বিভাগ: সম্পাদকীয়

ঈদ যাত্রায় সড়ক দুর্ভোগ

আর মাত্র কয়েক দিন। এর পরই শুরু হবে ঈদ যাত্রা। সড়কপথে বাসের টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। নৌপথে লঞ্চের টিকিটও বিক্রি শেষ। বরাবরের মতো এবারও ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবে মানুষ। ঈদ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবে নিকটজনদের সঙ্গে। ঈদ যাত্রা বরাবরই এক ভোগান্তির নাম। এবারও তার ব্যতিক্রম কিছু ঘটবে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানী থেকে বের হওয়ার প্রায় সব পথেই থাকবে বড় ধরনের যানজট। উত্তরের যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে টাঙ্গাইল মহাসড়কে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অবস্থাও ভালো নয়। গত বছরের জুনে মেরামত শেষ হওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ২০ বছর টেকসই হওয়ার কথা থাকলেও এক বছর পার না হতেই বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভগ্নদশা। এরই মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর রক্ষণাবেক্ষণের নতুন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়ে। অন্যান্যবারের মতো এবারও খানাখন্দে ভরা রাস্তা মানুষকে ভোগাবে। ঈদের সময়ের স্বাভাবিক চিত্র হচ্ছে, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি চলে আসবে। পথে পথে যানজট ভোগাবে। তার সঙ্গে এবারও যুক্ত হচ্ছে ক্ষতবিক্ষত সড়ক-মহাসড়ক। পথে পথে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো ও গাড়ি পার্কিং, রাস্তার মাঝখানে যেকোনো যানবাহন নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি কারণে যানবাহনের গতি শ্লথ হয়ে যায়। অন্যদিকে এ সময় মহাসড়কে শ্লথগতির যানবাহনও উঠে আসে। অধিক লাভের আশায় আন্ত জেলা বাস কম্পানিগুলো তাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।
সড়কপথে ঢাকা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে যানজট থেকে শুরু করে নানা দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রেল ভ্রমণকেই পছন্দ করতে শুরু করেছে মানুষ। গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে রেলের আগাম টিকিট বিক্রি। মহাসড়কের যানজট ও নৌপথের বিড়ম্বনার কথা মাথায় রেখে এবার বেশির ভাগ ঈদের যাত্রী ট্রেনকেই ঈদ যাত্রার বাহন হিসেবে চিন্তা করতে শুরু করে। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি। এবারও চাহিদার চেয়ে ট্রেনের টিকিট কম। কৃত্রিম সংকট এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। অসাধু কর্মকর্তাদের আশকারায় এবারও দালালরা টিকিট বাণিজ্য শুরু করেছে বলে প্রথম দুই দিনেই অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এবার ঈদ যাত্রায় প্রতিদিন দুই লাখ ৭৫ হাজার যাত্রী চলাচল করবে। এবারের ঈদ যাত্রায় পূর্ব রেলে ৯০টি অতিরিক্ত বগি সংযোজনের কথা বলা হচ্ছে। কারখানায় বগি মেরামত চলছে।
ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ঈদের আগেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কগুলো যাতে মেরামত করা হয়ে যায়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ফিটনেসবিহীন যানবাহন যাতে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগকে দৃষ্টি দিতে হবে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে হবে।

