বিভাগ: সাহিত্য

বৈশাখে

আতিক আজিজ

বৈশাখে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে জারুল।
স্তুপীকৃত রক্তের করালে
গতরাতে আমরা সবাই গোসল করেছি

শিমুল ফুলে
শকুনেরা রেখেছিল
ঠোঁট
ঢোল বাঁজাও
হাত মেলে হলুদ করে তোলো আঙ্গুল

বৈশাখে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে
উঠোনো তেতো লাউ।

বাতাস ঘুমিয়ে পড়েছে

শাহরুবা চৌধুরী

পাহাড় ঘুরে বাতাস এসে ঘুমিয়ে পড়েছে
ফ্ল্যাটের বারান্দায়। ধ্যানমগ্ন ঋষিরা তাকিয়ে দেখেন
শুকিয়ে যাওয়া নদী থেকে মাছগুলো কিভাবে
উড়ে যাচ্ছে মেঘের সন্ধানে।

দল বদলে ইঁদুর-দৌড়ে টুপির মাথায় টিকে বেঁধে
এক পা শূন্যে তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকটি বক
অনেকটা মন্দির মসজিদের পথে
হাত পেতে গান গাওয়া ভিক্ষুকের মতো।

 

গরম

সাজ্জাদ হোসেন সিয়াম

মশার জ্বালায় ঘুম আসে না
তার উপরে গরম!
সত্যি বোধ হয় বাঁচব না আর-
অবস্থা ভাই চরম।

ফ্যানটা ঘোরে সারাবেলা
একটু বিরাম নাই,
লোডশেডিং-এ ঘোরে না তাই
পাখার বাতাস খাই।

গরম-গরম সবই ভালো
নয়তো গ্রীষ্মকাল?
তীব্র গরম ভাল্লাগে না
ভীষণ যে তার ঝাল!

