বিভাগ: সাহিত্য

চোখের জলে

আয়েশা সিদ্দিকা আতিকা

চোখের জলে কাব্য লিখি
লিখি মনের কথা
মনের কষ্ট চেপেই রাখি
বুঝতে দেয়না ব্যথা।

হৃদয় সাগরে উথলে উঠে
বয়যে ব্যথার ঢেউ
আমার কষ্ট শুধুই আমার
জানবে নাতো কেউ।

হাসবো আমি সবার মাঝে
শুধুই যাবো হেসে
দুঃখগুলো ফেলবো ছুড়ে
যাবে সুদূর ভেসে।

গড়ব আমি সবার মাঝে
আনন্দ মহল
হাসবো সেথায় শুধুই মুছে
দু’চোখের জল।

জীবনে ফিরতে দাও

অর্জুন রায়

ও ঘুমানো মেয়ে
প্রেম-অপ্রেমের ধূষর কবিতায়,
গল্পে দাড়ি,আয়না আড়ি;
শত প্রহরের প্রতীক্ষার সমাপ্তি।
গেঁথে থাক সকল অপ্রাপ্তি
সাদা পাতায়।
ফিরতে দাও আমায়,
আমার জীবনে;ফিরতে দাও আমায়।
ও বিলাসী মেয়ে
দিনে-রাতে তুমি সাথে
ফুটপাথে ধুলো কাদায়
স্বপ্নে কিংবা স্বপ্নে নয়
অনুভূতির নিত্য নতুন পাহারায়,
আমি বাসি,ফুলগুলো বাসি নয়।
ফিরতে দাও আমায়,
আমার জীবনে;ফিরতে দাও আমায়।
ও আহ্লাদী পাগলী মেয়ে
প্রথম চুম্বনের লম্বা নিঃশ্বাস
স্নায়ু তরঙ্গের বিচ্ছিন্ন বিঃশ্বাস
সেতো প্রথম দিনের গান
কিংবা হারানো দিনের সুর।
শরীরের স্বাদে-প্রাণের আহ্লাদে
অনুভূতি হাত রাখে হাতে
পারি না এড়াতে,
সব শূন্য মনে হয়।
ফিরতে দাও আমায়,
আমার জীবনে;ফিরতে দাও আমায়।

শ্রাবণের সুর্বণা

মোঃ হযরত আলী

সে যেন হৃদয় গগনে দীপ্ত সুকতারা
প্রখর রোদ্রে বৃক্ষের ছায়া
বহমান সুবাসিত সমীরে,
দীর্ঘ শ্বাস টানা।

অজানা ভাবনার রানি সুর্বণা
জেনে শুনে হয় না ভালোবাসা
হয় পশু হাটায় বেচাকেনা।

ভালবাসা, কোন অজানা আর্কষণে মন দেয়া নেয়া
সেটা মনেরি আজানা।

এ আবেগী হৃদয়ে গভীরতা
মাথাভাঙ্গা তটিনীর অজানা ।

তবে তোমার তো ছিল জানা!!
নিশিতে কথা বলা
শত  কর্মের ফাঁকে এফ বি তে আড্ডা।

হে ললনা, আজো কি তুমি বুঝেও বুঝো না?
নাকি, করেছো প্রেমের  নামে ছলনা ?
এতো নয় লিপির ছেড়া ভালোবাসা,
অশ্রুতে ভাসিয়ে বুক ফোলাব চোখের পাতা ।

তুমি শ্রাবণের সুর্বণা!
শত দুর্যোগ মাড়িয়ে,
বাধার পাহাড় পেরিয়ে,
করবে প্রেমের জয়ও ঘোষণা।

পর হলে বেঁধে ঘর

শাহিন আলম সরকার

তুমি শুধু দিলে মোরে, শুধুই বেদনা।
কেন দিলে এত কষ্ট, দিয়ে যে ছলনা।
কখনো তোমার কাছে, চাইনি কিছুই।
তবু দিলে শুধু জ্বালা, কি বা আর কই।
মোর হাত ছেড়ে দিয়ে, চলে গেলে দূরে।
বিশ্বাস ছিল আমার, আসবে যে ফিরে।
বহু পথ হাঁটা হল, শুধু একা একা।
পথ মাঝে হলে দেখা, চলে যাও বাঁকা।

