বিভাগ: সাহিত্য

মরুময় মরীচিকার পানে

নেছার আহমদ নেছার

আমি মরুময় মরীচিকার পানে
ছুটে যেতে যেতে থমকে দাঁড়ালাম,
যেদিকে চোখ যায় অসীম শূন্যতা
জীবন বৃক্ষ ছায়ায় বসে
চোখ মেলে দেখলাম-শুধু শুধু নি:স্তব্ধতা,
এখানে কেবলেই শুধু শুধু নীরবতা-
এক ভুবন নীরব নি:স্তব্ধতা।
পৃথিবীর কোলাহল নেই-
নেই কোন প্রাণের সাড়া
নেই চাওয়া পাওয়ার অনুভব;
শুধু পদচিহ্ন অবলোকন করে ছুটে এসেছি।
পাইনি তারে খুঁজি যারে-
দিগন্তের সীমাহীন মরুময় পথে
কে যেন সাড়া দেয় অনেক সু-দূরে
অস্তাচল রবির আভায় কোন এক মূর্তি
জাগায় স্বপ্নময় স্মৃতি হৃদয়ের আকুতি
মিশে আছে জীবন পথে
পাইনি যারে কেন খুঁজি তারে
শুধু শুধু হারিয়ে যাওয়ার হাহাকারে।

চিরকুমারনামা

আবরার ফাহিম

ভর দুপুরে, ডাকিছে কুকুরে, বাজিয়া উঠিল ফোন
ধরিয়া দেখি, জিএফ আমার, রাগিয়া হইলেন খুন।
জিজ্ঞেসিনু তারে, হয়েছে কি, রাগের কিবা হেতু?
তিনি বলিলেন, নিকুচি প্রেমের, তোর মুখে দেই থুথু।

এতটাকার প্রেম, এমনি করিয়া, ভাসিয়া যাইবে জলে?
চারটা বছর, নিয়েছিনু দম, ধারালো ছুরির তলে।

ফের জিজ্ঞেসিনু, “খুলিয়া বল, হয়েছে কি সমস্যা?”

জবাব আসিল, “জীবনটারে কি তুই ভাবিতেছস কেচ্ছা?
টাকা নাই তাও, কেন নিতি, বড়লোকের মত করে পার্ট?
আমি ভাবিলাম, ধনী অনেক, আর তাই করেছিলাম ফ্লার্ট।
চেহারা স্টাইল আর ভাবখানায় তুই, যেন এলন মাস্ক
এখন দেখি তুইযে ফকির, যেন ভাঙ্গা চায়ের-ফ্লাক্স।

রাজার বংশে, বিয়ের জন্য, হেঁটেছিলেন আব্বাজান
তর জন্য, সপিয়াছিলাম, দেহ মন আর পরাণ।
ফকির মিসকিন, দয়া করা যায়, প্রেম কি হয় এতে
বিরিয়ানী খাইয়া, পেট ফুলাইব, থাকিবনা পেটে ভাতে।

আমি কহিলাম, দেখ আমি হইতেছি ইঞ্জিনিয়ার
লাইফের চাকা ঘুরায়ে দিব, উইথ ফিফথ গিয়ার
কয়েক দশক পার হইলেই আর, হইব গ্রেজুয়েট
টাকা তখন চিবাইয়া খাইতে, টাকায় ভরিতে পেট
কিন্তু আজিকে দূর হইল, সব কনফিউশন আমার
লোভী তোমায় ছাড়িয়া হইব, শখের চিরকুমার।

 

বয়সের শিক্ষা

বিবেকানন্দ সামন্ত

বয়সের শিক্ষা
বয়স এখনো সত্তর হয়নি…
ভালই আছো অমরনাথ!
আর একটু অপেক্ষা করলেই
শরীরের সর্বত্রই ফুটবে জীবনের স্বাদ।
সারা জীবনে পেরিয়ে আসা অনেক পরীক্ষা –
অঙ্ক বিজ্ঞান অর্থনীতি ইতিহাস ভুগোল
সব শেষে আসবে শরীর শিক্ষা
তোমার নব অধ্যয়নের পাঠ্যসূচি
জীবনের অপরাহ্ন গোধূলি বা সন্ধ্যাবেলায়।