মাধ্যমিক পর্যায় পরীক্ষা

শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে চাপ কমাতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় তিনটি করে বিষয়ের পাশাপাশি পরীক্ষার নম্বর ২০০ কমানো হয়েছে। জেএসসি-জেডিসিতে এত দিন বাংলা ও ইংরেজির দুটি করে পত্রে ১৫০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হতো। এখন বাংলা ও ইংরেজিতে আর আলাদা পত্র থাকবে না। একেকটি বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। অষ্টম শ্রেণি বা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় আগে ১০টি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হতো। এখন বাংলা ও ইংরেজির দুটি এবং চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে না। পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেএসসিতে এখন ৮৫০ নম্বরের পরিবর্তে ৬৫০ নম্বর এবং জেডিসিতে ১১৫০ নম্বরের পরিবর্তে ৯৫০ নম্বরের পরীক্ষায় বসতে হবে শিক্ষার্থীদের। ঐচ্ছিক বিষয়ে শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে।
বাংলাদেশে শিক্ষা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা অতীতে কম হয়নি, এখনো কম হচ্ছে না। একটি জাতীয় শিক্ষানীতি থাকার পরও সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য স্থির করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম হয়নি। এমনিতেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ বা কর্তৃত্ব আছে বলেও মনে হয় না। শহরাঞ্চলের বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের ব্যাগে বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারাকেই তাদের সাফল্য বলে মনে করে। অভিভাবকদের অনেকেই এই বইয়ের বোঝাকে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণ হিসেবে মনে করে থাকেন। অথচ এর ফল কখনো ভালো হয়নি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই ও পরীক্ষা ভীতি দেখা দেয়। অন্যদিকে পরীক্ষার ব্যাপারেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়। এমনিতেই এখন দেশের বেশির ভাগ অভিভাবককে পেয়ে বসেছে জিপিএ ৫ প্রবণতা। এই প্রবণতাকে অনেকটা সামাজিক ব্যাধিও বলা যেতে পারে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। জিপিএ ৫ নামের মরীচিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে শৈশব-কৈশোর হারিয়ে যাচ্ছে বদ্ধ ঘরে আর প্রাইভেট টিউশনিতে। যেকোনো শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও এটা অস্বাভাবিক। জিপিএ ৫ ও পাসের হার আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার যে ক্ষতি করেছে, তা বলার নয়। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। আমাদের দেশে গত বেশ কয়েক বছর সরকার সুনির্দিষ্ট সময়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বই বিতরণ করছে। বর্তমান সরকারের এটাও একটি বড় সাফল্য। কিন্তু জিপিএ ৫ লক্ষ্য হয়ে পড়ায় লেখাপড়ার মান কতটুকু রক্ষা করা যাচ্ছে, সে প্রশ্নটা এখন প্রকট হয়েই দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া পিইসি, জেএসসি, জেডিসি ও এসএসসি প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ে কি এত পরীক্ষার প্রয়োজন আছে? বিশেষজ্ঞরা বারবারই বলেছেন, পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের অনুকূল নয়। অথচ পরীক্ষার চাপ কম থাকলে বা প্রাথমিকের পর যদি শুধু জেএসসি বা জেডিসি পরীক্ষা হতো, তাহলে শিক্ষার্থীরা চাপমুক্ত থাকতে পারত। আমরা আশা করব, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি সঠিক সিদ্ধান্তে যেতে পারবে।

মাদক বিরোধী অভিযান সফল হউক

মাদকের বিস্তার এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে তা নিয়ে সমাজের সচেতন অংশ চরমভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিল। যুবসমাজের একটি বড় অংশই ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। সমাজে অস্থিরতা বাড়ছিল। মাদকের কারণে ছেলে-মেয়ের হাতে মা-বাবা খুন, ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হওয়াসহ খুনখারাবির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছিল। সেই সঙ্গে বাড়ছিল মাদকের অর্থ জোগাড়ের জন্য চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো নানা অপরাধও। আগে মাদক আসত সীমান্ত পেরিয়ে। এখন দেশের ভেতরেই একের পর এক মাদক তৈরির কারখানা গড়ে উঠছে। ইয়াবা তৈরির বেশ কিছু কারখানা ধরাও পড়েছে। মাদক পরিবহনেও নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। বরিশালে গত বুধবার এক ব্যক্তির পেটে অস্ত্রোপচার করে এক হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের এই বাড়বাড়ন্ত নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখির অন্ত ছিল না। এ ব্যাপারে সরকারের নিষ্ক্রিয়তারও কড়া সমালোচনা হচ্ছিল। অবশেষে গত ৪ মে থেকে সরকার মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে। এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি। গ্রেপ্তার অভিযান চালানোর সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোথাও কোথাও মাদক কারবারিদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। তারা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি চালিয়েছে। পুলিশও তখন পাল্টা গুলি চালিয়েছে। এভাবে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে শতাধিক অভিযুক্ত মাদক বিক্রেতা। এরই মধ্যে কেউ কেউ মাদকবিরোধী অভিযানের নানা দিক নিয়ে সমালোচনাও শুরু করেছেন। এসব সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদকবিরোধী এ অভিযান মোটেও অপরিকল্পিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দারা মাদক কারবারিদের তালিকা করেছে। সেই তালিকা ধরেই অভিযান চলছে। বড়-ছোট কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকেও জানা যায়, দেশের সব গোয়েন্দা সংস্থাই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এখানে গডফাদার যেমন আছে, তেমনি খুচরা বিক্রেতাও আছে। এমনকি কয়েকটি থানার ওসিসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তারও নাম এসেছে এই তালিকায়, যাঁরা কোনো না কোনোভাবে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, ‘আমি যখন যেটা ধরি, ভালোভাবেই ধরি। যে যেই অবস্থানেই থাকুক না কেন, তালিকার কেউই ছাড় পাবে না।’ আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ়তার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল। আশা করছি, বর্তমান মাদকবিরোধী অভিযান সর্বাঙ্গীণ সাফল্য লাভ করবে। দেশের তরুণ সমাজ যেভাবে ধ্বংসের পথে পা বাড়িয়েছিল, তা থেকে রক্ষা পাবে। তাদের হাত ধরেই দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