হৃদয়হীনার মত, কেন আচরণ?
পাই না খুঁজে তোমার, সেই তো কারণ।
কি এমন দোষ হত, একটু দাঁড়ালে।
নাকি পর ভেবে মোরে, দিলে দূরে ঠেলে।
আজ মন বলে ওঠে, তুমি যেন পর।
সত্যিই কি হলে পর, বেঁধে সুখে ঘর।

অমূল্য

শরীফ আহমাদ

লক্ষ টাকার সোনার মোহর চাই না আমি
চাই না রাজার সোনার মুকুট মুক্তো দামি।
সুখের প্রাসাদ মোতির মহল যদি না পাই
চন্দন পালঙ্ক না থাকলে ক্ষতি নাই।

শতেক দাশের না পাই যদি চরণ সেবা
প্রেমের কাব্য বলার না কেউ থাকলে কি বা।
চলার পথের লক্ষ জনের ফুল আর কলি
নানান রঙ্গের গালিচা না দু’পায় দলি।

রাজার দুলাল হলে সবাই করত যতন
সুখ সাগরের রঙ্গিন নায়ে ভাসত জীবন।
চাই না কিছুই মনের মত মন যদি পাই
দুঃখ সুখে গা ভাসিয়ে জীবন কাটাই।

তেমনটি এক অমূল্য মন দাও না এনে
যে মন কভু যায় নাকে না রাজার ধনে।

ভালোবাসার আলতো ছোঁয়া

গণেশ চৌধুরী

আজ আবার সহস্র বছর পর
আয়নায় সামনে এসে দাঁড়ানো
তোমার ধূসর অতীতের খোঁজে।
এখানেই তুমি টিপ পরতে…….
এলোমেলো চুলগুলো ঠিক রেখে
শাড়ির কুঁচি ঠিক করতে করতে বলতে-
“কি দেখছো? কটা চুল পাকলো?
তুমি বুড়ো হলেও আমি কিন্তু বুড়ি হয়নি…”
আমি আনমনে কলপ করে যেতাম…….

ভালো খারাপ সব অভ্যাস গুলোই
কেটেছে এখানে তোমার সাথে
হাতে হাত রেখে শূন্যতায় মাথা গুঁজে।
সকালে উঠে দাঁত মাজা থেকে শুরু করে
সন্ধ্যায় চপ আর মুড়ি মাখা এই সংসারে
একটু রাত বাড়তে বাড়তে অভ্যাস গুলো
চিন্তা মুক্ত, ভালোবাসার আলতো ছোঁয়ায়
চোখের সামনে ভেসে ওঠা আমূল তারামণ্ডলে
নিঃশ্বাসের ব্যবধানে জড়িয়ে নিতাম নিজেকে ….

তুমি আছো আমার আশে পাশে না আমি ?
শুধু নিজেকেই খুঁজেছি না তোমাকে? অতীতের
আয়নার আশে পাশে এই সহস্র বছর পরে আবার
লোভ লালসায় না অফুরান ভালোবাসায়
কোনো এক দিন তুমি আসবে……..
পাকা চুলে কলপ করে বলবে-
“আজ কাল তোমায় বেশ বুড়ো দেখায়”।
মাথায় হাত বুলিয়ে আলতো ছোঁয়ায়
সহস্র বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে
আমায় জড়িয়ে নেবে তোমার চির নিন্দ্রায়।

চিঠি

বিকাশ দাস

তুমি লেখো তোমার চিঠিতে
লেখো
আমি ভালো আছি।
খুঁজে পেয়েছি কঠিন আলোর রোশনীর ভেতর
আমার ভালো থাকা ।
আমিও
লিখেছি আমার চিঠিতে
আমি ভালো আছি ।
খুঁজে পেয়েছি অর্ণবের গভীরে নদীর   উৎস ।
তোমার আঙুলে আমার ভালো থাকার স্পর্শ ।
আমার আঙুলে তোমার ভালো থাকার স্পর্শ ।

একদুজনের চিঠি নিয়ে হাতে
থাক পড়ে দরজায় খিল
ঠোঁটের স্তব্ধতায় অশ্রুর ঝিল
বহুবর্ণ আলোর চাক আকাশে
চিঠির শব্দের গুঞ্জন  বাতাসে।

