বিভাগ: সাহিত্য

অশান্ত পলাশ

ড. সুজিত কুমার বিশ্বাস

হতে চাই পলাশের ঝাঁক
বসন্তমাসের এইবেলা;
হতে চাই কোকিলের ডাক
সুরেতে জাগাব ভোরবেলা।

মনেতে থাকুক ভালোবাসা
তাই নিয়ে যাব চিরকাল;
অনন্ত দিনে কত প্রত্যাশা
বেঁচে থাকা যেন মহাকাল।

মোর ঘর সহজ-সরল
শ্রদ্ধায় ঢাকা আছে সে মাটি;
চিত্ত মাঝে কত কোলাহল
আমিতো ভীষণ পরিপাটি।

বেঁচে থাকা আজকে স্বপন
চারিদিকে নেই যে বসন্ত;
মনে হয় কে কত আপন
আজকে পলাশও অশান্ত!

 

দু দিন

মোঃ ফাহাদ আলী

নিত্য দিন স্মরণ করিও জন্ম মৃত্যু বাদে
ওই দুদিন নয়ন মাঝে মেঘের ধারা বাঁধে
কি করে হায় কেটে গেল জন্মের একটি বছর
খ্যান্ত দিলাম পথ চলা, বিদায় বন্ধুর আসর।

তোমরা সকল নিত্য হেসে, কাঁদবে যে দুদিন
আমি নিত্য কাঁদি আকুল হয়ে কাটায় সে ঋণ
পুণ্য যদি দেবে বন্ধু নীরবে নিত্য কর প্রার্থনা
ওই দুদিন বিশ্রাম নিও মনে পাব সান্ত্বনা।

খবর নিও খবর দিও হঠাৎ ঘুমে গেলে
স্বর্গ পাড়ে রইব যখন আসব তারা জ্বেলে
নিত্য কথা কহিও বন্ধু ওই দুদিন বাদে
বর্ণীল ফূর্তি ছড়িয়ে দিও খুঁজে নেব চাঁদে।

নিত্য খেলা করিও বন্ধু শিমুল তুলা উড়ে
ওই দুদিন উড়ে উড়ে আসবে হাওয়ার ঝড়ে
নিত্য বন্ধু জোনাক দেখ ঘাসের মাদুর পেতে
ওই দুদিন থাকব না হয় পূর্ণিমায় মেতে।

প্রথম দেখায় হেসেছিলে শেষ বিদায়ে হাস
ওই দুদিন পারলে বন্ধু চোখের জলে দোষ
আঁধার মাঝে প্রদীপ জ্বালাও বসে বিরান ঘরে
ওই দুদিন বাদে কি বন্ধু মনে আমায় পড়ে?

 

বেলা শেষে

আল হাবিব

আর কতদিন মুখ লুকিয়ে সত্য কে মিথ্যে বলা
আর কতদিন নগ্ন হয়ে তাল মেলানোর পথ চলা?
কোন খবরে, কোন বইয়ে আসল সত্য খুঁজে বেড়াস?
ওসব খবর, সব বইয়ের পেছনে যে তালা মারা!

আর কত খুন, আর কত লাশ দেখবি তোরা চেতনার দল?
আর কত ভয়, আর কত ক্ষয় হলে তোরা জাগবি বল?
কবরের ভেতর যারা শুয়ে আছে, তাদের কাছে একটু দাঁড়া
ওরাও একদিন মানুষ ছিল , নাকি ছিলনা?
রূপ ছিলনা, তাজা রক্ত ছিলনা, যৌবন ছিলনা বাঁধন হারা?

সেসব হায়! মিশেছে কোথায়? মলিন মাটির তলে,
পারলে সবাই যুদ্ধ করো ডেমোক্রেসির বলে!
মানুষের শাসন করতে পারেনি মৃত্যুকে খুন যখন,
ওপথ হারার বুঝতে বাকী আর কি থাকে তখন?
গণতন্ত্র যে তোমার রবের আদেশ-নিষেধ মানেনা জানো?
কেমন করে সেপথে তুমি মুসলিম হয়ে রক্ত ঢালো?
কেমন করে ভোট দাও তুমি? কেমন করে অস্ত্র ধরো?
কেমন করে কল্যান আনো, কেমন করে জ্বলো আলো?
নাকি মুসলিম নও তুমি?

সেই পথ হেঁটে, সেই পথ ঘেটে ক্লান্ত হয়ে শেষে,
সময় হারিয়ে, পাপের বোঝাতে একদিন যাবে ফেঁসে।
রবের আদেশে মৃত্যু যখন দ^াড়াবে তোমার দ্বারে,
কার কাছে তুমি মিনতি করিবে, ডাকবে তুমি কারে?

