পদ্মা সেতু নির্মাণে অগ্রগতি

অপার সম্ভাবনা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল একদিন, অনেক বাধা ও বিপত্তি পেরিয়ে সেই স্বপ্নপূরণে আরো একটি ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতুর পঞ্চম স্প্যান গতকাল শুক্রবার বসানো হয়েছে জাজিরা প্রান্তে। এই স্প্যান বসানোর সঙ্গে সঙ্গে সেতুর পৌনে এক কিলোমিটার অংশ এখন দৃশ্যমান। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, সামর্থ্যের ঘাটতি কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এমনকি পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্ব অর্থনীতির মোড়লের পিছিয়ে যাওয়াও আমাদের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। স্বপ্নসেতুর নির্মাণযজ্ঞে শুরু থেকেই যে গতির সঞ্চার হয়েছিল, তা এক দিনের জন্যও থেমে থাকেনি।
২০০১ সালে পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর পদ্মায় অনেক পানি গড়ালেও পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নিয়োগ করা হয় পদ্মা সেতুর ডিজাইন কনসালট্যান্ট। পদ্মা সেতুর মূল দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক নানা টালবাহানার পর ২০১১ সালে পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি স্থগিত করে, পরে চুক্তি বাতিল করে দেয়। এরপর নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ আর্থিক প্রস্তাব দাখিল করে। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২০ সালের মধ্যেই পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে। অর্থাৎ আর বছর দুয়েক পর পদ্মা সেতুতে চলবে গাড়ি ও ট্রেন।
আয়তন ও নির্মাণ ব্যয়ের দিক থেকে পদ্মা সেতু দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ৬.১ কিলোমিটারের সেতুটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম ও দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের নতুন এই সেতু চালু হলে তার হাওয়া লাগবে অর্থনীতির পালে। পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চেহারা পাল্টে দেবে। সেতু চালু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ১.২৩ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের সামর্থ্য ও যোগ্যতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি হবে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে। এখন দ্রুততম সময়ে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করতে হবে।