তুমি ভালো আছো ।
আমি ভালো আছি ।

অসমাপ্ত প্রেম

এমরান আহমদ

ভালোবাসা কখনই শেষ হবার নয়, আর কখনো শেষ হয় না। জনম জনম রবে এই ভালবাসা। ভালোবাসটা স্বর্গ থেকে আসে আবার স্বর্গেই চলে যায়। প্রেম মানুষের জীবনে একবারই আসে। সত্যিকারের ভালবাসা একবারই আসে। আর মানুষ একবারই প্রেমে পড়ে। কেউ চাইলে কারো প্রেমে পড়তে পারে না। এটা সক্রিয়ভাবেই অনুভ’ত হয়। আর এই প্রেম-ভালোবাসা যদি থেকে যায় অপূর্ণ। তাকে বলা যেতেই পারে অপূর্ণ ভালোবাসা।
রাজ নি¤œবিত্ত নয়, আবার মধ্যবিত্তও নয়, এর ঠিক মাঝামাঝি পরিবারের সন্তান। ৫ ভাইবোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ছোট হিসেবেই সবার কাছে আদরের বটে। বাবা অকালেই চলে যাওয়ার পর পরিবারের হাল ধরেন বড়ভাই। টেনে পরিবারটাকে একটি ভিত্তের মধ্যে নিয়ে যান। এক সময় বোনদের বিয়ে হয়।  ভাইও বিয়ে করেন। সব পরিবারেই পারিবারিক কলহ রয়েছে। ঠিক সেই রকম এক কলহের কারণেই আলাদা হয়ে যায় তার ভাই। সংসারের হাল ধরতে হয় রাজকে। যে সময়টাতে তাকে খেলাধূলা আর লেখাপড়ার কথা ঠিক সেই সময়ই তাকে বেঁচে থাকার তাগিদে নেমে পড়তে হয় কাজের সন্ধানে। তার পরিবার বলতে সে এবং তার একমাত্র মা। তার মা’ই তার জীবন। অনেক সুখেই চলে তাদের এই ছোট্ট সংসার।
আর এই জীবন সংগ্রামের মধ্যেই নিজের অজান্তে প্রেমের সাগরে নিজেকে ভাসিয়ে দেয় রাজ। এটাই ছিল তার জীবনের প্রথম এবং শেষ প্রেম। তথ্য প্রযুক্তির এই বিশ্বে মোবাইল ব্যবহার যতদিন যাচ্ছে তথই বেড়েই চলেছে। মোবাইল ফোন যতটা উপকারী ঠিক তার বিপরীতে অপকারিতাও রয়েছে। আর সেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়, পরিণয় এবং বিচ্ছেদ।
রাজধানী ঢাকার মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে চাঁদনী। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। অনেক আদরেরও বটে। খেলাপড়ার পাশাপাশি পারিবারিক অনেক কাজেই তার সহযোগিতার কমতি নেই। সেই তথ্য প্রযুক্তির জোরেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় রাজের।
তখন ঘড়ির কাঁটায় বিকাল ৪ টা। হাঠৎ রাজের মোবাইল ফোনটা ক্রিং ক্রিং শব্দে বেজে উঠল। ফোনটা রিসিভ করে হ্যালো বলল। ওপাশ থেকে প্রথম ১০ সেন্ডের মতো কোন শব্দ নেই। শুধু নিরবেই রাজের হ্যালো শুনে যাচ্ছিলো চাঁদনী। ঠিক ১০ সেকেন্ড পর ওপাশ থেকে রাজের কানে আসে হ্যালো। রাজ থমকে দাঁড়ায়। এতো সুমধুর কন্ঠ সে আগে কখনো শুনেনি। তখনই রাজ প্রশ্নের বানে জর্জরিত করল চাঁদনীকে। হ্যালো কে বলছেন?, কোথা থেকে বলছেন? কেন ফোন করেছেন? ইত্যাদি।
ফোনের অপাশ থেকে চাঁদনী রাজের এই নাম্বারটা একটা মেগাজিনের মধ্যে পেয়েছে এবং কৌতুহলবশত সে ফোন করেছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। এরকম দু’ একটা কথা বলেই তাদের বিদায়। কিন্তু এই দু একট কথায় রাজের হৃদয়ে ঢেউ তুলে গেছে।
রাজ বেশ কিছুদিন আগে একটি পত্রিকার মেগাজিনে কৌতুক পাঠায়। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সেই কৌতুকটি প্রকাশ করে। যা রাজ নিজেও জানে না। পরবর্তীতে রাজ ওই মেগাজিন দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় আবার রাজ নিজে থেকেই চাঁদনীকে ফোন করে বিষয়টি খুলে বলে। এই নিয়ে তাদের মধ্যে কথা বিনিময় হয়। একদিন দুইদিন এরকম তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন কথা হয়। এক পর্যায়ে নিজেদের অজান্তেই ‘স্বর্গ থেকে আসা প্রেমে’ পড়ে যায় দু’জন। একে অপরের সুখ-দু:খের কথামালা বিনিময় করে। চাঁদনী সকালে কলেজে যায়, দুপুরে ফিরেই বাকি সময় চার দেওয়ালের মধ্যেই জীবনটাকে সাজানোর চেষ্টা করে। নিজের যতটুকু স্বপ্ন তার চেয়ে কম পেয়েছে।
