বিভাগ: সাহিত্য

তোমার বিষাক্ত মন

শাহীন নীল

ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে দূরে চলে যাই,
ঐ দূর আকাশের থেকেও অনেক দূরে,
তোমাকে শূন্য করে চলে যাই,
তোমাকে একা করে চলে যাই,

চলে যেতে চাই
তোমার বিষাক্ত ভরা মন থেকে
অনেক অনেক দূরে,
যেখানে গেলে তোমার বিষাক্ত মন,
আমাকে ছুঁতে পাবেনা।।

হারিয়ে যেতে চাই,
অজানা অচেনা কোন গন্তব্যে,
যেখানে তোমার বিষাক্ত ভরা
স্মৃতি গুলোখুঁজে পাবেনা আমাকে।।

নতুন কোন রূপ নিয়ে,
অনেক দূরে গিয়ে বাঁচতে চাই,
আমি চলে যেতে চাই,
অনেক অনেক দূরে,
ঐ দূর আকাশের থেকেও অনেক দূরে।।

প্রেমের আরতি

তোফায়েল আহমেদ টুটুল

সে আমারে ভুলে গেছে
পরম বন্ধু যেজন,
বিশ্বাস ভক্তি প্রেম দিয়ে
হইনি আমি সুজন।

পাঠিয়ে দিল আপন ইচ্ছায়
মায়া জগত সংসারে,
আমি কি আর পর ভেবেছি
রেখেছিলাম এ অন্তরে।

পথের বাঁকে হারিয়ে তাকে
খুঁজে মরি সেই দোসর,
যেজন আমায় শুধু ভালবাসে
দিবা নিশি অষ্ট প্রহর।

আল্লাহ ঈশ্বর হরি ডাকি ভগবান
পূজিতে রাঙ্গা চরণ,
তোমার করুণায় সুন্দর পৃথিবীতে
পেয়েছি জীবন মরণ।

সাধনা সাধিতে জপেছি নাথ শ্যাম
নিত্য আরাধনার মিনতি,
হৃদয়ের বিশ্বাসে রাখি ভক্তির প্রেম
সাজানো প্রেমের আরতি।।

 

 

বাসর সজ্জা

ড. সুজিত কুমার বিশ্বাস

তখন আসিল হেমন্তক্ষণ
রঙিন সূর্য বেলা;
কোন অছিলায় ছিলে গো বন্ধু-
আমার দরজা খোলা।
বহুদিন পরে তুমি এলে কাছে
দেখেছি তোমায় চেয়ে;
আমার মনের সকল বাসনা
আসিল তখন বেয়ে।

তুমি এসে সেই নব ভঙ্গিতে
দাঁড়ালে আমার চোখে;
চেয়ে চেয়ে শুধু দেখে গেছি আমি
তোমারেই অপলকে।
বলেছ আমায় আপনার কথা
শুনেছি মনটি দিয়ে;
আড়ে আড়ে শুধু দেখেছি তোমায়
ওগো ও সোনার মেয়ে।

চন্দ্রিমা জোড়া মুরতি তোমার
সোহাগ বদন খানি;
বারে বারে যেন দেখে গেছি আমি
মনের কাছেতে আনি।
সিঁথির মাঝেতে সিঁদুরের টিপ
বদন জোড়া সে হাসি;
মনে হয় বলি কাছেতেই ডেকে
তোমাকেই ভালোবাসি।

কানে দোলে ওই হাতের কাজের
দুখানি আপন পাশা
কণ্ঠে তোমার শোভিছে যে প্রিয়
আমার সকল আশা।
নবরূপে আজ সাজিয়াছ তুমি
তোমার আঁচল মাঝে;
আজ বুঝি আমি বাঁধা পড়ে গেছি
হেমন্তের এই সাঁঝে।

তোমার কাছেতে যা ছিল আপন
আমারে দেখালে এসে;
কোথা ছিলে তুমি! এতদিন ধরে
ছিলে বুঝি দূর দেশে।
আমার খবর নিয়েছ যে তুমি
চুপি চুপি অনায়াসে।
কীবা সে চাহুনি কীসের মহিমা
আমার মনেতে ভাসে।

তুমি এসে আজ চলে যাবে জানি
আছে যে তোমার কাজ;
তোমারে দেখিয়া হয়েছি নীরব
স্তব্ধ রয়েছি আজ!
তোমাতে চাহিয়া তোমাকে দেখিয়া
মুখ ঢাকি লজ্জায়;
শুধু ভাবি প্রিয়, সেদিন আসোনি
এ বাসর সজ্জায়!

