বিভাগ: সাহিত্য

জয় মুজিবের জয়

কবির কাঞ্চন

বাংলা মায়ের দামাল ছেলের
‘মুজিব’ প্রিয় নেতা
মায়ের ডাকে লাখে লাখে
জাগে স্বাধীনচেতা।

পাকিস্তানি হানাদারের
রক্তচক্ষু দাগে
প্রিয়নেতা ঝাঁপিয়ে পড়েন
কঠিন আত্মত্যাগে।

স্বপ্ন দেখেন সোনার বাংলা
স্বপ্ন দেখেন জাতি
মুজিবরে বাঙালি পায়
স্বাধীনতার বাতি।

নয় মাসেরই যুদ্ধ লড়ে
বাংলা স্বাধীন হয়
‘মুজিব’ হলেন জাতির পিতা
জয় মুজিবের জয়।

 

যেখানেই শেষ সেখানেই শুরু

নেছার আহমদ নেছার

মহাশূন্যের সীমাহীন রহস্য
গ্রহ নক্ষত্র চন্দ্র-সূর্য্য তারকারাশি ভুবন মোহন অস্তিত্ব
ভাবতে ভাবতে আপন সত্ত্বার শত অনুভবে ঝড় বয়ে যায়,
সৃজনী শক্তির অভাবনীয় কৌশল
কি জানি স্রষ্টার অস্তিত্ব ভেবে ভেবে
কোন সে সীমাহীন পথে মন চলে যায়
সৌরজগতের অসীম অনুভব
বস্তু জগতের কলাকৌশল মেধা আর চর্চার
উত্তরণ, নতুন নতুন আবিষ্কার আর উদ্ভাবনা
প্রগতির পথে সুখ সমৃদ্ধি প্রতিযোগিতার
পথে পাগল পারা পৃথিবীর মানুষ,
এভাবে চলবে মানুষের জীবন জীবনের জন্যে।

তবুও চিরকাল জড়িয়ে থাকবে সুখ-দুঃখ,
পাওয়া না-পাওয়ার অনুভব
আকাশ আর মাটির ভাবনা।
সাগর মহাসাগর, হ্রদ, পর্বত, বন বনানী
মহাবিস্তীর্ণ অদেখা ভুবন, অজস্র জীব-জন্তুর
বৈচিত্র জীবন জীবনের জন্যে।
অজস্র অনুভব অনুভবের জন্যে
সীমাহীন রহস্য রহস্যের জন্যে
তবুও মানুষ শৃংখলিত স্রষ্টার ইংগিতে
তাই যেখানেই শেষ সেখানেই শুরু।

 

 

 

পতাকা-মানচিত্র

আবু আফজাল মোহা. সালেহ

আমার আবেগ মিশে আছে
টিয়ে পাতার রঙে
আমার চেতনা তোমার প্রেরণা
লাল রঙের ঢঙে।

আমাদের জয় অনুপ্রেরণা
লাল-সবুজে আঁকা
গ্রাম-গ্রামান্তর শহরজুড়ে
ওড়ে প্রাণের পতাকা।

আবেগমাখা এই পতাকা
থাকুক উচ্চ সবসময়
মানচিত্র ছিড়ুক শকুনেরা
হবে না, আমরা ঐক্যময়।

মানচিত্র কিংবা পতাকা
আমাদের আবেগ, মুক্ত
আমাদের রক্ত-লাল রক্ত
ধমনী-শিরায় প্রবাহিত!

 

জাতির পিতা

মাযহারুল ইসলাম অনিক

একটি পাখি হঠাৎ এসে বলছে নানান কথা,
দেশের থেকে দূর হয়েছে সকল দুঃখ ব্যথা।

সেই পাখিটি গুনগুনিয়ে গাইছে কতো গান,
গুলি থেকে বাঁচছে নাকি হাজার হাজার প্রাণ।

মুক্ত মনে এখন নাকি চলতে সবাই পারে,
স্বাধীনতার ঘোষক যিনি সালাম জানাই তারে।

সেই পাখিটি হঠাৎ করে ফেলছে দেখি জল,
কান্না কাটি বন্ধ করে কি হয়েছে বল?
ভোর বেলাতে ঘোষক বাড়ি আসছে যেন কারা,
গুলির ঘায়ে শরীরগুলো করছে জারাজারা।

জীবন নিলো পিতা নিলো নিলো তারা সব,
শরীর ঘেমে রক্তগুলো করছে যে ধবধব।

তাইতো আমি অমন কেঁদে আবার এলাম ফিরে,
মুখের কথা চুপটি করে আছিস কেন কিরে?
আর্তনাদে বুকটি আমার শুধু ফেটে যায়,
অমন পিতা আর কি বলো কভু ফিরে পায়?
জোড় হাতে করছি দোয়া শত্রু পাবে সাজা,
গদির পরে বসে ওরা হোক না যতোই রাজা।

 

 

মায়ের শোক

রমজান আলী রনি

বর্ষাকালে ডোবানালা
পানিতে যায় ভরে
এমন দিনে খোকা আমার
ফিরে না যে ঘরে!