দু’জনের মধ্যে ভালোবাসার কমতি ছিল না। একে অপরে না দেখেই গভীর প্রেমে জড়িয়ে পড়ে দুজন। একদিন চাঁদনী রাজকে প্রশ্ন করে আমরা সারা জীবন একসাথে থাকতে পারবো। সুখের একটি সংসার হবে আমাদের। আমারতো অনেক স্বপ্ন। তোমাকে নিয়ে আমার ভুবনের স্বপ্নগুলো মনের ক্যানভাসে সাজিয়ে রেখেছি। ‘আমি সকালে ঘুম থেকে ফ্রেশ হয়ে তোমার জন্য নাস্তা তৈরি করব। তোমাকে বার বার ঘুম থেকৈ উঠার জন্য ধাক্কা দেব। কিছু দুষ্টুমি করে তোমার ঘুম ভাঙাবো। তুমি ঘুম থেকে ফ্রেশ হবে। তারপর দুজন একসাথে নাস্তা করব। তুমি রেডি হয়ে অফিসে যাবে, তার পর আমি পুরোদস্তুর গৃহিনী হবো। দুপুরে তুমি বাসায় আসবে না। ফোন করে তোমাকে দুপুরের খাবার খেয়েছো কিনা প্রশ্ন করব। তাড়াতাড়ি বাসায় ফেরার তাগিদ দেব। রাতে বাসায় ফিরে আসলে এক সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যাবো। তুমি আমার কোলে মাথা রাখবে, আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেব ইত্যাদি।
তখন রাজ চাঁদনীকে প্রশ্ন করে তুমি যে স্বপ্ন দেখছো আমিও সে রকম স্বপ্ন দেখি। আমাদের সন্তানকে নিয়ে আমরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাচ্ছে। আমার পিঠে করে সন্তান চড়ে বেড়াচ্ছে। তুমি মাঝে দুষ্ঠুমি করছ ইত্যাদি। রাজ বলে হ্যাঁ আমরা স্বপ্ন দেখতেই পারি। স্বপ্ন দেখাতো অন্যায় কিছু নয়। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে হবে। চাঁদনী বলে উঠে কিভাবে? রাজ বলে সময় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন চাঁদনী বলে, সময় মনে হয় কখনো হবে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে আমার পরিবার। আমার পরিবার চাইবে না, আমি দূরে কোথাও যাই। তখন রাজ চাঁদনীকে প্রশ্ন করে, পরিবারের মধ্যে তুমি কাকে বেশি ভয় পাও? তখন চাদনী বলে আমার আম্মুকে। কেন? তখন রাজ বলে তোমার আম্মুর সঙ্গে আমি কথা বলব। চাঁদনী বলে কিভাবে। রাজ বলে তোমার আম্মুর মোবাইল নাম্বারটা আমাকে দেবে। পরে যা করার আমি করব।
রাজ চাঁদনীর মাকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে এবং একটি আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করে। আর সেই আতœীয়তার বন্ধনেই রাজ এবং চাঁদনীর প্রথম দেখা হয়। সময়টা ঈদের কয়েকদিন পরই রাজ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ঢাকায় এ নিয়ে রাজ দ্বিতীয়বার যাবে। ঠিক মতো রাস্তাঘাটই চিনে না। অথচ প্রেমের টানে ভালোবাসার মানুষের টানে অজানা শহরের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে।
ঢাকায় পৌছেই চাঁদনীর বাড়ির পাশেই একটি হোটেলে উঠে রাজ। চাঁদনীর সঙ্গে চলছে ফোনে কথা। রাজ তখন চাঁদনীর আম্মুকে ফোন দিয়ে বলে, আমি একটা কাজে ঢাকায় এসেছি। তো আসলাম যেহেতু তাই আপনার সাথে দেখা করতে চাই। তখন বললেন তোমাকে কিছুক্ষণ পর তোমার আঙ্কেল গিয়ে নিয়ে আসবেন। রাজ তার অবস্থানের কথা চাঁদনীর আম্মুকে জানায়। তখন চাঁদনীর বাবা রাজকে নিয়ে তাদের বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা হন। রাজ চাঁদনীর বাবার পেছন পেছন অন্ধকার