গোলাপগঞ্জে গৃহবধূ খুন

গোলাপগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
গোলাপগঞ্জে সুমি বেগম শাম্পু (৩৫) নামে এক গৃহবধূ খুন হয়েছে। তিনি গোলাপগঞ্জ পৌরসভার দাঁড়িপাতন গ্রামের (তেতইউলির) রিপন মিয়ার স্ত্রী। গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় দাঁড়িপাতন খালেরপার গ্রামের তেতইউলি বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার মুন্সিগঞ্জে। নিহতের স্বামী রিপন আহমদ ঢাকার একটি গার্মেন্সে চাকরী করেন। নিহতের মা বৃদ্ধা লুৎফা বেগম প্রতিবেদককে জানান, তাদের এই বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করতে নিহতের আপন চাচা আজিব আলীসহ তার ছেলেরা দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসছে। গতকাল বিকালে আজিব আলীর ছেলে শিবল,এমাদ ও দুলালসহ মৃত মজাইদ আলীর ছেলে খুদাই মিয়া আমাদের সকলের উপর দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীদের দায়ের কোপে আমার মেয়ে মাঠিতে লুটিয়ে পড়লে পুলিশ আসছে খবর পেয়ে হামলাকারীরা জায়গা ত্যাগ করে। এ সময় আমার মেয়েকে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি আর কিছু জানি না। তারা আমাকেও রক্তাক্ত করে যখম করে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান পাশ্ববর্তী লোকজন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা বাড়ী আসি। তাদের হামলায় আমি হাটতে পারছি না। নিহতের মেয়ে শিশু রিপা জানায়, আমার আপন রক্তের মামা জসিম উদ্দিন (২৭) এগিয়ে এলেও পুলিশ দেখে পালিয়ে যান। এর আগেই তারা আমার মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। মাথাসহ শরিরের বিভিন্ন অংশে দা দিয়ে কূপায়। নিহত গৃহবধূর সুমন আহমদ (১৫) ও রিপা বেগম (৯) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। নিহতের ছেলে সুমন আহমদ সিলেট জকিগঞ্জ সড়কের দাঁড়িপাতন চেয়ারম্যান বাড়ীর সামনে একটি গ্যারেজে কাজ করে ও মেয়ে রিপা দাঁড়িপাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী। নিহতের মা লুৎফা বেগম (৬২) স্বামী ছওয়াব আলী মারা যাওয়ার পর থেকে মেয়ের বাড়ীতে বসবাস করে আসছেন। তার গ্রামের বাড়ী ঢাকার মুন্সিগঞ্জে। রাত সাড়ে ৯টায় সরেজমিন নিহতের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় মা লুৎফা বেগমের কান্নায় আকাশ বাতাশ ভারি হয়ে উঠছে। আমার মেয়ে সুমিকে এনে দাও বলে কান্না করছেন নিহতের মা। বৃদ্ধা লুৎফা উপস্থিত পুলিশকে বার বার বলছেন আমার মেয়ে সুমির মোবাইলে একটা কল দিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দাও। তোমার মেয়ের উপর হামলা করায় পুলিশ তাদের ধরতে এসেছে বললে তিনি বলেন,তারা টাকা দিয়ে সবকিছু সামলে নিবে। পুলিশ হামলাকারীদের কিছুই করবে না। আমার মেয়ের সাথে একবার আলাপ করিয়ে দাও। পুলিশ জানায়, নিহত সুমি বেগম শাম্পুকে মুমুর্ষ অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি খুনের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন,কার হামলায় সুমি বেগম নিহত হয়েছেন তার এখনও সঠিক কোন কারণ জানা যায়নি। তবে তদন্ত চলছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের কাছ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।