বিভাগ: সাহিত্য

মানবতার খোঁজে

সাইয়িদ রফিকুল হক

মানুষ খুঁজে আমার মতো
তুমিও বুঝি হয়রান বন্ধু,
মানুষ কোথায় পাবে তুমি
সময়টুকু হারাবে তাই শুধু!
সবই আছে এখন দেখি
ফুর্তি-ভোগের কত আয়োজন!
আজ নাই শুধু মনুষ্যত্ব
সবার আগে যা প্রয়োজন।
তবুও বন্ধু খুঁজে দেখো
কোথায় আছে মানবাত্মা,
মানবতার খোঁজে বন্ধু
শুভ হোক আমাদের যাত্রা।

এই পৃথিবী

জাকারিয়া আনসারী

জীবনকে ভালোবেসে যাও,
তাকে খুঁজতে যেও না,
কিছুই নাই তার হাতে দেবার তোমায় ,
শূন্যতার নাম জীবতত্ত্ব
দিতে দিতে এক দিন তুমি,
উত্তর খুঁজে পাবে।

সেদিন তুমি মাটির কাছে,
আশ্রয় চাইবে।
আরোহণ-অবহরণ,
চলছে-চলবে জীবনচক্র,
ঘুরে-ঘুরে নাম গন্ধও থাকবে না।

আমার আর তোমার ইচ্ছে হলেই ,
সব ভেঙ্গে দিতে পারি না।
নিজের সুখ ছিনিয়ে আনা যায়,
এটি পৃথিবী,
নিয়মাবলি আছে,
আছে বিধিবিধান।
পরকালে করতে হবে জবাবদিহিতা।

তোমারি নাম

শাহীন নীল

আমি একটা নীল কবিতা লেখবো,
সেই কবিতার শিরোনাম হবে,
তোমারি নাম শুধু তোমারি নাম।।

কবিতা হবে একান্ত তোমার জন্যই,
ভালোবাসা আর প্রেম দিয়ে থাকবে ভরা।
কবিতার নেশায় তুমি মুগ্ধ হবে,
হবে জয় তোমার ভালোবাসার।

আমি যা দেখেছি,
আর আমার বুকের ভিতরে যে আওয়াজ,
বারবার শব্দ করে ওঠে,
সেই শব্দে আমি নীল কবিতা লেখবো,
সেই কবিতায় শুধু তোমারি নাম লেখা থাকবে।।

বর্ণ বর্ণ দিয়ে সাজাবো,
আর লেখবো মন উজাড় করে
সব টুকু ভালোবাসা দিয়ে থাকবে,
তোমারি নাম শুধু তোমারি নাম।।

প্রকৃত বন্ধু শুধু বাড়ন্ত

সুবীর সেনগুপ্ত

অসংখ্য রাত জেগে তো ভাবিনি
কিন্তু ভেবেছি অসংখ্যবার
এ জীবনে চাই একটাই সাথী
যে হবে প্রকৃত বন্ধু আমার।

অনেক অনেক বন্ধু আমার
তাই তো সকলে বলে, আমি শুনি
তারা আসে যায়, আমি পাই কথা
সরলতাহীন বন্ধুর খনি।

প্রকৃত বন্ধু যায় নাকি পাওয়া!
অন্বেষণের শেষে সব হাওয়া
মহাসিন্ধুতে কোথায় খুঁজব!
এ যেন মৃতের প্রাণ ফিরে পাওয়া।

বন্ধু না হলে এ জীবন খালি
হোক না যতই স্বজন পোষণ
একটা তো চাই নিদেন পক্ষে
বেশী হলে হোক খুশী তনু-মন।

কে হবে আমার বন্ধু কি জানি!
এই জিজ্ঞাসা শুধু অজানায়।
জানলে কি আর করি অপেক্ষা
বন্ধু তখন আমাকেই চায়।

কে কার বন্ধু হবেই বলোতো!
সে স্থান পাবে কি কোনো আত্মীয়!
হতে তো পারেই,তবুও হয় না
তারা হতে চায় অনাত্মীয়।

অসংখ্যবার ভাবতেই থাকি
খুঁজতেও থাকি প্রকৃত সাথীকে
দেখা পাই আমি অনেক সাথীর
সব চলে যায় পথ দেখে দেখে।

সাথী বন্ধুতে পরিণত হলে
আমার খুশীর থাকে না অন্ত
প্রকৃত বন্ধু হয় না যে কেউ
প্রকৃত বন্ধু শুধু বাড়ন্ত।

আমার হয়নি প্রকৃত বন্ধু
প্রকৃত বন্ধু আমিও হইনি
প্রকৃত সাথীর স্থানে অনেকেই
প্রকৃত বন্ধু হয় না, মেনেছি।

নিজ হতে নামতে পারি না যখনি

আহম্মেদ রফিক

নিজ হতে নামতে পারি না যখনি
ক্লেদ ভর করে,
বিষ হাতে চলে অনুভূতি!