গলির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে আর ভাবছে, আমি যেন তার দেখা পাই। এক সময় বাসায় পৌছে রাজ। চাঁদনীর আম্মু ও আব্বু ও ছোট ভাইয়ের সাথে তার কথা হয়। কিন্তু যাকে দেখার জন্য এতোদূর আসা তাকে চিনবে কি করে। কারণ তারা দুই বোন দেড় বছরের ছোট বড়। তাদেরকে দেখে বুঝার উপায় নেই কোনটা বড় কোনটা ছোট। কিছুক্ষণ পর আসে সেই কাক্সিক্ষতক্ষণ। চাঁদনী ও তার বোন শ্রাবনী চা নিয়ে এসেছে। চাঁদনীর আম্মু পরিচয় করিয়ে দেবার আগে নিজের ভালোবাসার মানুষকে চিনতে ভুল করেনি রাজ। চোখের চাওয়ায় একে অপরের দীর্ঘদিনের আকাঙ্খিত মুহূর্তের কাছাকাছি তারা। পরে চাঁদনীর আম্মু তাদের সাথে রাজের পরিচয় করিয়ে দেন। রাতে খাবার দাবার পর বাসা থেকে চলে আসে রাজ। এভাবেই কয়েকবার তাদের দেখা হয়। কিন্তু কখনো চাঁদনীকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়া হয়নি রাজের। চাঁদনীকে নিয়ে আইসক্রিম, বাদাম খাওয়া হয়নি রাজের। এভাবেই চলে যায় কয়েকটি বছর। বয়স বাড়তে থাকে, স্বপ্ন বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে তাদের ভালোবাসার পরিধি। হঠাৎ করেই চাঁদনীর জীবনে কিছুটা পরিবর্তন দেখতে পায় রাজ। সেই পরিবর্তনই যে রাজের জীবনকে নি:স্ব করে দেয়।
ঈদের ছুটিতে রাজ চাঁদনীর বাসায় যায়। আর সেখানেই একটি ছেলেকে দেখে আকাশ ভেঙ্গে পড়ে রাজের মাথায়। চাঁদনী রাজকে তাদের বাসার জানালা দিয়ে একটি ছেলেকে দেখায়। রাজ তখন বুঝে উঠতে পারছিল না। কে সে? রাজ তখন প্রশ্ন করে কে ও। কেনই বা আমাকে দেখাচ্ছো। তখন চাঁদনী তাকে জানায় ওই ছেলেটির সাথেই তার বিয়ে হবে। রাজকে ভালোবাসতে পারবে, কিন্তু কখনো তাকে পাওয়া হবে না। কারণ তার পরিবার সেটা মেনে নেবে না। এমন কথা শুনে রাজ আর সহ্য করতে পারেনি। ঠিক ওই মুহূর্তেই চলে আসে তাদের বাসা থেকে।
এরপর কেটে গেছে অনেকগুলো বছর। চাঁদনীর মায়ের সঙ্গে রাজের মাঝে মধ্যে যোগাযোগ হয়। ঠিক আগের মতো না। সে দিনের পর থেকে চাঁদনীকে আর একটি বারের জন্য দেখতে পারেনি রাজ। কিন্তু চাঁদনীকে ছেড়ে থাকতে রাজের খুব কষ্ট হয়। কষ্ট বুকে লালন করেই নিজের নতুন জীবন শুরু করে রাজ। পরিবারের পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করে জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করে। এক পর্যায়ে রাজের একটি মেয়ে হয়। নিজের প্রথম ভালোবাসাকে কখনো যাতে ভুলতে না পারে সেজন্য নিজের প্রিয় সন্তানের নামটিই ভালোবাসার মানুষের নামে রাখে।
এসব ঘটনার প্রায় ৪ বছর পর হঠাৎ রাজের মোবাইলে একটি ফোন আসে। হ্যালো শব্দ শোনার পর থেকেই রাজের শরীর নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। আর কোন কথা বলতে পারছিল না। এক পর্যায়ে রাজ শুধু একটি কথায় বলে, তুমি কেমন আছো। তখন চাঁদনী বলে ভালো আছি, তোমাকে ছেড়ে ভালো আছি, কিন্তু একটি বারের জন্য ভুলতে পারিনি। পারলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানায়। চাঁদনীও রাজের মতো বিয়ে করেছে, একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে তারও। পরিবার নিয়ে অনেক সুখেই আছে। তবু প্রথম ভালো লাগা, ভালোবাসা জীবনের শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত ভুলা যায় না। রাজ ও চাঁদনীর মধ্যে পারিবারিক অনেক বিষয়ে কথা হয়। রাজ ও চাঁদনীর ভালোবাসা অসমাপ্তই থেকে যায়। এ ভালোবাসর কোন শেষ নেই, আজীবন তাদের এই ভালোবাসা বেঁচে থাকবে।