প্রতিপক্ষ

॥ আবু মালিহা ॥
সাংঘাতিক রূপে ক্ষেপে উঠলো বিড়াল ছানাটি। সরোষে ধাওয়া করে ইঁদুরটির দিকে, কিন্তু ধরতে পারেনা! কারণ বাড়ীর আঙ্গিনার পাশে ছোট একটা গর্তে চোখের পলকে ঢুকে পড়ে। বাড়ীটির পরিবারের ছোট একটা ছেলে বিড়ালটিকে খুব ভালোবাসে। খাবার দাবার থেকে কোলে তুলে আদর সোহাগ সবকিছুই করে। অতএব পোষ্য বিড়াল খুব ভালভাবেই খেয়ে পরে সুখে আছে ছোট ছেলে রুহুলের কাছে। কারণ বিড়াল পোষা তার সখ। চোখের আড়াল করা যায়না। সারাক্ষণ কোলে পিঠে এমনকি রাতে বিছানায় ঘুমানোর সময়ও বুকের কাছে রেখে ঘুমায়। পরম মমতায় ভালোই দিন কাটছে। চিরসুখী জন যাকে বলে।
তবে মাঝে মধ্যে বাধ সাধে বাড়িটির পাশের গর্ত থেকে উঠে আসা ইঁদুরটি। তাই মাঝে মধ্যে বিড়ালটি ক্ষেপে গিয়ে খপ করে ধরতে চায়। তবে খাবার লোভে যে তাকে তাড়া করে তা কিন্তু নয় অনেকটা জাত শত্র“ বলেই এমন ধরনের হামলার হুমকি। আবার মাঝে মধ্যে সখের খাবার হিসেবেও ধরে মুখে পুরে। কিছুটা খায় আবার রেখেও দেয়। স্বভাবের বসে এমন আচরণ খুবই স্বাভাবিক।
তবে মানুষের কাছে বিড়াল খুবই প্রিয় এবং বাড়ীতে দুধ-ভাত দিয়ে যতœ করে পোষা একটা সৌখিন পারিবারিক সৌন্দর্যও বলা যেতে পারে! তবে বিড়ালের প্রতি মমতা রসূল (স:) এর ছিল। তাই তিনি বলেছেন বেশী বিরক্ত করলে এক আঘাতে মেরে ফেলতে হবে। কিন্তু কষ্ট দেয়া যাবেনা। সেদিক থেকে এটি একটি আদর্শিক চেতনা বিড়ালকে মহব্বত করা।
তবে বিড়ালের স্বভাবজাত কিছু দোষ আছে যেমন- আমরা কাউকে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সন্দিহান হলে বিড়াল তপস্বী বলেই আখ্যায়িত করি। কেননা লুকোচুরিতে উদ্দেশ্য হাছিলে সে খুব সিদ্ধহস্ত। অনেক ক্ষেত্রে সমাজের কিছু লোক কপট প্রকৃতির হয় এবং নিরবে অতি সন্তর্পণে অন্যের ক্ষতি করে নিজের স্বার্থ হাছিলে বেশ তৎপর থাকে। সামাজিক জীবন পরিবেশে অনেক ক্ষেত্রে এদের ধরা সহজ হয় না। কিন্তু ইঁদুর একটি প্রাণী যা হিতকর কোন কাজ সে করে না। বাহ্যিক দৃষ্টিতে মানুষের ক্ষতির কারণ। সবকিছু কেটে কুটে এবং ছিন্ন-ভিন্ন করে সয়লাব করে দেয় সুুষ্ঠু এবং সুন্দর পরিবেশকে। লেপ, কাঁথা, কম্বল সহ অনেক কাপড়-চোপড় নষ্ট করে। খাবার দাবার দ্রব্য সামগ্রীগুলোকে নষ্ট করে রোগ-বালাই ছড়াতে তার জুড়ি নেই।
অতএব ইঁদুর সর্বদাই ক্ষতিকারক প্রাণী। মনুষ্য স্বভাবের সে পরম শত্র“। বিষক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ধ্বংস করতে মানুষ সদা তৎপর থাকে। এদের প্রতি অহিংস(!)নীতি অবলম্বন মানেই মানুষ এবং শস্য ক্ষেত্রের ধংস সাধনে প্রশ্রয় দেয়া, তাই তাকে লালন করা বা প্রশ্রয় দেয়া কোন অর্থেই মানবিক নয়। তার মৃত্যু কামনাই পরম লক্ষ্য। যদিও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে তার অস্তিত্ব টিকে থাকা অপরিহার্য। যার কথা হলো বিড়াল তপস্বীদের থেকে সচেতন থাকতে হবে এবং ইঁদুর প্রকৃতির মনুষ্য পরিবেশ থেকে সমাজকে হেফাজত করতে হবে। তবে প্রকৃত অর্থে ইঁদুর বিড়াল সৃষ্টির কৌশলে হিতকর কিন্তু সমাজ চরিত্রে আচরণের কু-প্রভাব ক্ষতিকর। সম্যক এ জ্ঞান সমাজ অর্জন করতে পারলে সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করবে। হিত কামনা থাকবে সকলের তরে। অতএব বিড়াল-ইঁদুরের প্রতিপক্ষ।

নতুন দিনের পদ্য

মোঃ দেলোয়ার হুসাইন

আসছে এক নতুন দিন,
পরিশোধ করুন সকল ঋণ!

প্রশংসা করুন তার
সকল ধরা যার,
সৃষ্টিকর্তা যিনি আপনার-আমার!

সেই দিনে বাজাইবেন না বাদ্য
গাইবেন প্রভুর নামের পদ্য,
যেন নতুন বছরটি হয় শুদ্ধ।

সেই দিনের ফযরে,
দাঁড়াবেন নামাজের কাতারে!

সেই দিন থেকে দিবা-রাত্রী
থাকিবেন সত্যবাদী

নামাজ করবেন না কাযা
নববর্ষে জানাই শুভেচ্ছা।

পয়লা বোশেখ

আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ

নানান সাজে শহর গ্রামে
পয়লা বোশেখ সাজে,
চারিদিকে উৎসব আমেজ
বাদ্যি বাজনা বাজে।

হাটতলায় আর বটতলাতে
ঘুড়ি বেলুন উড়বে,
মিঠাই মুখে খোকাখুকি
নাগরদোলায় চড়বে!

রোদ সকালে

হাজেরা সুলতানা হাসি

খুব সকালে ঘুম ভেঙ্গে
আলসে ঝেড়ে খুকি,
দোর খোলে বাহির পানে
দেয় যে উঁকি ঝুঁকি।

প্রভাত রাঙ্গা সোনা রোদে
হাসে খুকির হিয়া,
ছুটে চলে চঞ্চলা মেয়ে
অপলক চাহিয়া।

ওই যে ওই ধান ক্ষেতে
পড়ে রোদের ছটা,
ধানের ছড়া ঝিকমিকায়
রোদেতে সব ক’টা।

খুকির খুশির বাঁধ ভেঙ্গেছে
ছুটছে আপন মনে,
কইছে কথা চুপিচুপি
পাখি ছানার সনে!

