বিভাগ: সাহিত্য

হেমন্তের বীণ

মো: আরিফ হোসেন

সবুজের সমারোহে
পাখিদের গান
শুনে-শুনে সারাক্ষণ
ভরে মনোপ্রাণ।

বৃক্ষলতা চক-চক
করে সারাবেলা,
মাঠে-মাঠে কৃষকের
কাজে নেই হেলা।

প্রকৃতির রূপ দেখে
কেটে যায় দিন,
চারিদিকে বাজে আজ
হেমন্তের বীণ।

ধ্বংসের সংযোজন

নেছার আহমদ নেছার

ওরে দুর্ভাগা নির্বোধের দল
বিকেকের দংশনে তোদের অনুশোচনার দহন
জীবনে আসবে একদিন;
মুহূর্তের উস্কানীতে লক্ষ কন্ঠের মুখপত্র
নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল তোদের হাতে?
সেই বিকৃত বিবেক গুলি বুঝেনি যেÑ
অজস্র কন্ঠের মুখপত্র কথা বলে আমাদের
দুঃখ দুর্দশার, আমাদের অভাব অভিযোগের
আমাদের আশা-আকাঙ্খার অজস্র সম্ভাবনার পথ
দেখায়; সেখানে স্বহাস্যে পরিষ্ফুট
একটি স্বপ্নময় সমাজ জীবনের ঈংগিত একে
দিতে পারে বাস্তব জীবনাবর্তনে,
সেই সীমাহীন গুরুত্বের একটুও ভাবনা
ছিল না ওদের কান্ড জ্ঞানহীন পাষাণ অন্তরে।
এদের ধ্বংসাত্মক নির্মম জ্বালাও পুড়াও
পাণ্ডিত্যের প্রজ্ঞা ছিল না,
ছিল না অšে¦ষণার ছুটাছুটি কোন দাবী বা ভাব আদর্শের তাড়না।
সেখানে পশু সুলভ নেতৃত্বের সুপ্ত ঈংগিত
মুর্খ ও নির্বোধের মাঝে তাই কালের কপোল তলে
নিদারুণ ধ্বংসের সংযোজন আর
দৈনিক জালালাবাদী পত্রিকার অস্তিত্ব হলো শেষ।

 

শরৎ এলে

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

শরৎ এলে দোল খেয়ে যায়
সাদা কাশের বন,
তুলোর মত মেঘ গুলো সব
উদাস করে মন।

শরৎ এলে শিশির ভেজা
ঘাসের ডগাই হাসে,
মাঠে মাঠে পাগলা হাওয়ায়
সবুজ ফসল ভাসে।

শরৎ এলে শাপলা শালুক
নদীর জলে ফোটে,
দুষ্টু ছেলে সাঁতার কেটে
অমনি সেদিক ছোটে।

শরৎ এলে পাখীর গানে
জুড়ায় সবার প্রান,
আকুল করে শিউলী টগর
জুঁই চামেলীর ঘ্রান।

শরৎ এলে জোনাক মেয়ে
ছড়ায় শুধু আলো,
এই শরতে আনন্দ ঢেউ।
তাইতো লাগে ভালো।

ট্রাফিক নিয়ম

মঞ্জুর মোর্শেদ রুমন

ট্রাফিক আইন মেনে চলা
নাগরিকের দরকার,
এর জন্য তাই কিছু নিয়ম
বেঁধে দেয় সরকার।

হাত ধরে কয়েকজনে
রাস্তা পারাপার নয়,
তাড়াহুড়ো রাস্তা পারে
জীবনের সংশয়।

পথচারীর জন্য আছে
হাঁটার জন্য ফুটপাত,
আলসেমি করে না মানলে
জীবন খানি বরবাদ।

লেভেল ক্রসিং জেব্রা ক্রসিং
করলে ব্যবহার,
সড়ক পথে অকালে প্রাণ
ঝরবে নাকো আর।

 