মনে পড়ে তোমায়

মু. আব্দুল কাদির জীবন
(মাওলানা এমদাদুর রহমানের স্মরণে)

দাদা তোমার সুর শুনেছি
দেখতে নাহি পারি
তোমার স্মৃতি স্মরণ হলে
আজ ও আমি কাঁদি।

যেমন ছিল জন্ম তোমার
তেমন ছিল কর্ম
গুণ দিয়ে ছড়িয়ে দিলে
এ সমাজের জন্য।

মানুষ লোকের ভীর ছিল
মৌলই সাহেবের বাড়ী
তোমার দেখা পেতে হলে
সবাই বাঁধতো সারী।

দাদা, যদিও তুমি চলে গেছ
মহান আল্লাহর কাছে
যুগ যুগ ধরে থাকবে তুমি
আমাদেরই পাশে।

মানুষ

পিযুষ চক্রবর্তী

স্রষ্টার অসীম ক্ষমতার লীলাময় জগতে
বংশগতি দেহ রস দ্বারা গঠিত,
অস্তি, মজ্জা, রক্ত, ত্বক সমন্বিত
ভূমিষ্ট থেকে মৃত্যু পূর্ব পর্যন্ত গতিশীল
অবয়বের নামই মানুষ।

দেহের ভিতরের চেতনাশীল মান ও হুঁশ নিয়ে
অর্জন করতে চায় সে জাগতিক সুখ
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিবৃত্তি সম্পন্ন আত্মবিকাশ
প্রজাতি-ই মানুষ।

যার দেহ, মন, প্রাণ জুড়ে রয়েছে মায়া,
মমতা-লালিত্য, সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য ও উদ্ভাবনীগুণ
জ্ঞান ও চরিত্র বলে নিজ হিত ও পরোপকারী মনে
রাখে সর্বদা ¯্রষ্টা ভীতি, সৃষ্টিতে আছে প্রীতি
মনুষ্যত্ববোধই মানুষের চলার সাথি।

যে বা করে আপন দেহ ও মনের কল্যাণ
অন্তর্ধানে রাখে স্রষ্টা আছেন সঙ্গোপনে
কাজ করে জীবিকা উন্নয়ন ও সকলের কল্যাণে,
জ্ঞান, বিবেক, বুদ্ধি ও মূল্যবোধ কাজে লাগিয়ে
দেশ ও সমাজের কল্যাণে অনন্য অবদান
রাখে যে, কীর্তিমান মানুষ সে।