 

 

মানবতার জন্য প্রার্থনা

জসিম উদ্দিন জয়

আল্লাহ তুমি মহান সর্বশক্তিমান,
তোমার হাতেই রয়েছে সৃষ্টির বিধান,
তোমার কাছে চাই মানবতার সমাধান।

হে আল্লাহ বিচার কর অত্যাচারিদের
নিষ্পাপ আত্মার মানুষ হত্যাকারিদের
আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার লড়াই,
নিরীহ নিধন করে করছে শক্তির বড়াই।

আল্লাহ্ তুমি, পরম দয়ালু আর রাহমান,
তোমার হাতেই পৃথিবীর গতি বহমান,
তোমার কাছে চাই শান্তি আর সম্মান।

হে আল্লাহ রক্ষাকর ভাগ্যহত নির্যাতিত রহিঙ্গা যত
এই পৃথিবীর সৃষ্টিযত জানি সবই তোমার অনুগত
তুমি জাগ্রত করো বিশ^ বিবেক, হও সহায়,
মানবতা আজ ক্ষমতার কাছে, বড় অসহায়।

আল্লাহ তুমি, আর রাহীম পরম করুণাময়
তোমার হাতেই সৃষ্টির ভাগ্য লিখা হয়,
তোমার কাছে চাই পরকালের জান্নাতময়।

হে আল্লাহ পাশে দাঁড়াও যারা জনম দুঃখী
সাহায্যের হাত বাড়াও কর তাদের সুখী
সকল মঙ্গলের সকল তারিফ তোমার,
তুমি পারো, তুমিই আল্লাহ হুআকবার।

আল্লাহ তুমি, মহান কল্যাণদাতা আলবার
তোমার হাতেই শক্তি আর তরবার
তোমার কাছে চাই মুক্তি মানবতার ।

কলম আমার

ফাতেমাতুয যাহরা স্মৃতি

বসে বসে ভাবি আমি
লিখতে হবে আজ
যে লেখা দেবে উপহার
সুন্দর এক সমাজ।

খোদার কাছে দু’হাত তুলে
করি মোনাজাত
লেখার মাঝে থাকে যেন
ঈমানী দাওয়াত।

প্রতি লাইনে থাকতে হবে
সৎ পথের চিত্র
বসে বসে এই কথাটি
ভাবি দিবা-রাত্র।

কলম আমার কামান হয়ে
নাশুক মিথ্যা সকল
বুকের ভেতর দাওগো খোদা
অসীম সাহস বল।

 

নীড়

আইরিন আসাদ

নীড় হারা মানুষ টা যে
নীড়ের টান বুঝলো না।

কাওকে ভালোবাসলো ও না
কারো ভালোবাসাটাও বুঝলো না।

কারো নীড়ে সে ঢুকবে না,
কাউকে তার নীড়ে প্রবশ করতেও দিবে না।

কাওকে কোন ঝামেলায় ফেলবে না
কারো ঝামেলায় সে জড়াবেও না।

বলা যেতে পারে এক কথায়
হুমায়ন আহমেদ এর ডিজিটাল হিমু।

হিমুর মতো হলদে পাঞ্জাবী পাজামা পরেনা
করে না ফ্যাশণ পড়ে সাদামাটা প্যান্ট সার্ট ।

দিনে লাগে তিন চার পেকেট সিগারেট
চা আর কফির হিসাব রাখে কে তার।

হিমুর মতো থাকেনা তো সে একা পড়ে
হর হামেসাই পড়ে থাকে বন্ধুদের আডডার মাঝে।

সব মেয়েকেই আকর্ষণ করে তার ব্যবহারে
পড়ে না সে তো সেসব মেয়েদের বেড়াজালে।

উড়নচন্ডীর মত ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়ায়
জড়াবে না তবুও কোন নীড়ের মায়ে ছায়া তলে ।