আরো একটু এগোলেই
শরীরের নানা অংশের অক্ষমতার অভিযান
তোমাকে বিপ্লবী করে তুলবে –
পুরানো দিনের মার্জিত অভ্যাসকে
চিরতরে বিদায়ের অভ্যর্থনা জানিয়ে।
অন্তরে তোমার বাড়বে বয়সের তফাত,
চেনা আর অচেনা দুই সৈনিকের যুদ্ধ
অভ্যাসের কুরুক্ষেত্রে-জীবন আর মৃত্যুর
জীবন্ত তুমি আর শুকিয়ে যাওয়া তুমির মুখোমুখি।

পুরাতন অভ্যাস আর অঙ্গ পতনের অভিযানে
জীবনটা কিছুদিন ডাক্তারের ট্রাফিকে আচ্ছন্ন,
তবুও জীবন-গাড়ি চলন্ত সবুজ আলোর সংকেতে।
বয়স বাড়ছে আয়ু কমছে
জীবন কাঁদছে মৃত্যু হাসছে,
শিক্ষার বিরাম নেই- ঔষধ ইনজেক্শন থেরাপি
অকাতরে শরীরে বাসা বাঁধছে -জ্বালানি তেল
বয়সের ইঞ্জিনকে ঠেলা দিতে কোনমতে
বাঁচার নেশাকে আদপে ভালোবাসতে
পরিজনের বিরামহীন পরিকল্পনা অঢেল।

বৃদ্ধ বয়সের শেষ ধারাপাত
কারো করুণা নয়- শুধুই অশ্রুপাত,
এ বাঁচার শেষ পরীক্ষা নীরব ভিক্ষা
পরিত্রাণের দীক্ষা বয়সের শিক্ষা।

কত রং

সাইয়িদ রফিকুল হক

যদিও তোমার রংটি কালো,
তোমার হাতের বিষও ভালো,
কারণ তোমার মনটি ভালো।

আরেক তুমি সাদা-গরল,
বাইরে তুমি যদিও তরল,
মনটি তোমার নয়কো সরল।

মানুষ তোমার রং যে কত!
একই অঙ্গে রূপ যে শত,
মনের ক্রোধ কর নত।

তোমার হাসি দেখতে ভালো,
মুখে আছে ভীষণ আলো,
কিন্তু দেখি মনটি কালো!

তোমার গায়ের পোশাক মন্দ,
তবুও আছে জীবনছন্দ,
লোকের সাথে নাই যে দ্বন্দ্ব।

ভালোমানুষ হয় না রঙ্গীন,
তার হাতে যে নাইকো সঙ্গিন,
এক রংয়ে সে থাকে চিরদিন।

কিছু কথা

সাজ্জাদ হোসেন সাকিব

কিছু কিছু কথা
চাপা পড়ে রয়।
কিছু কিছু কথা
ইতিহাস কাঁপিয়ে যায়।

কিছু কথা থেকে যায়,
মানুষের মুখে মুখে।
কিছু কিছু কথা
পড়ে যায় কাদার নিচেতে।

সব কথা থাকে না
এই পৃথিবী জুড়ে।
কিছু কথা থেকে যায়
আকাশে বাতাসে চরে।

বাবা তোমার কথা
আমার আজও মনে পড়ে,
কিছু কিছু কথা আমায়
চোখের জলে ভাসায়,
কিছু কিছু কথা আমায়
বড় হতে শিখায়।

শৈশবের স্মৃতি

মো: আশিকুর রহমান

আজ আমি শান্ত-সৃজন মানব
হারিয়ে ফেলেছি শৈশব
কোন ছোটাছুটি আর দুরন্তপনা নেই
আজ কেবল স্মৃতি সেসব।

আজ আর বন্ধুদের সাথে
গোসল করতে নদীতে ঝাঁপ দেই না
কিংবা দুরন্তপনার জানান দিতে
ঘন্টা অবধি নদীতে সাঁতার কাটি না।

খেলার মাঠে স্বর্গের সুখ পাবার
মানেটা আমি এখনও বুঝি না
তবে সে দিনগুলো অনেক মধুর ছিলো
যা আমি ভুলতে কখনো পারবো না।

