বিভাগ: সাহিত্য

ইচ্ছে

জাকির হোসাইন

আমার যদি ডানা থাকতো
কতোই না ভালো হতো-
এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতাম
পাখিদের মতো।

মাটি ছেড়ে দিতাম পাড়ি
আকাশের পানে
দেখতাম গিয়ে পৃথিবীটা
কোথায় গেছে থেমে।

সুরুজটাকে বলতাম গিয়ে
কে তুমি ভাই?
দিনের বেলায় এতো আলো
পাও তুমি কোথায়।

চাঁদের সাথে দেখা হলে
বলতাম আমি হেসে
পৃথিবীর মানুষ কেনো
তোমায়? এতো ভালোবাসে।

মেঘের সাথে বলতাম কথা
তুমি এমন কেনো!
যখন-তখন অযথা
ঝরে পড়ো কেনো।

আকাশটাকে বলতাম গিয়ে
কিসের এই মেঘের ভেলা?
চাঁদ-তারা তোমার বুকে
কেনো করে খেলা।

ভালোই কাটতো সকাল বিকাল
আমার সারাদিন
সকাল থেকে শুরু করে
এভাবে প্রতিদিন

 

ছোটদের ছড়া

মোঃ মুসা ইসলাম

আমি হব সবার প্রিয়
সবার আপনজন,
ফুটাব আমি মুখে হাসি
থাকবে না ক্রন্দন।

ভালো কাজ করে সদাই
হব সবার প্রিয়,
গরিব দুখির সঙ্গী হব
দেব তাদের শ্রেয়
সকল তরে কাজ করব
ভুলবে আমায় কেবা,

ভাল মানুষ হয়ে আমি
করবো দেশের সেবা।
স্বপ্ন দেশে দুলব আমি
আঁকব হরেক ছবি,
ভাবছি তখন ফুটাব আমি
জ্বলবে আলোর রবি।

বর্ষার রূপ

রেজাউল রেজা

কখনও আসে সেজে গুজে
কখনও আসে আচমকা!
কখনও আসে একলা একা
কখনও নিয়ে ঝড় দমকা!

মাঝে মাঝে দিন-দুপুরে
সূর্যটা দেয় ডুব,
বর্ষাকালে তাল বেতালে
বৃষ্টি আসে খুব।

ঝির ঝির কিংবা মুষল ধারায়
বৃষ্টি দেখায় নাচ,
নাচের তালে শহর-পাড়ায়
বন্ধ থাকে কাজ।

নদী-নালা পুকুর ডোবা
পানিতে যায় ভরে,
চারিদিকে কোলা ব্যাঙে
ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর করে।

 

শরৎ এলে

কবির কাঞ্চন

নদীর চরে ফুটে যখন
সাদা কাশফুল
তখন বুঝি শরৎ এসে
করে ব্যাকুল।

ব্যাকুলতা বাড়ে আবার
বৃষ্টি হলে
ফুলপরীরা নৃত্যে মাতে
মিষ্টি জলে।

বৃষ্টি ফোটা ঘাসের বুকে
তুফান তুলে
প্রজাপতি পাখি উড়ে
ফুলে ফুলে।

ফুলের মধু আহরণে
অলি ছুটে
সৃষ্টি সুখের জোয়ার আসে
দুঃখ টুটে।

বাংলা সাজে রূপের রানী
শরৎ এলে
অপার সুখে ফড়িং নাচে
ডানা মেলে।

 

 

 

 

 

 

বন্ধু মানে

আবু আফজাল সালেহ

বন্ধু মানে উন্মাদনা
নেই তো বাছবিচার
বন্ধু মানেই হাসিখুশি
আড়াল হয়ে আচার।

কঁচিকাঁচা বুড়াবুড়ি
বন্ধুই চরম কথা
খেলার সাথী সহপাঠি
বন্ধু হয় যথা।

বন্ধু মানেই হারিয়ে যাওয়া
অন্যরকম ফ্লেভার
সুখেদুখে পাশাপাশি
সব করে কাভার।

 