জোট

আলী এরশাদ

ভোট এলে জোট বাঁধে ছোট-বড় সব দল
ক্ষমতার স্বাদ নিতে সকলের জিভে জল।

একদিন ছিলো যারা শত্রুর তালিকায়
তারা আজ গলা ধরে একসাথে গান গায়।

আহা! আহা! কী যে মজা গদি চায় সব্বাই
ডান-বাম এক ছাদে মূহুর্তে নেয় ঠাঁই।

চলে দর কষাকষি কার কত সিট চাই
জনগণ তালি দেয় সম্মুখে চলো ভাই।

পত্রিকা টি.ভি খুলে দেখি রোজ সংবাদ
দশ ভোট নেই যার সেও করে বাজিমাত।

কী আজব! নেতা ওরা আদর্শ বুকে নেই
মুখে মুখে যত কথা চোখ শুধু গদিতেই।

ক্ষমতার ভাগী হয় এ জাতির দুশমন
জনতার সাথে বলো এ কেমন প্রহসন!

 

হেমন্ত

শওকত আলী

বদল এলো ঋতুর রূপে
ডাকি হেমন্ত নামে,
হলুদ গাঁদার সুবাস দিয়ে
দাওয়াত পাঠায় খামে।

কৃষক মনে আনন্দেতে
ভরে উঠে প্রাণ,
নবান্নতে ঘরে ঘরে
পিঠা পুলির ঘ্রাণ।

সবুজ মাঠে পাকা ধানে
খাচ্ছে দোলা দোল,
কৃষক বধূর কুলায় ধান
হাওয়ায় উড়ে চোল।

কালের স্রোতে ডুবলো

শিকদার

আজ বহু দিন হলো গত
হয় না কোনো খেলা
কালের স্রোতে ডুবলো আমার
সোনার ছেলেবেলা।

স্বপ্নগুলো উড়তো সদা
হাওয়ার সাথে নভে
পথ, গিরি, মাঠ তেপান্তরে
ছুটে যেতাম যবে।

বন্ধু-বান্ধব বিদ্যালয়ে
পড়তাম একই সাথে
ঝগড়াঝাঁটি, খুনসুটি আর
ঢুসাঢুসি মাথে।

মত্ত হতাম দস্যিপনায়
যা আছে সব মিত্র
স্মৃতির নদে উঠছে ভেসে
ডানপিটের ঐ চিত্র।

সময়গুলো কাটতো তখন
আনন্দ হইচইয়ে
পেলাম না টের ক্যামনে গেল
জীবনটা আজ বইয়ে!

 

নামাজের আহ্বান

মিসবাহ উদ্দিন জামিল

আখেরাতে মুক্তি পেতে
নামাজ পড়ো সবে,
নামাজ পড়ে চাইলে মাফি
মুক্তি পাবে তবে।

দুনিয়াতে মুসাফির ভাই
বাঁচবে কতদিন,
নামাজ পড়ার জন্য সবে
আজই শপথ নিন।

দুনিয়াটা ক্ষণস্থায়ী
মাত্র ক’দিনের,
সব মানুষই ধরা ছেড়ে
যেতে হবে ফের।

সবাই মিলে পড়তে নামায
মসজিদেতে চলো,
নামাজ শেষে আল্লাহ নবির
যিকির মুখে বলো।

আযান হলে

মো: আরিফ হোসেন

আযান হলে আম্মু বলে
নামাজ পড়তে যাও
রোজ-হাশরে আজাব থেকে
মুক্তি যদি চাও।

উচ্চ সুরে বলবে সদা
মহান আল্লাহ্ এক
লিখবে তবে ফেরেশতারা
আমলনামায় নেক।

প্রাণটা খুলে করবে দোয়া
তুলে দু’টি হাত,
সবাই যেন দ্বীনের পথে
থাকে দিবারাত।

 

খোকার পণ

মিসবাহ উদ্দিন জামিল

একটি খোকা পণ করেছে
করবে বিশ্ব জয়,
তার নামেতেই বাংলাদেশটা
হবে পরিচয়।

ক্রিকেট খেলায় মাঠ কাঁপাবে
ইচ্ছা মতো খেলে,
ষোল কোটি জনতারই
ভালোবাসা পেলে।

ক্রিকেট খেলে করবে উঁচু
বাংলাদেশের মাথা,
নামটাকে তার রাখবে লিখে
ইতিহাসের পাতা।

সেই খোকাটি বাংলাদেশে
বাঁচুক চিরকাল,
ক্রিকেট বিশ্বে ধরুক যে সে
বাংলাদেশের হাল।