প্রস্তুতির জমিনে দেখি প্রয়াত মানুষের পদছাপ
আপন আপন বলে গুটিয়ে গেছে।

অতঃপর আমি নেমে আসি,
ধেয়ে যাই-
শৈশবের বালখিল্যে।

অনেকদিন যাবৎ আনকোরা এক শিল্পী
সংগীতের ধারণা বিলাতে আসে
আকাশে তখন বিলীন পরিযায়ীর রেখা
ওমা দেখে যাও বলে হাঁক দেয় চেনা কন্ঠস্বর।

কবিতারা ছড়িয়ে দেয় চরণ
প্রেমানুভূতি দেখিয়ে দেয় বিরহ।

অগত্যা পিছু ফিরে রই,
শৈশবে নেই কবিতার জ্বালাপোড়া ।

সুরে সুরে সুর মায়া

শাহিন আলম সরকার

তোমার চোখে আমার, যদি চোখ পড়ে।
আনন্দে হৃদয় যেন, ছেয়ে যায় জুড়ে।
হাসি দেখে ফুল ফোটে, মধু যেন মুখে।
ভোমরের বেশে যেন, দিন কাটে সুখে।
চলাফেরা ভাল যেন, কথা মন্দ নয়।
সুখ লাগে তাই যেন, ভেবে গো তোমায়।
তোমায় বুকের মাঝে, রাখি যতœ করে।
তোমার যত বেদনা, দিও সব মোরে।

কেনো এত লাগে ভাল, মোর চিত্ত জুড়ে।
তোমার দেয়া গোলাপ, মন যেন কাড়ে।
সুরে সুরে সুর মায়া, বুকে গেঁথে রয়।
ভালবাসা বুকে এসে, যেন জমা হয়।
একদিন না দেখলে, ঘুম হারা মন।
বুক যেন শূন্য লাগে, পাথর নয়ন।

মেঘাচ্ছন্ন মন

গণেশ চৌধুরী

আকাশের মেঘাচ্ছন্ন মনে,
অনেক কথা জমে ছিলো।

যেদিন  মুষল ধারায় বৃষ্টি হলো,
তুই খ্যাতনামা কবি।

কখনো চোখ থেকে বৃষ্টি …
কখনো আবার রক্তে শিরায়..
বৃষ্টির আর বৃষ্টিতে একটা দিন।

বর্ষা শেষ শরতে, খুশির জোয়ার
সেখানেও মেঘাচ্ছন্ন মন।

শীত, বসন্তেও নেই বিরাম
নতুন করে জমে যায় কিছু ব্যথা।

সাদা পাতা ভরে যায় হাঁটু জলে,
কেউ সেখানে খেলা করে ।
কেউ সেখানেই ছবি আঁকে।

প্রেম

শেখ মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক

অপরিচিতকে আনিলে ধরণীর বুকে,
পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র-সম প্রতিকূলতা রুখে।
রচিলে তব নীড় আপনও সুখে,
কী জানি কী মোহে, যাচিলাম সে নিজ চোখে।

পাড়িলাম ডাক,
বাড়ালাম হাত,
সে’তো স্তম্ভিত, হতবাক!