দাদির সাথে ঘুরতে গিয়ে
শ্রাবণ মাসের শেষে
খোকা আমার হারিয়ে যায়
না ফেরার ঐ দেশে!

সাত রাজার ধন চলে গেলো
আমায় ছেড়ে দূরে
মা,মা,বলে ডাকবে না কেউ
মিষ্টি মধুর সুরে।

ছায়া হয়ে বুকের মানিক
কোথায় চলে গেলো
মায়ের শোকে গাছের পাতা
সেও ঝরে এলো।

 

বর্ষার রূপ

রেজাউল রেজা

কখনও আসে সেজে গুজে
কখনও আসে আচমকা!
কখনও আসে একলা একা
কখনও নিয়ে ঝড় দমকা!

মাঝে মাঝে দিন-দুপুরে
সূর্য্যটা দেয় ডুব,
বর্ষাকালে তাল বেতালে
বৃষ্টি আসে খুব।

ঝির ঝির কিংবা মুষল ধারায়
বৃষ্টি দেখায় নাচ,
নাচের তালে শহর-পাড়ায়
বন্ধ থাকে কাজ।

নদী-নালা পুকুর ডোবা
পানিতে যায় ভরে,
চারিদিকে কোলা ব্যাঙে
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করে।

 

শুচি মাধবী

সৌমেন দেবনাথ

মানুষ বড় বিচিত্র ভাই
চলো মানুষ চিনে,
ক্ষতি তোমায় করতে পারে
সন্ধ্যা, রাত বা দিনে।

মধুর আলাপ মিষ্টি হাসি
বুঝতে করো না ভুল,
অতল তলে যাবে পড়ে
মানুষের মনে ধূল ঝুল।

ফাঁক খোঁজে ফাঁপরে ফেলতে
সামনে সতী সাধ্বী,
আলতা দিদি পুলতা দিদি
সবাই শুচি মাধবী ।

মুহূর্তের মাঝে রং বদলায়
পর করবে কাল গেলে,
মানুষ চিনতে ভুল করলে ভাই
খাবোল খাবে গালে।

হৃদয়ের ঋণ

হেলাল হাফিজ

আমার জীবন ভালোবাসাহীন গেলে
কলঙ্ক হবে কলঙ্ক হবে তোর,
খুব সামান্য হৃদয়ের ঋণ পেলে
বেদনাকে নিয়ে সচ্ছলতার ঘর

বাঁধবো নিমেষে। শর্তবিহীন হাত
গচ্ছিত রেখে লাজুক দু’হাতে আমি
কাটাবো উজাড় যুগলবন্দী হাত
অযুত স্বপ্নে। শুনেছি জীবন দামী,

একবার আসে, তাকে ভালোবেসে যদি
অমার্জনীয় অপরাধ হয় হোক,
ইতিহাস দেবে অমরতা নিরবধি
আয় মেয়ে গড়ি চারু আনন্দলোক।

দেখবো দেখাবো পরস্পরকে খুলে
যতো সুখ আর দুঃখের সব দাগ,
আয় না পাষাণী একবার পথ ভুলে
পরীক্ষা হোক কার কতো অনুরাগ।

গাঁয়ের পাশে অজয় নদী

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

গাঁয়ের পাশে অজয় নদী বইছে চিরকাল,
শাওন মাসে বান ডেকেছে উথাল পাথাল।
ঝমা ঝম বৃষ্টি পড়ে মাঝিরা নাইকো ঘাটে,
পথেঘাটে জল জমেছে জল জমেছে মাঠে।

আকাশ হতে বৃষ্টি নামে অঝোরধারায় ঝরে,
কালো করে মেঘ করেছে মেঘ গর্জন করে।
আকাশপারে বিজলি হাসে নদী ওঠে ফুলে,
মড়মড় করে গাছটি ভেঙে পড়ে নদীর কূলে।

শাওন মাসের বাদলা দিনে রাঙা মাটির পথে,
জল কাদায় পথ চলা দায় হাঁটছে কোন মতে।
বাঁশের ছাতা মাথায় নিয়ে চলছে কৃষক ঘরে,
রাখাল ছেলে ঘরে ফেরে, গাঁয়ের পথটি ধরে।

গাঁয়ের পাশে অজয় নদী কানায় কানায় বান,
শাওন মাসের বাদল ধারায় মেতে ওঠে প্রাণ।

 

অভিমান

অনিক শিকদার

চতুঃপার্শ্ব ধ্যানলব্ধ,
সমীরণে বিদ্রোহিণী গন্ধ,
খদ্যোতিকার পদে শিকলের টান,
ততোধিক তব অভিমান।।

মেঘ-মাঝে গতি শব্দ,
ভূতল ঢিবি তরে আবদ্ধ,
তারি ‘পরে অন্বিত মাধ্যাকর্ষণ,
ততোধিক তব অভিমান।।