হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামাযে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী বলেছেন, কওমি মাদরাসা হচ্ছে ইসলামের ঝান্ডাবাহী পতাকা। এই ঝান্ডাকে সমুন্নত রাখতে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে হবে। তিনি বলেন কওমি মাদরাসাই প্রকৃত সুনাগরিক তৈরি করছে। যারা কওমি মাদরাসার বিরোধীতা করে তাদের মগজ বিক্রিত। দেশের বর্তমান সহিংস পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন আল্লাহর সাহায্য চাওয়া ছাড়া মুক্তির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, কোরআনের বিরোধী কোন আইন মুসলমান মানতে পারেনা-আমরাও মানি না। মুসলমানের এই দেশে আইন করতে হবে ইসলামের নীতিমালার ভিত্তিতে। ফতুয়া প্রদানের অধিকার উলামায়ে কেরামের, তাই ফতুয়া বন্ধের অধিকার কারো নেই। এদেশে ফতুয়া দিতে পারবেন হক্কানী উলামাযে কেরামই। ’জেল জুলুমের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, জীবন দিয়ে হলেও ইসলামের মর্যাদা রক্ষা করা হবে’।
তিনি গতকাল সিলেট শহরতলীর উত্তর জাহানপুরস্থ জামিয়া দারুল কুরআন সিলেটের ৩য় বার্ষিক ইসলামি মহাসম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জামিয়া দারুলকোরআন সংলগ্ন মাঠে দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে রাত ২টা পর্যন্ত সম্মেলন চলে।
মহাসম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে সভাপতিত্বে করেন যথাক্রমে খলিফায়ে মাদানী আল্লামা আব্দুল মুমিন শায়খে ইমামবাড়ী, জামিয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ’র মুহতামিম মুফতী আবুল কালাম জাকারিয়া, জামিয়া তাওয়াকুলিয়া রেঙ্গার মুহতামিম মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান, পাটলী দারু উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শায়খ আসগর হোসাইন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল সাবেক এমপি এডভোকেট মাওলানা শাহীনূর পাশা চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বয়ান পেশ করেন ঢাকা মহানগর হেফাজতে ইসলামের সদস্য সচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজীজ,মাওলানা মুফতি মুজিবুর রহমান- চট্টগ্রামী, মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ জামী- কিশোরগঞ্জী, মাওলানা হুসাইন আহমদ নোমানী ভৈরব । অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত মাওলানা শায়খ গোলাম নবী সুনামগঞ্জ, মাওলানা শায়খ আকবর আলী, মাওলানা শায়খ ফজলুল হক, জামিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা আতাউর রহমান, জামিয়া রহমানীয়া মৌলভীবাজারের প্রিন্সিপাল মাওলানা জামিল আনসারী, মাওলানা তাফহিমুল হক, মাওলানা আব্দুল মতিন নবীগঞ্জী, মাওলানা তালিবুদ্দীন,মাওলানা হাম্মাদ আহমদ গাজিনগরী, মাওলানা তাহির আহমদ, মাওলানা আব্দুল জলিল ইউসুফি, মাওলানা হাফিজ মোশাহিদ কাসেমী ও মাওলানা কুতুব উদ্দীন প্রমুখ। জামিয়ার মুহাদ্দিস, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা তৈয়্যিবুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা আখতারুজ্জামানের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিভিন্ন অধিবেশনে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন, মাষ্টার গোলাম রব্বানী, হাফিজ আব্দুল করিম দিলদার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন হুজুরদের নিকট মানুষ পানি পড়া নিতে আসে, পানি পড়া আর দোয়ার মালিক হলেন উলামায়ে কেরাম। মানুষ যেভাবে ইসলামের দিকে ঝুঁকছে। তাতে প্রতিয়মান হয় বাংলার মসনদে অচিরেই ইসলামি শক্তির উত্তান হতে যাচ্ছে। তাই সমাজে শান্তির জন্য গমের মালিক (জনপ্রতিনিধি) উলামায়ে কেরাম হলেই কেবল ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি নাস্তিক মুরতাদদের হুঁশিয়ার দিয়ে বলেন বাংলার জমিনে তোমাদের ঠাঁই নেই। জুনাইদ আল-হাবীব বলেন, উলামাযে কেরামকে হামলা মামলার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, আমরাতো বদর, উহুদ, বালাকোটের উত্তর সুরী। আমরা শাপলা চত্বরে রক্ত দিয়েছি প্রয়োজনে আরো দেব, তবুও নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে কথা বলবোই বলবো। তিনি বলেন, কুফুরী সত্যিকারের কোন আলেম আপোষ করতে পারে না। ঈদগাহের ইমামতি আর সামান্য হালুয়া রুটির আশায় যারা বাতিলের সাথে আতাতকরে তারা সত্যিকারের আশেকে নবী নয়। সত্যিকারের আশেকে নবী হলেন, যারা নবীর মহব্বতে রাজপথে নামতে জানে প্রয়োজনে রক্তদিতে জানে তারাই সত্যিকারের আশেকে নবী। বিজ্ঞপ্তি