সিটি নির্বাচনে ইসির নিরপেক্ষতা

সিলেট, রাজশাহী, ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে আগামী ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থিতার জন্য এই তিন সিটি করপোরেশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৮ জুন। যাচাই-বাছাই হবে ১ ও ২ জুলাই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিস্তারিত

প্রবাসে নারীর নিরাপত্তা

প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে যায়। বেশির ভাগ যায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বিশেষত সৌদি আরবে। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর জন্যই তারা বিদেশে যায়। গত শতকের আশির দশক থেকে এ প্রক্রিয়া চলছে। প্রচুর টাকা খরচ করে, নানা বিড়ম্বনা সয়ে মানুষ বিদেশে যাচ্ছে। তাদের কষ্টের বিনিময়ে দেশ পাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স। এত দিন শুধু পুরুষ কর্মীরা যেত। কয়েক বছর ধরে নারী কর্মীরাও যাচ্ছে, মূলত গৃহকর্মী হিসেবে। তাদের বিদেশযাত্রার মাধ্যমে দুটি বিষয়ে অগ্রগতি ঘটবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এক. কর্মসংস্থানে নারী-পুরুষের ব্যবধান কমবে এবং দুই. নারীর সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ বাড়বে। সেসব যে একেবারেই হচ্ছে না, তা নয়। কিন্তু অল্প সময়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে দিচ্ছে, এসবের জন্য নারীদের অনেক মূল্য দিতে হচ্ছে। দেশের নিবর্তনমূলক পরিবেশ থেকে বাইরে গিয়ে আরো বেশি নিবর্তনের মধ্যে পড়ছে তারা। নারীরা কী পরিমাণ অসম্মান ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, তা গণমাধ্যম মারফত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সৌদি আরব থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ নারী গৃহকর্মী দেশে ফিরে আসছে। তাদের সবার অভিজ্ঞতা কমবেশি একই রকম। তারা শারীরিক-মানসিক নির্যাতন, এমনকি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে দিনের পর দিন। তাদের ভাষ্য, সৌদি পরিবারগুলো আকারে বেশ বড়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরতিহীন কাজ করতে হয়েছে তাদের। যাওয়ার আগে তাদের ধারণা ছিল, দেশটি ধন-সম্পদে ভরা। সে ধারণা মিথ্যা নয়; আবার অনেক বিষয়েই তাদের কোনো ধারণা ছিল না। ফিরে আসা নারীদের বক্তব্য যে দেশের কথা তারা এত দিন শুনেছে, সেখানে তাদের ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না; কাপড়চোপড় দেওয়া হতো না। সৌদি পুরুষদের অমানুষিক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে তারা। নির্যাতন সইতে না পেরেই তারা দেশে ফিরে এসেছে। নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে অনেকে। এমন নির্যাতনের শিকার হতে হবে সেটি তাদের ধারণার মধ্যেই ছিল না।
দেশে হোক বা বিদেশে, নারীর কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে এ নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করতে হবে। বিদেশে যারা যাচ্ছে তাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে। এটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কিন্তু সৌদি আরবে কী হয় জেনেও তারা মুখ বুজে আছে। নির্যাতিত নারী কর্মীরা স্থানীয় পুলিশ, বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্বদেশি পুরুষ কর্মীদের সহায়তায় কর্মস্থল ত্যাগ করছে, পরে দেশে ফিরছে। এ বিষয়ে আগেই ভাবা উচিত ছিল সরকারের; ভাবেনি। এখন তাদের তৎপর হওয়া অতি জরুরি। নারীর উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন দরকার অবশ্যই; তবে তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির বিনিময়ে নয়।