বয়সের ভারে আমি আজ
চার দেওয়ালের মাঝে নি:শব্দে থাকি
গোসলটা বাথরুমে ঝর্নার তলে
বন্ধুদের ছেড়ে করি একাএকি।

খেলতে যাবো বলে বিকালের অপেক্ষায়
আজ আর ছটফট করি না
খেলতে যাই না বলে বিকালবেলায়
আজ আর আনন্দের লেশও পাই না।

মাঝ বয়সে কিছুটা আড্ডাবাজি হলেও
এখন আর তেমনটা হয় না
শৈশবের পর থেকে আর কেউ
অতো খোলা মনে কথা বলে না।

তাই সে স্মৃতিগুলো বুকে লালন করে
আজ আমি কেবল বেঁচে থাকি
তখনের অনুভুতিটা এখনো কিছুটা পাই
যদি সেই বন্ধুদের কোথাও দেখি।

মধুমাসের ফল

আবু আফজাল মোহা: সালেহ

মধুমাসে মধু ঝরে
আম-কাঁঠালের ঘ্রাণে
থোকায় থোকায় কালচে জামে
জুড়ায় দেহ প্রাণে!

লিচু-খেজুর রসালো ফল
শিশু-মায়ের কোলে
ডাব-নারিকেল তরমুজ দেখে
তৃষ্ণা মনে দোলে!

পশুপাখি বাদুর মাছি
পাঁকা ফলে ঠুকে
সুস্বাদু রস টেনে নিয়ে
তৃষ্ণা মেটায় বুকে!

পাখির পিঠে খোকার ঘুড়ি

রমজান আলী রনি

হিমেল হাওয়ায় খোকার ঘুড়ি
পতপতিয়ে উড়ে
গগনমাঝে পাখির পিঠে
খোকার ঘুড়ি চড়ে।

পাখির দলে মিষ্টি হাসে
নতুন সাথী পেয়ে
ঘুড়ির সাথে দক্ষিণা গান
সবাই যায় যে গেয়ে।

পাখি বলে খোকার হাতে
নাটাই সুতার কাঠই
আমরা যাবো খোকার দলে
হবো খোকার পাঠই।

খোকার ঘুড়ি দেখবি যদি
পাখির পিঠে খোঁজ
জোয়ান-বুড়ো সকল-তোরা
চোখের পাতা বোজ।

নীল সাগরের বুকে ভাসাবো নাও

তারেক লিমন

নীল সাগরের বুকে ভাসাবো নাও
হারিয়ে যাবো দূর বহুদূর
বাজাবো প্রেমের বাঁশি
করবো তোমায় উদাসী
আমার বাঁশিতে আছে যাদু মাখা সুর,

আমার দুচোখ দিয়ে
দেখবো তোমায় চেয়ে
মনের বাসরে তেমায় সাজাবো বধূ
নির্জন নিরালায়
মাতবো প্রেমের খেলায়
ভ্রমর হয়ে আমি লুটবো মধু,

আমার আঁধার ঘরে
দিয়ো আলোতে ভরে
হয়ে তুমি চাঁদের আলো
আমিও তোমার হবো
সুখে দুঃখে পাশে রবো
সারাটি জীবন তোমায় ভাসবো ভালো….।।

সুখের যদি

অতনু দত্ত

সুখের যদি ওড়না থাকে
অন্ধকারের ভোর না থাকে
সঠিক সেটা কি?
নেশায় যদি ঘোর না থাকে
নদীর স্রোতে জোর না থাকে
সব বেজায় ফাঁকি।

বউয়ের হাসি মিষ্টি ভালো
ঘাড় ঘোরানো দৃষ্টি ভালো
হৃদ সায়রে বান
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি ভালো
তেনার অনাসৃষ্টি ভালো
ভাবের ঘরে টান।

মিথ্যে কথা শুনতে ভালো
শিউলি সকাল গুণতে ভালো
খুশির কি জোয়ার
স্বপ্নেরই জাল বুনতে ভালো
অনেক পেলে চুনতে ভালো
জোটেই বল কার।

মাটির সোঁদা গন্ধ নেশা
কেউ ধরেছে মন্দ নেশা
নেশায় বাঁচে মন
কারুর মনে স’ন্দ নেশা
আমার বাপু ছন্দ নেশা
ছন্দময় জীবন।