙা পা
আর পিতার শক্ত হাড্ডিতে ভর করে দেখি পলাশের হাসি।
মায়ের আঁচলে বাঁধা ছিল যে লালসূর্য।
এখন ইট-সুরকির দেওয়াল ভেদ করে ভিতরে ঝরে তার টুকরো টুকরো বিম্ব।
বাবার রক্তেভুনা শব্দপাতিলে কারা যেন ঢেলে দেয় অসংস্কৃতির ভাড়ার,
আর আমাদের রান্নাঘরের চিমনিতে উড়ে বিজাতি ধোঁয়া।
শয়নকক্ষে হৃদয় ভাঙে নিদানি সংগীত।

আমরা বধির হই। আমাদের চোখে সমস্যা হয়।
অনেক কিছুই দেখতে পারি না।
চোখ থেকে বের হয়ে আসেনা পিতা রক্ত।
মায়ের আঁচল পোড়ায় রোমিও আগুন।
আর আমাদের ঠোঁটে ফোটে ভিনদেশি হাসি।
পূর্বপুরুষের বেরিয়ে আসে তার ব্যাকুল আত্মা।

আমরা সেই আত্মা এখন মুখবইয়ে জড়িয়ে ধরি নিজস্বীর ভিতর।

সুখের কপোত ডানা মেলে

শফিকুর রহমান চৌধুরী

ডান হাতে মেহেদী আর বাম হাতে নিশান থাক
বুক চিতিয়ে জানাই দাবী হিংসার শাসন নিপাত যাক
মিছিল বেরুক সদর জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকি শক্ত পায়
স্বার্থপররা একলা থাকুক থমকে একা বারান্দায়।

আজকে নামুক খুশীর জোয়ার-কান্না হবে আরেকদিন
মগজ জুড়ে খেলা করুক সুখের কপোত বিরামহীন
হিংসার দেয়াল চুর্ণ করে জায়গা পাবে বিচার হক
ধংস হবে ঠিকই নিন্দুক, হিসেবিরা করলেই নক

বুকের ঘরে বান ডেকেছে কন্ঠ মোদের হচ্ছে লীন
আসছে শামীম হৃদয় মাঝে হাসছে পাখি খুশি মীন।

দুঃখজল

এস এম নূর

আমি কেঁদেছিলাম ছোটবেলায়।
সময়টা ছিল আমার আনন্দ বেলা।
বাবার কাছে ” মায়ের কাছে কত আবদার করেছিলাম ৷
হয়ত সে আবদারের জন্য আমি কেঁদেছিলাম ৷
আমি কেঁদেছিলাম যখন বিরহ বারবার
আমার কাছে চলে এসেছিল৷
আমি কেঁদেছিলাম যখন আমার প্রিয়জনরা
আমায় ছেড়ে চিরতরে চলে গেছে ৷
আমি এখনও কাঁদি,
আমার এখনও দুঃখভরা লোনা জল সরে ,
শিক্ষিত বেকারদের হতাশা দেখে
আমি এখনও কাঁদি
রাস্তায় পাশে পড়ে থাকা পথ শিশুদের দৃশ্য দেখে ”
আমি এখনও কাঁদি
ঐ দুখনী মায়ের জন্য
সন্তান লালন পালন করে ও তারা আজ বৃদ্ধাশ্রমে ৷
আমি কাঁদি এখন ও
আমি এখন ও কাঁদি
অন্যায়ের সীমা বারবার লঙ্ঘন হয় বলে ৷
আমি এখনও কাঁদি
অত্যাচারি বারবার অত্যাচার করে বলে ৷
আমি এখনও কাঁদি
ঐ ধর্ষিতা নারীর পরিণতি দেখে
আমি কাঁদি ধর্ষিত নারীর
প্রিয়জনদের ব্যথায় ব্যথিত হয়ে ৷
আর কত কেঁদে যাবো
আর কত দেখে যাবো
দুঃখজলে ভরা ঐ ভরাডুবি সাগরের মত ৷

ফাগুনের প্রহরে

হাজেরা সুলতানা হাসি

ফাগুনের মধুময় এই বেলাতে
প্রকৃতি সাজে স্নিগ্ধ সাজেতে
কোকিলের কুহু কুহু তানে,
প্রাণ ভরে নানা ফুলের ঘ্রাণে!

হলুদ বরণ সাঁঝের ক্ষণে,
উদাস আমি আপন মনে
দেখি নিভে রাঙা রবি,
মন হয়ে যায় যে কবি!

ফাগুন মানে নয় আগুন রাঙা
স্নিগ্ধ প্রহর হিয়া করে চাঙা
কবি পায় খুঁজে কবিতার ছন্দ,
ফাগুন দিন লাগে না তো মন্দ!

 

পবিত্র প্রেমের বন্ধন

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা
(উৎসর্গ : সাদিয়া মাহমুদকে)

রেখেছ যখন তুমি কারো হাতে হাত
তাকে নিয়েই কাটাতে হবে দিবস রাত
তার মাঝেই উজ্জ্বল হবে প্রতিটি প্রভাত।

তাকে নিয়ে সুখ স্বপ্ন দেখতে হবে
তার মাঝেই সুখ অফুরান পাবে
তার মাঝেই কষ্ট দু:খ ভুলে যাবে।

তাকে নিয়ে ঘিরে থাকা সব প্রত্যাশা
তাকে নিয়ে থাকবে সব কিছু আশা
তার মাঝে থাকুক অফুরন্ত ভালোবাসা।

একসাথে থাকো সকাল বিকাল সাঁঝে
শান্তি সুখ ছড়াবে তোমাদের মাঝে
দেখবে তখন সুখের সুরটা অহর্নিশ বাজে।

একসাথে দেখা স্বপ্নের মাঝে গোধূলির
সুন্দর ভাবে কাটাতে হবে আগামীর
কাটুক সুখের মাঝেই তোমাদের নীড়।

প্রতিটা দিন হোক সুখের মহেন্দ্রক্ষণ
তোমাদের এই পবিত্র প্রেমের বন্ধন
সুখে দু:খে অটল থাকুক আজীবন।

সুখ

খালেদ আহমদ সুমন

তোমার সাথে আমার মিলন হবে অমর্ত্যলোকে
এখানে আর তা সম্ভব নয়!
কারণ, তুমি সুখের আশায় হাটছো সাম্রাজ্যের খোঁজে
আর আমি সাম্যবোধে খোঁজে পেয়েছি আমার সুখ।

দৈত কন্ঠে

নেছার আহমদ নেছার

আমার স্বপ্ন রাঙ্গা প্রভাত এলে
সরবে শুনতে পাই রকমারী বিহঙ্গ কলরব,
উদাসী গায়ক সুর সাধে-নিবিড় আবেশে
তরঙ্গায়ীত অনল মৃদু মন্দ বয়ে যায়
কাঁপিয়ে তুলে বিহরী মন,
চারিপাশ শান্ত-নিথর,
দরজা খোলে আনমনে মৃদু পায়
পৌঁছে যায় সন্নিকটে
সুরের মায়ায়-নিবিড় নাড়ীর টানে
অজ¯্র স্বপ্নে গাইতে ইচ্ছে করে
যে গান গেয়েছিলাম
তোমায় নিয়ে কোন জলসায়-
আর তুমি যে এসেছিলে
স্বপ্ন সাথী হয়ে
সুর মেলাতে দৈত্যকন্ঠে।