লালাখাল বাঘছড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ রোহিঙ্গার প্রবেশ

23

মুরাদ হাসান, জৈন্তাপুর

জৈন্তাপুর সীমান্তের ১৩০২ মেইন পিলার এলাকার বাঘছড়া পয়েন্ট দিয়ে দালাল চক্রের সহায়তায় ভারত থেকে ৬ রোহিঙ্গা সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৯ বিজিবির লালাখাল বিওপি এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানে না বলে দাবি করেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের বাঘছড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন রোহিঙ্গা সদস্য প্রবেশ করে। এসময় স্থানীয় দালাল কামরাঙ্গীখেল দক্ষিণ গ্রামের মহিব মিয়ার ছেলে সুলেমান (২৭), নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে সেলিম (৩৫) ও বাবুল মিয়ার ছেলে আনোয়ার উরফে আনর (৩২) তাদেরকে বাঘছড়ার জঙ্গলে নিয়ে যায়।
এ দৃশ্য স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দেখেন। এর মধ্যে বাউরভাগ দক্ষিণ গ্রামের মো. আকবর আলীর ছেলে রোমান আহমদ (২৪) এবং আব্দুল মতিনের ছেলে আবুল (৪৫) ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে আনোয়ারকে রোহিঙ্গাদের সাথে আলোচনা করতে শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপরতা শুরু হয়।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহলদল ঘটনাস্থলে গেলে দালালরা দ্রæত তিনজন রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেয়। যদিও তখনও এক পুরুষ, এক নারী ও এক শিশুকে পাওয়া যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিজিবি তাদের ভিডিও ও ছবি ধারণ করলেও আটক করেনি।
এ প্রসঙ্গে সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে লালাখাল বিওপির কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনাটি জানেন না বলে জানান। প্রতিবেদকের কাছে ছবি ও ভিডিও থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে ক্যাম্পের বাইরে আছি, ফিরে বিষয়টি যাচাই করে জানাবো।” তবে রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো জবাব দেননি এবং ফোন রিসিভও করেননি।
এদিকে অভিযুক্ত সেলিমের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ঘটনার জের ধরে ভিডিও ধারণ ও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এতে মোবাইল ফোন ও নগদ ২ লাখ টাকা ছিনতাই হয় বলে অভিযোগ করেছেন মো. আকবর আলী। এ ঘটনায় বাউরভাগ গ্রামের তিনজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার মোহাম্মদ বররুজ্জামান বলেন, “আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”