জাগার আগে

জালাল জয়

মৃত্যু আমায়
বাঁচতে শেখায়
বাঁচতে গিয়ে
জীবন পাতায়

মৃত্যু আমায়
স্বপ্ন দেখায়
স্বপ্ন আমায়
বাঁচতে শেখায়

বাঁচতে গিয়ে
যুদ্ধ করি
সৈনিক হাতে
অস্ত্র ধরি

বুলেট ছুঁড়ে
কাব্য লিখি
দিনরজনী
বাঁচতে শিখি

যুদ্ধ জীবন
যুদ্ধে মরণ
যুদ্ধ বিনে
শুধুই ক্ষরণ

বীর জননী
তুমি আমার
রক্ত দিয়ে
ভাঙবো পাহাড়

রক্ত নাশে
অস্ত্র হাসে
বিজয় এনে
মেঘের কোলে

আবার আমি
বাঁচতে শিখি
মৃত্যু তবুও
ডাক দিয়ে যায়

পিছু পিছন
ছুটে চলে
যখন তখন
আলোর জলে

ভেসে ভেসে
প্রাণে ভাসায়
দগ্ধ অনল
কেবল হাসায়

মৃত্যু তুমি
কত আপন
বুঝলে না হয়
অতি গোপন

আপন যত
কালকে ছিলো
আজকে সবি
পর যে হলো

কীসের নেশায়
জ্বলে ওঠি
দগ্ধ চোখে
জ্বালায় কাঠি

হায় রে হায়
মরণ আমার
পেলো না তো
সময় রে আর

যা দিয়েছি
বন্ধু তোমায়
মনে রেখো
একটু আমায়

ভুবন মাঝি
দিয়ে বিদায়
আপন ঘরটা
ছেড়ে আজি

চলে এলাম
একলা ঘরে
নাইরে কেহ
এই কবরে

কেমন আঁধার
কাঁপে শরীর
ভাবতে গিয়ে
জাগি আবার

আহত প্রেম

॥ আবু মালিহা ॥

(পূর্ব প্রকাশের পর)
শিশিরের পড়াশুনা ভালোই চলছে। বাবার নিয়মিত যাওয়া আসা এবং তার প্রতি তদারকী কোন কিছুতেই কমতি নেই মিসির আলীর। এভাবেই পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত গড়ালো। রেজাল্ট খারাপ নয়। এত ধকল সয়ে যে এগিয়ে যাচ্ছে বাবা মা এতেই খুশি। তার মনোযোগিতাও কম নয়। যথাসাধ্য চেষ্টা করছে ভাল রেজাল্ট করার জন্য। সাথে দু’চারজন ভাল বন্ধুও জুটেছে। তার মত শান্ত এবং ধীরস্থির। দুষ্টুমি বা খুব উশৃঙ্খলতা নেই ওদের মধ্যে।
শিশিরের বাবা গ্রামের ছেলে হলে কী হবে ওর মধ্যে মায়া-মমতা ও সৎ প্রতিবেশী সুলভ মনোভাব বেজায় রকম। ঝগড়াঝাটি তো দূরের কথা কারো সাথে কটু কথা পর্যন্ত বলেনা। এমনই সজ্জন ব্যক্তি মিসির আলী। গ্রামে এজন্য সবাই তাকে ভালোবাসে। তারই ছেলে শিশির। এমন সৎ স্বভাবের বাবার ছেলে তো শিশির এমনই হবে। শান্ত শিষ্ট এবং ভদ্র আচরণে তার জুড়ি নেই। ক্লাসে সব ছেলেদের সাথে তার সদ্ভাব। কারো সাথে কোনো মনোমালিন্য বা কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয় না। সে জন্য সব শিক্ষকদের দৃষ্টিও তার দিকে। যে কোন কাজের জন্য সবাই তাকে ডাকে। কথায় কাজে এমনই তার ভাল আচরণ।
মাও তার ছেলের জন্য প্রাণান্ত। একটুখানি চোখের আড়াল হতে দেননা। একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার যত চিন্তা। ছেলে কী খাবে, কী কাপড় পরবে এসব নিয়ে ছেলেকে অনেক কথা বলেন। ছেলের মন খুশি থাকলে মা যে খুশি হন। ছেলেও মায়ের মন বুঝে, সে মাকে খুশি রাখার জন্য মায়ের অনেক কথায় সায় দেয়। মা তখন আদর করে তাকে চুমু দিয়ে বলেন, এই তো আমার লক্ষ্মী ছেলে কতই না ভালো ছেলে … তোমার পড়াশুনা আরো ভাল করলে দূরে আরো ভাল স্কুলে পড়তে দিব। তুমি তখন আরো বড় হবে। মায়ের এমন আশা জাগা নিয়া কথা শুনে ছেলের প্রাণ-মন উদ্বেল হয়ে উঠে। মায়ের আশা পূরণ করতে সেও উৎসাহী হয়ে ওঠে। বাবা তার হাল চাষ করে প্রতি বৎসর যে খোরাকী পান তা দিয়ে কোন রকম সংসার চলে যায়। আপাতত কোন অসুবিধা হচ্ছে না।
সে বার বন্যায় অনেক কৃষি ফসল ধংস হয়ে যাওয়ায় পরিবারে কিছু টানাপোড়ন ছিল। এবার তেমন অসুবিধা হচ্ছেনা- তবে বাড়তি সংরক্ষণ তেমন কিছু নেই। মাঝে মধ্যে অসুবিধায় পড়লে যে তাৎক্ষণিক যোগাড় করা অনেক কষ্টকর হয়ে পড়বে। বাজার দর আস্তে আস্তে ঊর্ধ্বমুখী। এবারের ফসল তোলাও খুব একটা ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে না। তবুও আশায় বুক বেঁধে আছে। গাঙের ধারে নিচু এলাকায় বোরো ধান যদি ঠিক মতো উঠে তবে হয়তো কোনো রকমে চলে যাবে। ধানের কচি শীষ জেগেছে। মোটামুটি ফলন ভাল হবে বলে আশা করছে। কারণ এটিই একমাত্র ধান ক্ষেত- মিসির আলীর বিঘা দুই জমির ফসল দিয়ে ৯ মাসের মতো খাওয়া পরা চলে যায়। বাকী ৩ মাস আয় রোজগারের মত একটা করতেই হয়, নইলে সংবৎসর চলেনা। পাশাপাশি ছেলে বড় হচ্ছে স্কুলে উপরের দিকে উঠছে। পড়াশুনার খরচ বেড়ে যাওয়া সেই চিন্তা করতেই হয়। তবুও ছেলের পড়াশুনা থামানো যাবেনা। তিনি ছেলেকে যে করেই হোক কলেজ পাশ দেওয়াতেই চান। ছেলে ভাল চাকরী করবে এবং বাবার মতো এমন গাধার খাটনি আর খাটতে হবে না- সেই আকাক্সক্ষা তার। ছেলে মানুষ হবে এলাকার জন্য কাজ করবে, সমাজের মানুষকে ভাল কাজে উৎসাহিত করবে এবং শিক্ষা-দীক্ষায় অগ্রসর করবে। এক কথায় সমাজ দরদী যাকে বলে ….।
এদিকে শিশিরের স্কুলের বাৎসরিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো। স্কুল প্রায় ১৫ দিনের ছুটি। বাড়ীতে সবাই কম বেশী আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে। কারণ ডিসেম্বরের শেষ দিকে ফলাফল ঘোষণা করবেন প্রধান শিক্ষক। যেন এক ঈদের দিন। সেই দিনের অপেক্ষায় সবাই থাকে। হাসি আনন্দ আর অশ্র“ বিসর্জনের দিন। ফলাফলের ভিত্তিতে এই পরিবেশ। এমন অম্লমধুর পরিবেশ প্রতিটি ছাত্র জীবনেই ঘটে থাকে। শিক্ষা জীবনের এটাই চিরন্তন রূপ। আমাদের বেলাতেও এরূপ ছিল। এটা বলাই বাহুল্য। (অসমাপ্ত)