হঠাৎ করে অবুঝ মায়ের
ভেসে আসে হাঁক,
যেতে যে হবে সব ছেড়ে
কি আর করা থাক!

বাংলা নববর্ষ

রমজান আলী রনি

ভোরের আকাশ নতুন রবি
উঠবে আজি হেসে
খোকা-খুকু জোয়ান-বুড়ো
সাজবে নতুন বেশে।

বাজবে শানাই বাজবে বাঁশি
নাচবে চোখের কাজল
একতারার ওই নতুন সুরে
বাজবে হাতে মাদল।

চারিদিকে খুশীর আমেজ
বাংলামায়ের গানে
বাংলা ভাষায় মন যে হারায়
নববর্ষের টানে।

বৈশাখ মাসে প্রাণের বাঁধন
বাংলামায়ের দেশে
জন্ম আমার ধন্য হলে
তোমার কোলে এসে।

রাখাল ছেলে

মোঃ মামুন হোসেন

রাখাল ছেলের দল
নিয়ে যায় মাঠে গরু মহিষের পাল।
পালের তালে রাখাল ছেলেরা
হারিয়ে যায় বাঁশির সুরে,
গেয়ে যায় ভাটিয়ালীর গান।

এভাবে গান ও বাঁশির সুরের মাঝে কেটে যায় বেলা,
বেলা শেষে ফিরে আসে ঘরে, সাথে নিয়ে পাল।
সাঁঝের বেলা, পূর্ণিমা রাতে,
রাখাল ছেলেরা মিলিত হয় গাঁয়ের হাঁটে।

কত ভাটিয়ালী ও জারি সারি গান হয় সেখানে।
মনের খোরাক মিটিয়ে ফিরে আসে মাঝ রাতে।
রাত পোহালে রাখাল ছেলেরা আবার চলে যায় মাঠে।
প্রতিদিন চলছে তারই একই নিয়মে,
একটু ব্যতিক্রম হলে আঘাত করে মহাজনে।

মহাজনরা বুঝে না তার ব্যথা,
মূল্য দেয়না তার পরিশ্রম।
এভাবেই পার হয় তার প্রতিটি দিন রাত,
আর কেটে যাচ্ছে মানবতাহীন জীবন।

অধিকার

দীপ্তি রায়

খাটবো মোরা, লড়বো মোরা, গড়বো মোরা দেশ,
থাকবো মোরা, যুঝবো মোরা, থাকবো মোরা বেশ,
রামায়ণে, রামরাজত্বে, প্রজাগণ করত বাস শান্তিতে,
তেমনি মোরা বাঁচতে যে চাই নিরাপদে, সুখেতে,
রামচন্দ্র করেছিলেন ধর্ম রাজ্য স্থাপন,
প্রজার হিতে জীবন যে তাঁর, ছিলেন প্রজানুরঞ্জন,
প্রজার মতে, দেশের হিতে, ছিলেন তিনি ধর্মাত্মা,
রাময়নে ছিলেন তিনি ত্যাগী আর মহাত্মা,
প্রজানুরঞ্জন তরে, সীতাকে তিনি দেন নির্বাসন,
প্রজামনোরঞ্জন তরে, সীতা দেন অগ্নি পরীক্ষা তখন,
পিতৃসত্য পালন হেতু, রাম গিয়াছিলেন বনে,
চোদ্দো বছর বনবাস, তিনি কাটান সঙ্গোপনে,
সইবো মোরা আসুক কষ্ট, দেশের লাগি যত,
থাকবো মোরা বিভেদ ভুলে, দুঃখ আসুক অবিরত,
দেশের মাটি মোদের মুক্তো, মাণিক, রতœ,
এসো সবে দেশের মাটির করি মোরা যতœ,
দেশ যে মোদের পরমাত্মা, দেশ পরমারাধ্যা,
দেশে মোরা জীবন গড়ি, দেশমাতৃকার করি পূজা,
এদেশ আমার, এদেশ তোমার, এদেশ মোদের সবার,
দেশে মোরা বাঁচি, মরি, দেশে সবার অধিকার,