ডিজিটাল নিরাপত্তা

 

‘ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল-২০১৮’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে সোমবার রাতে। বিল উত্থাপনের আগে বিরোধীদলীয় একজন সদস্য জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেছিলেন। তাঁর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত এ আইনের বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। সমাজে-সাহিত্য অঙ্গনে-গণমাধ্যমে বিস্তর কথাবার্তা হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বিষয়ে বিরূপ সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়। বলা হয়েছিল, ৫৭ ধারার ফাঁড়া যাতে আর না থাকে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু খসড়ার ৩২ ধারা নিয়ে পুরনো শঙ্কা-সংশয় নতুন করে হাজির হয়। প্রতিবাদও করা হয়েছে। তখন সরকারপক্ষ বলেছিল, পর্যালোচনা করে শঙ্কা-সংশয় দূর করা হবে। কিন্তু সেই ৩২ ধারা রেখেই বিলটি উত্থাপন করা হলো।
৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা তথ্য-প্রযুক্তি আইন থেকে বাদ দেওয়া হলেও সেসব ধারার বিষয়বস্তু আরো বিশদে এ আইনে (৩২ ধারা) যুক্ত করা হয়। এ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার অতি গোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করলে বা করতে সহায়তা করলে তিনি কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত হবেন। এ জন্য তিনি অনধিক ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। এতে বিরূপ সামাজিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সাংবাদিক মহল ক্ষুব্ধ হয়। তারা আন্দোলনও করে। পূর্ব অভিজ্ঞতার নিরিখে সবাই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে এতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হবে। এর অপপ্রয়োগ হবে। বিলে জন-আপত্তির মূল বিষয়টিই রয়ে গেছে। এজাতীয় ধারা বাকবাধীনতা হরণ করার নামান্তর। এটি নাগরিকের ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার লোকের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। ৩৯/খ ধারা নিয়েও আপত্তি রয়েছে। কয়েকটি অপরাধে জামিন না দেওয়ার বিধি সংযোজিত হয়েছে, যা নাগরিকের আইনি অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ বলেই গণ্য। পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাবিষয়ক ধারাটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছে।
আইনের অপপ্রয়োগের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় ‘বিধিবলে বলীয়ান’ হওয়ার সুযোগ থাকলে নাগরিকদের হেনস্তার হাত থেকে রক্ষার উপায় থাকবে না। ‘৩২’ ধারায় ‘৫৭’ ধারা ঢুকিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য জনবান্ধব হবে বলে আশা করা যায় না। ‘নিরাপত্তা’র জন্য এজাতীয় ধারা আবশ্যক নয়।