দিরাইয়ে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজের বেহাল অবস্থা, কবে কাজ শেষ হবে কেউ জানে না

39
দিরাইয়ের হাওর রক্ষা বাঁধের কাজের বেহাল অবস্থা।

একে কুদরত পাশা সুনামগঞ্জ থেকে :
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধের কাজের বেহল অবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে। কাজের সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে অবস্থান করলেও কোন কাজই শেষ হয়নি। বাঁধের কাজ কবে শেষ হবে কেউ জানে না। বড় বড় ক্লোজারগুলো এখনো বন্ধ না করায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের বাঁধ পরিদর্শন করে সে চিত্র দেখা যায়। বাঁধে মাটি ভরাটের কাজ করলেও দুরমুজ, ড্রেসিং ও কলম বন লাগানোর কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। এছাড়া কিছু কিছু বাঁধে মাটি ফেলার কাজ শুরু হয়েছে, আবার কোনো বাঁধে ক্লোজার বন্ধ না করে অন্য জায়গায় মাটির কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধের কাজ দেখে মনে হয়েছে পিআইসির লোক জন বাঁধে মাঝে-মধ্যে সামান্য মাটি ফেলে কাজের চলমান গতি দেখিয়ে বিল তোলার চেষ্টা করছেন।
বরাম হাওর উপ-প্রকল্পের কি:মি: ৯.৬৪৯ হতে কি:মি: ৯.৭৬০, কি: মি: ৯.৯৫১=০.২৮০ কি:মি: বাঁধের বাঙ্গা বন্ধ করণ ও মেরামত কাজের সাইন বোর্ড দেখে জানা যায়, ২৩ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ করার কথা রয়েছে উক্ত প্রকল্পে বাজেট ধরা হয়েছে১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬৩৯ টাকা। বাঁধে গিয়ে দেখা যায় এলোপাতারি ভাবে মেশিন দিয়ে বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে তবে কাদিরপুর থেকে ধল এর মধ্যবর্তী স্থানে যে ক্লোজার রয়েছে সেখানে মাত্র মেশিন নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষকরা জানান, বাঁধের সভাপতি সদস্য সচিব যারা হয়েছেন তারা প্রভাবশালী মানুষ তাদের বিরুদ্ধে কারো কথা বলার সাহস নেই তাই তরা ইচ্ছে মতো কাজ করছেন। বিল তোলার জন্য ভাল রাস্তায় মাঠি ফেলছেন কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই যে দিকে হাওরে পানি প্রবেশ করবে সেখানে কাজ করছেন না। মাটির যে বড় বড় চাকা ফেলা হচ্ছে বৃষ্টি হলেই তা সড়ে যেতে পারে বাঁধে দুরমুজ দিয়ে সাথে সাথে মাটির বড় চাকা ভেঙ্গে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে তা হচ্ছে না। শুধু বাঁধ উচু করা হচ্ছে তার সাথে মিল রেখে স্লুপ ঠিক করা হচ্ছে না।
বরাম হাওর উপ-প্রকল্পের কি:মি: ৯.০৫০ হতে কি:মি:৯.৬৪৯= ০.৫৯৯ কি:মি: বাঁধের বাঙ্গা বন্ধ করণ ও মেরামত কাজের বাজেট ধরা হয়েছে ১৯ লাখ ৪ হাজার ৭শ ১৯ টাকা। এ প্রকল্পে কোথাও পাকা রাস্তার উপর দিয়ে আবার কোথাও পাকা রাস্তার পাশ দিয়ে মাটি ভরাট করা হয়েছে। বাঁধের স্লুপ না থাকায় এখনই বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ বাঁধেও দুরমুজ করার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি তবে কয়েকজন লেভার বাঁশের লাঠি দিয়ে বাঁধের স্লোপ ঠিক করার চেষ্টা করছেন।
বরাম গাওর উপ-প্রকল্পের কি:মি: ৮.১৪৯ হতে কি:মি: ৯.০৫০= ০.৮৮৬ কি:মি: বাঁধের বাঙ্গা বন্ধ করণ ও মেরামত কাজের বাজেট ধরা হয়েছে ২৪ লাখ ৮৩ হাজার ৪শ ৪৭ টাকা। এ প্রকল্পের কাজ চলছে ডিলেঢালা ভাবে। গাড়ি দিয়ে মাটি ফেলা হচ্ছে বাঁধের কিছু কিছু জায়গায়। কাজ দেখেই মনে মনে বিল তোলার জন্য লোক দেখানো কাজ হচ্ছে। যে জায়গা দিয়ে বাঁধ হচ্ছে সেখানে এলজিইডির সিবিআরএমপির ব্লকের রাস্তা ছিলো। সে ব্লক তুলে তার উপর মাটি ভরাট করা হচ্ছে। আর এ ব্লক বাঁধের স্লুপ এ দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, যে রাস্তার উপর ব্লক ছিলো সে রাস্তায় মাটি ভরাট করে উচু করা হচ্ছে আমরা আশা করি পিআইসির লোকচন বাঁধের মাটি ভরাটের কাজ শেষ করে আমাদের রাস্তায় আগে যেভাবে ব্লক ছিলো সেভাবেই ব্লক ঠিক করে দেবে। রাস্তার ব্লক বাঁদের সাইটে রাখা যাবে না।
টাঙ্গুয়ার হাওর উপ-প্রকল্পের কি:মি: ৬.০৭৮ হতে কি:মি: ৭.৯২১= ১.৮৪৩ কি:মি: বাঁধের বাঙ্গা বন্ধ করণ ও মেরামত কাজের বাজেট ধরা হয়েছে ২২ লাখ ৩ হাজার ৫শ ৫৭ টাকা। বাঁধের কিছু অংশে মাটি ভরাট করা হলেও বাঁধের প্রস্তের সাথে স্লুপের কোন মিল নেই। বাঁধটি এতটাই উঁচু এবং খাড়া হয়েছে সামান্য বৃষ্টি হলেই মাটির বড় বড় চাকা নেমে যাবে। ভালো রাস্তায় মাটি ভরাটের কাজ হলেও ভাঙ্গা গুলোতে এখনো মাটি ভরাটের কাশ শুরু হয়নি। এ কাজ নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে বাঁধ এলাকাবাসীর।
এ ব্যাপার দিরাই উপজেলার উপ-সহকারি প্রকৌশলী/ শাখা কর্মকর্তা মো: রিপন আলী জানান, ক্লোজারের কাজ ইতমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে পিআইসি ১৩ (ক) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় আমরা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। কোন পাকা রাস্তার উপর মাটি ফেলার নির্দেশনা নেই। যেখানে পাকা রাস্তা তার পাশ দিয়ে মাটি ভরাট করতে হবে। ব্লক কোন অবস্থাতেই বাঁধের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। আমাদের পোষ্ট ওয়ার্ক মেজারমেন্ট এর আগে বাঁধে অন্য কোন কাজ করা যাবে না। আমরা নিয়মিত বাঁধ মনিটরিং করছি। নিধারিত সময়ের মধ্যেই বাঁধের কাজ শেষ করা হবে।