রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধান হউক

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞের কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আজ চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশও আজ এক কঠিন অবস্থা মোকাবেলা করছে। মানবতার এমন করুণ পরিণতিতে বিশ্বসম্প্রদায়ও আজ যারপরনাই উদ্বিগ্ন। আর সেই উদ্বেগ প্রকাশ করতেই গত শুক্রবার ঢাকায় এসেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকটই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। তা না হলে এই সংকট নানামুখী ডালপালা বিস্তার করতে পারে। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশও একমত প্রকাশ করেছে। উভয় পক্ষই মনে করে, এই মানবিক বিপর্যয় মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে, তাই এর সমাধানে মিয়ানমারকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট সমাধানে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার হিসাবেই নতুন-পুরনো মিলিয়ে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। বাংলাদেশের মতো দুর্বল অর্থনীতির একটি দেশের পক্ষে দীর্ঘদিন এদের ভরণ-পোষণ চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব, জীবনমান রক্ষার তো প্রশ্নই ওঠে না। সামনে বর্ষাকাল। পাহাড়ধসে প্রতিবছরই বহু মানুষের মৃত্যু হয়। পাহাড়ের ওপর খুপরি বানিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের অবস্থা তখন আরো বিপর্যয়কর হয়ে উঠবে। তাদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার প্রশ্নটিও এরই মধ্যে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। মানবপাচারকারীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই শুধু ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীই নন, আরো অনেক বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকেও অনুরূপ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে তা নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে মিয়ানমার, বাংলাদেশসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যাপক অশান্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা জরুরি। তবে তা করতে হবে নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে। আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে হবে। আর সেই কাজগুলো করার দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারের। উভয় দেশ সেভাবেই এই সংকটের সমাধান চায়। বাংলাদেশ থেকে বিমানযোগে ব্রিটেনে সরাসরি পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, শিগগিরই এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। তিনি আশা করেন, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। আমরাও চাই কমনওয়েলথভুক্ত দেশ দুটির সম্পর্ক আরো জোরদার হোক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হোক।