মৌনতায় কাটে ক্ষণকাল,
পাহাড় উল্টে হল যেন ঢাল,
লুপ্ত হল হেন সব জ্ঞান-তাল।

হেনকাল পরে,
বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড়ালাম ডরে,
তল্লাশিলাম নিরজনে আপনারে।

পাইনি কোন সন্ধানে,
কী জানি কী আছে মনে,
সুন্দর ভাবের দোলা কেবলি লাগে নিরস প্রাণে।

তমঃ হলে নিদ্রাকালে,
ভাবিলাম শয়নে কী আছে নিজ ভালে,
তন্দ্রার অতন্দ্র প্রহরায় দু’পুতলি না টলে।

ফুটেছে যবে প্রভাত আলোর আভা,
চক্ষুস পর্দায় নির্ঘুম রাত্রের হেতু নিয়েই ভাবা,
নির্বাক মনের কষ্ট বয়েই কাটে সারাবেলা।

একলা আমি একলা হাসি নিরজনে,
লোকে কি বলবে বোকা! ভাবছি মনে মনে,
যে যাই বলুক, কী আসে যায়! মানছি পরক্ষণে।

সে কী এক মর্ম জ্বালা ক্ষণে ক্ষণে,
খাবার খেতেই যাচ্ছি ভুলে, কী ঘটেছে? কেমনে?
নিজকে হারিয়ে পাচ্ছি কভু কল্পলোকের সনে।
বনের ভিতর লাগলে আগুন,
সব পুড়ে হায়! তবু স্বপ্নলোক থাকে জাগুন,
পত্রঝরা বৃক্ষেও কভু জাগে ফাগুন।

ধরার মাঝে সে অশরীরী জন,
বিচিত্র রূপে, বিচিত্র রসে করে আগমন,
সর্ব জনই উন্মাদ বেশে কামনা কাতর তার আলিঙ্গন।

সে বহুরূপী জন কখন আসে? কখন যায়?
ইচ্ছে হলেই হাসায় সে, ইচ্ছে হলেই কাঁদায়,
আপন সুখে ইচ্ছে হলেই বিরহের দহনে পুড়ায়।

ডাকবো কী নামে এমন অপরিচিত জনকে,
জিজ্ঞাসিলে ছোট্ট খুকি বলল শেষে মুচকি হেসে,
ভুবন মাঝে এমন অনুভূতিকেই ‘প্রেম’ নামে ডাকে।

প্রতিবাদ

মোঃ সাইদুর রহমান

জালেম কেন সম্মাননা পায়
নোবেল এর ঐ বাতি?
কেন মুসলিম ভাই বিশ্বজুড়ে
খায় ইহুদির লাথি?

কেন উথলে উঠে এক মালালায়
বিশ্ব সেরা মানবতা?
কেন হাজার মুসলিম নির্যাতিত
তবু বিশ্ববাসীর নীরবতা?

কেন মানবতা বাদী সুশীল সমাজ
মুখে কলুপ এটে..
গা-ঢাকা দিয়ে যাবে শুধু প্রভুদের
কদম চেটে?

কেন মুসলিম হয়ে চুপচাপ আজ
বিশ্বের মুসলিম সরকার?
নাকি দাদার আদেশ হয়নি আজ
প্রতিবাদ করিবার?

আজ দাদার ভয়ে চুপচাপ হয়ে
থাকতেই হয় যদি..
তবে কেন তুমি মুসলিম
মুছে ফেল পরিচয়।।

স্বর্গমানসী

কবীর হুমায়ূন

নয়নে নয়ন করেছি বপন,
তোমারে ল’বো যে চিনি,
ওগো ও সজনী!
ভুবনের মাঝে তোমারে নেবোই চিনি।
কবিতার গাঙে ভাসায়ে তরণী,
বাজাবো বাঁশরী সকরুণে নিশিদিনই।
ওগো ও সজনী!
আপনার করে তোমারে ল’বো যে চিনি।
জীবনে দেখেছি হাজার স্বপন,
তোমার হৃদয়ে করবো বপন,
তুমি তো জীবন, তুমিই মরণ!
তুমি যে আমার স্বর্গমানসী অমরার বিজয়িনী।
ওগো ও সজনী!
চিরদিন তরে তোমারে ল’বো যে চিনি।
জীবন ভাসাই প্লাবনের জলে,
খড়কুটো সম কোথা যাই ভেসে;
পানার মতন যাযাবর আমি,
ভেসে যাই সুদূর নিরুদ্দেশে।
বিষাদে ছেয়েছে নীল অম্বর,
বৃষ্টিধারায় কাঁদে ঝরঝর,
তোমাতেই আমি হবো যে অমর,
আসবে কি তুমি বাজিয়ে নূপুর রিনিকিরিনিকিঝিনি?
ওগো ও সজনী!
অলকানন্দায় তোমারে ল’বোই চিনি।