যাবো হারিয়ে

হাজেরা সুলতানা হাসি

আমি যাবো হারিয়ে
কোন একদিন ঠিকি
পূব আকাশে সূর্যি মামা
করবে ঝিকিমিকি।

রোজ বিহানে জমবে সদা
পাখির মিলনমেলা
প্রজাপতির ছোটাছুটি
করবে দারুণ খেলা।

সাঁঝের বেলা অস্ত যাবে
আঁধারে ঢাকবে সব,
ফিরবে পাখি আপন নীড়ে
থামিয়ে কলরব।

থাকবে না সেদিন এই ধরাতে
আমার এই দেহ,
সেদিন আমায় যাবে ভুলে মনে
রাখবে কি কেহ!

 

 

 

নির্লজ্জ

আইরিন আসাদ
(১)
আর কতোটা চোখের পানি ঝরালে
তুমি আমার হবে
আর কতোটা কষ্ট পেলে বিনা দোষে
তুমি আমার হবে।
আর কতোটা মানুষের চোখে নির্লজ্জ হলে
তুমি আমার হবে
আর কতোটা বছর অতিবাহিত করলে
তুমি আমার হবে।
(২)
বড্ড অবেলায় তুমি এলে,
দেখ? সূর্যটাও তার ঘরে ফিরে যাচ্ছে।
দেখ? গ্রামের কৃষকরাও ঘরে ফিরছে।
দেখ? কৃষাণীরা কুপি ধরাতে শুরু করেছে।
দেখ? আকাশে পাখির ঝাঁকগুলিও ঘরে ফিরচ্ছে।
দেখ? জোনাকীরাও অন্ধকার এ আলো জ্বালাচ্ছে।
শুনো? মা ও আমাকে সাঁঝ হয়ে গেছে বলে ডাকছে।
তাই বড্ড অবেলায় তুমি এলে।