ব্যাঙ বৃষ্টির খেলা

মাযহারুল ইসলাম অনিক

বৃষ্টি দিনে মন ছুটে যায়
অচিন কোন গাঁয়,
বাঙের সাথে করছি খেলা
তাধিন তাধিন পায়।

ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর ডাকে তারা
করছে এসে ভিড়,
পোকা মাকড় খাবার আশে
হচ্ছে যে অস্থির।

পানির তোড়ে বাসা ভেঙে
পোকা মাকড ছোটে,
উভচরী ওই প্রাণীটি
অস্থির হয়ে ওঠে।

রেগে-মেগে তেড়ে গিয়ে
যেই না ধরে পোকা,
রৌদ্র এসে হঠাৎ করে
বনে গেলো বোকা।

রৌদ্র এলো মানুষ এলো
পোকা গেলো বেঁচে,
বৃষ্টি শেষে একলা আমি
যাচ্ছি তাধিন নেচে।

পোড়া কপাল সাথে নিয়ে
ব্যাঙের বাবা লাফাই,
বৃষ্টি শেষে একলা আমি
পুকুর পানে ঝাপাই।

এইভাবে যে ব্যাঙ বৃষ্টির
চললো বিশাল খেলা,
পোকার আশে ব্যাঙের ব্যাটা
কাটাই সারাবেলা।

 

কিশোর আন্দোলন

রমজান আলী রনি

রাস্তাঘাটে শিশুর ওপর
হামলা চালায় যারা
মুখে বলে সুশীল সমাজ
বাংলাদেশী তারা?

আমরা যারা চুপটি করে
বসে আছি ঘরে
তারা আবার কেমন করে
সাধুর রূপও ধরে?

রাস্তাঘাটের বেহাল দশা
ঠিক হবে যে কবে?
সোনার বাংলার লাশের ছবি
রাস্তায় পড়ে রবে!

তোমরা যারা ছাত্র-ছাত্রী
তারাই জাতির প্রাণ
ফুলের শাখার কলি তবু
কতই ছড়াস ঘ্রাণ!

কতদিন আমি কষ্ট পাবো

নেছার আহমদ নেছার

আজও ভাবি কেবলি একাগ্রতায় ভাবি
নিবিড় করে মনের দুয়ার খোলে-
বাহিরের পৃথিবীতে চোখ মেলে রাখি
অনুভবে ছুঁয়ে যায় সারাটি অন্তর;
কেন যে শত কষ্টের কারণ হয়ে যায় আমি জানিনা!
উদাস এ-মনে শত আনন্দ প্রেম ভালবাসায়
চাওয়া-পাওয়ার এই পৃথিবীটাকে ঘিরে
আমার অশেষ ভাল লাগা বয়ে যায়।
প্রতিদিন সূর্য্য উঠে-রাত হয়-
আবার সূর্য্য উঠে-এভাবে গতিময়তার
চিরন্তন পথে আমার জীবন বয়ে চলে
নিরব নিভৃতে কোন এক জীবন কাননে,
অদেখায় অলক্ষ্যে আমার জীবন স্রোতে বয়ে গেলাম
সীমাহীন পথে অথচ–
প্রতিদিন সূর্য্য উদয়ের ভুবন মোহন উজ্জ্বলতায়
জীবনের কোলাহলে কোন তরুণীর মায়াবী মুখ,
কোন সুবেলা কন্ঠের নিবিড় আবেগের গান
কোন নৈসর্গিক দৃশ্যের প্রাণ ছুঁয়া আবেদন,
কারো স্নেহের স্মৃতি, প্রেমের আবেদন
আমাকে উতলা করে;
একাকী নিরবতায় বুকের ভেতর হাহাকার করে-
সারাক্ষণ ব্যকুলতায় হৃদয়ে ঝড় বয়ে যায়-
বড় কষ্ট পাই
এভাবে কতদিন আমি কষ্ট পাবো!!

