যে কোন মুহূর্তে ফাঁসি, প্রস্তুত জল্লাদ

33

কাজিরবাজার ডেস্ক :
দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় 2015_11_19_17_15_38_Fkudnp8GB67KOGURaHQBZiMHqN4iIr_originalকার্যকর করতে আবারো ডাকা হয়েছে দুই জল্লাদ শাজাহান ও রাজুকে।
জল্লাদ শাজাহান ও রাজু অন্যদের চেয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। সেইসঙ্গে সুঠাম দেহ ও অধিক মনোবলের কারণে জল্লাদদের তালিকা থেকে তাদের ডেকেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
এই দুইজনের পাশাপাশি সাত্তার নামে আরো একজন জল্লাদকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় কারাগারে। কারা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এরআগে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরে জল্লাদের ভূমিকা পালন করেন শাজাহান।
অপরদিকে ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরে সময় জল্লাদের ভূমিকায় ছিলেন রাজু।
জল্লাদ শাজাহান ১৪৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত একজন কয়েদী। তিনি ৩৬ বছর ধরে কারাবাস করছেন। কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তিলাভের জন্যই তিনি জল্লাদের খাতায় নাম লিখিয়েছেন বলেও সূত্রটি জানায়।
এরইমধ্যে এরশাদ শিকদার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৫ আসামি ও কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরে ভূমিকা রেখে তিন ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে গেছেন।
অপরদিকে, জল্লাদ রাজু প্রায় ১৫ বছর ধরে কারাবাস করছেন।
কারা সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর ফাঁসির জন্য মঞ্চের প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। মঞ্চ ধোয়া-মোছা শেষে টানানো হয়েছে শামিয়ানা। ফাঁসির মঞ্চের চুনকামও শেষ। এখন রায় কার্যকরের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না তা জানতে চেয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। দণ্ড থেকে বাঁচতে মানবতাবিরোধী এ দুই অপরাধীর সামনে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া ছাড়া নেয়ার মতো আর কোনো পদক্ষেপ নেই।
শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কোনো এক সময়ে সিনিয়র জেলসুপার জাহাঙ্গীর কবির তাদের সামনে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন।
কেন্দ্রীয় কারাগারেরে একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর জবাবে সাকা-মুজাহিদ বলেছেন, তারা আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা না করে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না।
জবাবে সিনিয়র জেলসুপার বলেছেন, কারাবিধি অনুযায়ী এখন আর আইনজীবীদের সঙ্গে আপনাদের দেখা করার কোনো সুযোগ নেই। এ জবাব পেয়ে নিশ্চুপ ছিলেন সাকা-মুজাহিদ।
এরআগে বৃহস্পতিবার রাতে সাকা-মুজাহিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস ও ডা. হাফিজ তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। শুক্রবার সকালে ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুজনই শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।’
দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া কারাগার এলাকার দু’পাশের প্রবেশপথগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে রিক্সা চলাচল করছে।
এ ব্যাপারে লালবাগ জোনের অতিরিক্ত পুলিশ উপ-কমিশনার মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’
বৃহস্পতিবার রাতে সাকা-মুজাহিদকে তাদের সাজার চূড়ান্ত রায় পড়ে শোনানো হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটের পর সিনিয়র জেলসুপার জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে একজন ডেপুটি জেলার ও একজন সহকারী জেলার তাদের রায় পড়ে শোনান। তার আগে রাত পৌনে ৯টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র সহকারী জজ আফতাবুজ্জমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রায়ের অনুলিপি নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। এরপর সেখানে ওই রায় ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করা হয়।
সাকা-মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় ফাঁসির দণ্ড থেকে বাঁচতে এ দুজনের কাছে এখন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তারা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর যদি ক্ষমা না পান তবে আইন অনুযায়ী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে যেকোনো সময় দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে পারবে কারা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সাকা ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ওই রায়ের মধ্যে দিয়ে তাদের আইনি লড়াই শেষ হয়।