সড়ক সংস্কার জরুরী

জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিক থেকেই শুরু হবে ঈদ যাত্রা। আশঙ্কা করা হচ্ছে বরাবরের মতো এবারও ঈদ যাত্রায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে ঘরমুখো মানুষকে। দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে এমন আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার সব মহাসড়কে যানজটের খবর দেখে। এর পাশাপাশি দেশের সড়ক-মহাসড়কের যে অবস্থা এখন, তাতে আশান্বিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। গত বছরের নভেম্বর থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে ১৭ হাজার ৯৭৬ কিলোমিটার মহাসড়ক জরিপ করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের এইচডিএম বিভাগ। এতে ধরা পড়ে দেশের ২১ হাজার কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা সড়কের ২৬.৩২ শতাংশ নাজুক। এরপর আরো চার মাস চলে গেছে। বিভিন্ন মহাসড়ক স্থানে স্থানে আরো খারাপ হয়েছে। গত বছরের বন্যার ধকল সামাল না দিতেই এবার ঘন ঘন বর্ষণে নতুন নির্মিত মহাসড়ক চলাচলের উপযোগিতাই শুধু হারায়নি, হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনাপ্রবণও।
ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ে। নিকটজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে মানুষ। স্বাভাবিক কারণেই এ সময় আন্ত জেলা বাস কম্পানিগুলো তাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামাল দিতে চালু হয় বিশেষ সার্ভিস। ঈদের সময় দেখা যায়, আঞ্চলিক রুটের অনেক বাস চলে আসে মহাসড়কে। এসব বাস মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে এসব বাসের চালক মহাসড়কে যানবাহন চালানোর ব্যাপারে অভিজ্ঞ নয়, তার ওপর রয়েছে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা হচ্ছে বা নামানো হচ্ছে। এতে পেছনে যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ে যায়, সৃষ্টি হয় যানজটের। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে তিন ফুট করে থাকা শোল্ডার দিয়ে মূলত তিন চাকার যানবাহন চলাচল করে। এই শোল্ডারও কয়েক দিন আগে মেরামত করা হয়েছে। এই মহাসড়ক মসৃণ থাকলেও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে হাট-বাজারের কারণে এবারও যানজটে পড়তে হতে পারে। উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের সবচেয়ে বড় ভয় ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল মহাসড়ক পর্যন্ত। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এখন বাসে বসা দায়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চন্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার পথ যেতে সময় লাগছে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা।
তবে ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারে হাত দিতে হবে। ভাঙাচোরা রাস্তা যেন যানজট ও কোনো দুর্ঘটনার কারণ না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। হাতে যে কয় দিন সময় আছে, এর মধ্যে যেটুকু সম্ভব রাস্তা মেরামত করা গেলে ঈদ যাত্রার দুর্ভাবনা কিছুটা হলেও কমবে। সেই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশকে সক্রিয় করতে হবে। যত্রতত্র গাড়ি থামানো ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা গেলে অনেকটা নির্বিঘœ হবে ঈদ যাত্রা।

খেলাপি ঋণ আদায়ের হার

কিছুকাল আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কিছু কথা বলেন। তাতে অনেকেই এমন আগাম ধারণা পেতে পারেন যে, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার কমানো হতে পারে। এমনটা হলে তা দেশের মধ্যবিত্ত সমাজের জন্য বিরাট ক্ষতির ব্যাপার হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার আকর্ষণীয়। এখন বাজারে ঋণের সুদের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের ঋণের ফারাকটা একটু বেশি হয়ে গেছে। তাই এটাকে রিভিউ করতে হবে। কিন্তু এর সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্ত। তাই রিভিউ করা হয়নি। তবে এবার সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এটাকে রিভিউ করা হবে।
এখানে স্মরণযোগ্য গত মাসের শুরুর দিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেছিলেন, সরকার সুভিধাভোগীদের আশা-আকাক্সক্ষার কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের বর্তমান সুদের হার বহাল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
সঞ্চয়ের সুদ কমে যাওয়া প্রত্যাশিত নয়। দেশে যথেষ্ট বিনিয়োগ না হলেই ব্যাংকিং সেক্টরে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সেইসঙ্গে বছর-বছর আমানতের টাকায় সুদের হারের নিম্নগামিতা প্রত্যক্ষ করে আসছেন, তাদের ভীতি অমূলক নয়। সর্বোচ্চ মন্দ পরিস্থিতি বিষয়ে আগাম হতাশা প্রকাশ অবশ্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির লক্ষণ নয়।
সরকার সচেতন বলেই বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটাতে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন বোর্ডকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালের মার্চে বিনিয়োগ বোর্ড ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বেসরকারি বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়োগ বোর্ড কাজ করে থাকে। অন্যদিকে বন্ধ কিংবা অলাভজনক সরকারি কলকারখানা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনে নিয়ে আসার দায়িত্ব প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের।
এ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল : ‘সুদের হার বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল। এটা চলতে থাকলে এ খাতে বিনিয়োগ আরও বেড়ে যাবে। সরকারের ভবিষ্যৎ ঋণের বোঝাও বেড়ে যাবে। সে কারণেই সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ কিন্তু সঞ্চয়পত্র হলো স্বল্প আয়ের মানুষের নির্ভরতার জায়গা। এই আমানত তাকে নিরাপত্তা দেয়। মানুষ রাষ্ট্র তথা সরকারের কাছ থেকেই এই অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রত্যাশা করে। এই একটি খাতে সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিনিয়োগ করে। শেয়ারবাজারে ধস নামার বাস্তবতায় দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ প্রধানত সঞ্চয়পত্র খাতের মাধ্যমেই বিনিয়োগ করে থাকে। অবসরভোগী চাকরিজীবী, প্রবাসী ও সমাজের বিশেষ জনগোষ্ঠীর ভেতর সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের প্রবণতা বেশি। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ তার সারা জীবনের সঞ্চয়ের বড় অংশ এই খাতেই বিনিয়োগ করে থাকে ঝুঁকিহীনভাবে বেশি লাভের আশায়। আমরা বলেছিলাম খেলাপি ঋণ আদায়ের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণই যুক্তিযুক্ত।

বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান আবশ্যক

অসৎ ব্যবসায়ীদের কাছে ধর্ম নয়, মুনাফাই মুখ্য। তাই রোজার মাস তাঁদের জন্য আলাদা বা বিশেষ কোনো অর্থ বহন করে না। বরং সাধারণ মানুষের ধর্মানুভূতি ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তাঁদের জন্য বরতুল্য হয়ে ওঠে; তাঁরা চুটিয়ে ব্যবসা করেন। চাহিদা-সরবরাহের প্রসঙ্গ তুলে নিয়ম-নীতি, বাজারদরের তালিকা দূরে ঠেলে রাখেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্য দেশে যা ঘটে না, তা ঘটে বাংলাদেশে। প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। জনকল্যাণ বা জনসেবা সব ছেঁদো কথা। যত কায়দায় মুনাফার সর্বোচ্চকরণ সম্ভব, তা তাঁরা করেন। তাই মাংসে পানি ঢুকিয়ে ওজন বাড়িয়ে মুনাফা অর্জনের সুযোগ তাঁরা ছাড়বেন কেন? মাছে-সবজিতে রাসায়নিক ভেজাল মেশাবেন না কেন? বাস্তবে তা-ই তাঁরা করছেন, এ নিয়ে ভোক্তার অভিযোগের শেষ নেই। এই নীতিহীন ব্যবসায়ীরা আবার বণিক সংঘগুলোর নেতৃত্বেও ঢুকে পড়েছেন। ফলে সৎ ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা থাকলেও মুনাফাবাজির চক্র থেকে বেরোতে পারেন না। বেরোতে চাইলে সমিতি বেঁকে বসবে। অসততাই এখন রীতি। সৎ থাকেন বা থাকার চেষ্টা করেন কিছু বোকা লোক।
রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্রে পচা মাংস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ওজন বাড়ানোর জন্য মাংস পানিতে চুবানো হয়, এ অভিযোগও প্রবল। রোজার শুরু থেকেই অভিযোগ উঠছে, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে গরুর মাংস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা ও খাসির মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়; ওজনেও কম দেওয়া হয়। অবশেষে সেখানে একটি অভিযান হয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে অভিযোগের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পান। আদালতের সঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) প্রতিনিধি ও জেলা বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা ছিলেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অভিযান চালানো হয়। প্রতারণা ও বাজারদর অমান্য করায় কারাদণ্ড এবং জরিমানা করা হয়।
বাজারদর কখনোই মানা হয় না। রোজার মাস এলে চাহিদা-সরবরাহের ফারাক দেখিয়ে ইফতারসামগ্রীর জন্য জরুরি পণ্যগুলোর দাম আরেক দফা বাড়ানো হয়। সেই সঙ্গে বাজারে ভেজাল পণ্য ছাড়া হয়। তবে এ সময়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কিছু অভিযান চালায় এটাই ভরসা। অভিযানের সংখ্যা বাড়লে আরো ভালো হয়। আর সারা বছরই যদি এ মাত্রায় অভিযান চলত, তাহলে ভোক্তাসাধারণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারত। আমরা আশা করি, অন্তত রোজার মাসে বাজার মনিটরিং ও অভিযান ঠিকমতো চলবে এবং প্রতারক ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ

জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের অবস্থা দেখতে এসেছিলেন বলিউড ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। গত সোমবার বাংলাদেশে এসে চার দিন রোহিঙ্গা শিবিরে গিয়ে অনিশ্চিত জীবনে থাকা শিশুদের সঙ্গে খেলা, খুনসুটিতে মেতেছিলেন তিনি। চার দিনে উখিয়া ও টেকনাফের ১০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং সীমান্তের কাছে রোহিঙ্গা আগমনের ট্রানজিট পয়েন্ট ঘুরে দেখেছেন তিনি। রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছেন তাদের বাস্তবতা, তাদের সংকট। এরপর ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার ফিরে যাওয়ার আগে রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেছেন, একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ সব শিশুর প্রাপ্য। পৃথিবীতে নিজ কর্মের অবদান রেখে যাওয়ার মতো সুযোগ পাওয়া সব শিশুর অধিকার। কিন্তু রোহিঙ্গা শিশুরা তা থেকে বঞ্চিত। তাদের কিছুই নেই। খাদ্য নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই, বর্ষায় মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। এর মাঝেও তারা হাসছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, গত বছরের আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর এখানে যে গভীর মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে তার নজির এই শিশুরা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নেওয়া প্রায় সাত লাখ মানুষের ৬০ শতাংশই শিশু; যাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলে মনে করেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এই শিশুদের জন্য কাজ করছে ইউনিসেফ; তার অংশ হিসেবেই প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এসেছিলেন বাংলাদেশে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে সেখান থেকে ফেসবুক লাইভে রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে এই রোহিঙ্গা শিশুরা যে অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছে, তা কোনো শিশুরই প্রাপ্য নয়। আশ্রয়কেন্দ্রে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত এই শিশুদের যতœ নেওয়া এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। বিশ্ব সেই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে না এলে রোহিঙ্গাদের একটি প্রজন্ম পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন তিনি।
ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার এই সতর্কতা উচ্চারণ ও রোহিঙ্গা শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাড়া দিতে হবে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। রোহিঙ্গাদের, বিশেষ করে শিশুদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

বাজার নজরদারি বাড়ানো উচিত

রমজানে এখনো সহনীয় পর্যায়ে আসেনি পণ্যবাজার। যথেষ্ট মজুদ থাকার পরও মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হয়নি। নিত্যপণ্য তো বটেই, মাছ-মাংসও নির্দিষ্ট দামে বিক্রি হচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজারে গেলে দাম কমানো হয়, সরে গেলেই আগের দামে বিক্রি শুরু হয়। রমজান মাসে বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, র‌্যাব-পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিমসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পণ্যবাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও জালজালিয়াতির বিষয়ে নজর রাখবে। এতে বাজার সহনীয় থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের বাজার সিন্ডিকেট অনেক বেশি সক্রিয়। কর্তৃপক্ষের নজরদারি শুধু রমজানের বাজারকেন্দ্রিক না হয়ে যদি সারা বছর চালানো যেত, তাহলে হয়তো বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। বিকল্প বাজারব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে পারে। এবার রমজানেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কোনো কোনো পণ্যের দাম নির্দিষ্ট একটি পর্যায়ে গিয়ে স্থিতিশীল হলেও মাছ-মাংসের বাজার এখনো অস্থিতিশীল। রমজানের আগেই গরু ও খাসির মাংসের দাম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রমজান শুরুর পর নির্দিষ্ট দামে কোথাও মাংস বিক্রি হচ্ছিল না বলে অভিযোগ ছিল। একইভাবে মুরগির বাজারেও চড়া ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেই বাজারে নির্দিষ্ট দামে ব্রয়লার ও অন্য মুরগি বিক্রি হচ্ছে। আদালত সরে গেলেই অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরবরাহ কম এমন অজুহাতে মাছের বাজার রমজান মাসের শুরু থেকেই অস্থিতিশীল।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সবার আগে দরকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি। বিএসটিআই, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, র‌্যাব-পুলিশের ভ্রাম্যমাণ আদালত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং টিমসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আগে থেকেই সক্রিয় হলে রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারসাজি ব্যবসায়ীরা করতে পারবে না। বন্ধ হবে জালজালিয়াতিও। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকে সক্রিয় হলে বাজার যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তেমনি ভেজালের হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। রমজানের বাকি দিনগুলোতে বাজার সহনীয় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরো বাড়ানো উচিত বলে আমরা মনে করি।