মানুষের জ্ঞান

তোফায়েল আহমেদ টুটুল

পরম তত্তের সাধন তত্ত জ্ঞান তত্ত বিজ্ঞানে
মানুষ বড় হয় জ্ঞানে মঙ্গল কল্যাণ ভুবনে।
মানুষের উচ্চ আসন শুধু মাত্র জ্ঞানের কারণ,
আশরাফুল মাখলুক আল্লাহর কুদরতে সৃজন।

মহান আল্লাহ পরোয়ারে প্রশ্ন যখন করে,
ফেরেস্তাগণ নিরুত্তর সন্তুষ্ট আদমের উত্তরে।
আদম আর ফেরেস্তার মাঝে শ্রেষ্ট মর্যাদা,
জ্ঞান বিচারে দিতে হল আদমকে সেজদা।

পবিত্র কুরআন শরীফ মাঝে সুরা লোকমান,
লোকমান অর্থ হয় জ্ঞানী হেকমতে বিজ্ঞান।
হাদীসে আল ওলামা ওয়ারেসাতুল আম্বিয়া,
আলেম শব্দের অর্থ জ্ঞানী জ্ঞানে আওলিয়া।

জ্ঞানীর নিকটে রয় আল্লাহ রাসুলের ওয়াদা,
অজ্ঞানী কি যোগ্য কভু পেতে জ্ঞানীর মর্যাদা।
আল্লাহর প্রিয় ইনসান করিল যাকে জ্ঞান দান,
যেখানে জ্ঞান সেখানে খোদা মিলিবে সন্ধান।।

 

অবুঝ বধূ

তাহসিন আবির

তুমি তো বোঝো না,
আমার কথার মানে।
তা আমি আর ঐ বিধাতা জানে।
তুমি তো জানো না প্রিয়,
কটু কথার প্রাণে কত মধু!
বুঝিয়া নিতে হবে তা শুধু।

দোষ তো রাখি না তোমা
হে নব বধূ,
নতুন আসিছো এ সংসার
সংসার তো করনি আগে কভু।

তাই তো বোঝো না এত কিছু,
সদা তাই হতাশা
নেয় তোমার পিছু।

কচি মোন তোমার,
রক্তে অতি রাগ,
তাই তো চাও না কারো সাথে
আমায় করতে ভাগ।

তুমি বড় অবুঝ
কিছুই চাওনা বুঝতে।
পারো না একটু নিজেকে মানিয়ে নিতে।
তাই তো তোমার ওপর এত অভিমান।

ভাবো শুধু আমি রাগি,
রাগেতে হই বেবাগী।
জানো না তো তুমি
রাগ যে মনে প্রেমের অন্য রূপ!
বলো না তো কভু, কী চলে মনে,
হয়ে রও শুধু চুপ।

তুমি তো জানো না
রাগী পাষাণের মনে বহে রসের ধারা।
জানে শুধু তারা প্রকাশে নিভৃতে
বুঝেছে আমায় যারা।

তুমিও বুঝিবে হয়তো সেদিন,
যেদিন সময় যাবে ক্ষয়ে।
থাকবো না আমি
শুধু মনেতে তোমার,
স্মৃতিটুকু যাবে রয়ে।

তুমি যে নারী, তুমি কল্যাণী,
পারবে যেতে সয়ে।
হবে তুমি জ্ঞানী, হবে শ্রীময়ী
যত সময় যাবে বয়ে।

আজ তো তুমি জানো না কিছুই
দুনিয়ার রীতি নীতি।
তাই দিবা নিশি বয়ে চলে মনে
এতই শঙ্কা ভীতি।
শুধু খুশি কোরো তারে,
যে তোমারে সিঁদুরে রাঙাবে সীঁথি।

যানি তোমার কোমল মনে
আমার বাণী, হানবে আঘাত।
সইবে তুমি না করে প্রতিবাদ।

তাই তো বলতে চেয়েও,
অনেক কিছুই,
বলি না তোমায় কভু।
মায়া হয় বড়, অমন করতে,
তুমি যে অবুঝ বধু।