রবের বাণী না মেনে তুমি বানিয়ে নিয়েছ নিজ বিধান,
রবের কাছে কিভাবে চাবে সকল ভুলের সমাধান?
হেরে গেলে জীবন শেষে, পরীক্ষার সময় শেষ রে,
তবু এ হারা শেষ হলে হয় ! কেবল হারার শুরু যে।

ঘোরের মধ্যে সময় হারায়, পথে ফেরার সময় কম
বিষম খাবি, হতাশ হবি হঠাৎ যখন ফুরাবে দম।

আয় ফিরে আয় রবের পথে, রবের কাছে নত হ’,
দুনিয়া শেষে জয়ীর বেশে অনন্তকাল সুখে র’।

 

ভাষার কলি

রমজান আলী রনি

রক্তেমেশা মাতৃভাষা
জুরায় মনের স্বাদ
ভাষারকলি মুখে তুলি
মুক্ত প্রাণের বাঁধ।

রক্তে লেখা স্বপ্নে দেখা
আমার সোনার দেশ
ভাষা দুলে মায়ের কোলে
মিষ্টভাষী রেশ।

শহীদ হলো যুদ্ধ বলে
মাতৃভাষার জন্য
ভাষার তরে মনের ঘরে
সোনার বাংলা ধন্য।

ব্যথা ভুলে মায়ের চুলে
হাসে রাঙা তাজ
সবার মনে সবার পণে
মাতৃভাষার সাজ!

সুখ অফুরান

হাজেরা সুলতানা হাসি

আম্মু-আব্বু, আপু, ভাইয়া
তোমাদের বড্ড ভালোবাসি
তোমাদের ঘিরেই রয়েছে
আনন্দ, উচ্ছ্বলতা হাসি।

এই খুনসুটি, এই অভিমান
আবার মিলে যাওয়া
এরই মাঝে সুখ অফুরান
যায় যে পাওয়া।

হাসি, আনন্দ, খুনসুটি
সব তোমাদের ঘিরে
এসব ই এনে দেয় সুখ
আমাদের এই নীড়ে।

আমাদের এই ভালোবাসা
অটুট থাকুক সদাই
প্রভুর নিকট রইলো আমার
এই কামনাটা-ই।

 

রাত- দিন

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

রাত যখন নিকষ কালো
সব নিশ্চুপ হয়
থেমে যায় কোলাহল তাই
লাগে মনে ভয়!

একটু পরে আঁধার কালো
পালিয়ে যাবে দূরে
প্রভাত ধেয়ে আসবে যে
আজানের মধুর সুরে।

পাখির কিচির মিচির ডাক
করে কুহু কুহু
গাছের ডালে বসে তারা
জপে আল্লাহ আল্লাহু।

এমন করে দিন শেষে
আসবে রাত ফিরে
চলে যাবো মৃত্যুর দোয়ারে
এমনি ধীরে ধীরে।

শিমুল ফুল

রমজান আলী রনি

শিমুল গাছে লাল বেনারসি
হালকা হাওয়ায় দুলে
কোকিল পাখি কুহুসুরে
প্রেমের সুর যে তুলে।

বসন্তের লাল চাঁদোয়া আজ
লাজুক লতার শাখায়
রঙ লেগেছে দিগন্ত-নীড়ে
ফুলের পাখায়-পাখায়।

সকল কবি মগ্ন ধ্যানে
‘তপ্ত প্রেমের মায়ায়
শিমুল ফুলের ভ্রমরগুলো
চলছে অলি ছায়ায়।

মন যেনো আজ উড়–উড়–
শিমুল ফুলের লালে
চলতে গিয়ে থমকে দাঁড়াই
তালবেতালে-তালে।

 

এই শীতে

হাজেরা সুলতানা হাসি

আমরা যখন আয়েশ করে
খাচ্ছি বসে খাবার,
পথ শিশুটা ডাস্টবিনেতে
খুঁজে তখন আহার!

এই শীতে খুব আরামে
জড়াই গায়ে চাদর,
পথশিশু কাঁপছে শীতে
পথ মাঝে থরথর।

ওদের পানে একটু যদি
বাড়াও ওই হাত,
হাসবে ওরা খুশিতে খুব
কষ্ট যাবে নিপাত।

খুব বেশি না একটু তাই
এসো কিছু করি,
ভালোবেসে গরিব দু:খির
হাতটা এসো ধরি।

 

আছো হৃদ মাঝে

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
নদীর ঐ কলতানে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
পাখির মুগ্ধ গানে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
প্রভাতের ঐ স্নিগ্ধতায়
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
গোধুলীর রক্তিম আভায়।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
সাগরের ঢেউয়ের মাঝে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
আমার প্রতিটি কাজে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
মধুর ঐ আজানে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
ভালোবাসার টানে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
ঝুমঝুম বৃষ্টির মাঝে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
সকাল বিকাল সাঁঝে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
আকাশের ঐ নীলে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
ঐ পদ্মপাতার ঝিলে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
রাতের ঐ আঁধারে
তোমাকে খুঁজে পাই আমি
সবকিছুতেই বারেবারে।

তোমাকে খুঁজে পাই আমি
সৃষ্টির সর্ব কাজে
তুমিতো আছো দয়াময় প্রভূ
আমার হৃদ মাঝে।

 

শ্রেষ্ঠ গোলাপ ফুল

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

প্রিয় রাসূল ( সা:) তব নাম
আমার হৃদে লেখা
পেতে চাইগো একটিবার হলেও
শুধু তোমার দেখা।

আছোগো তুমি সবসময়ই আমার
ছোট হৃদ জুড়ে
তোমাকে ছাড়া এই অন্তর
যায় যে পুড়ে।

তোমার নামের দরুদ পড়ি
হে প্রিয় রাসূল ( সা:)
তুমি আমার বাগানের মাঝে
শ্রেষ্ট গোলাপ ফুল।