পা’য়ে হাঁটার অবাধ সুযোগ নগরবাসীর প্রয়োজন

108

॥ নেছার আহমদ নেছার ॥

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষেই সুস্থ থাকার জন্যে হাঁটা, শারীরিক ব্যায়াম বা পরিশ্রম করা একান্ত অপরিহার্য একটি বিষয়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বা চিকিৎসা বিজ্ঞানে পৃথিবীর সর্বত্রই এই ব্যাখ্যা প্রতিষ্ঠিত ও প্রচারিত। কাজেই মানব জীবনে সুস্থ থাকার জন্যে শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটার বিকল্প নেই।
সিলেট মহানগরের লোক সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে-আর ডায়াবেটিকস হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনের পর দিন। ইচ্ছে থাকার পরও সময় ও সুযোগের অভাবে আমরা হাঁটতে পারিনা। তাই ডায়াবেটিকস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
সিলেট মহানগরের ৫৪০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ কিলোমিটার সড়ক ও জনপদের রাস্তা। বাকী ৫০০ কিলোমিটার ছোট বড় রাস্তা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অধীনে। এই রাস্তাগুলোর অবস্থা কেমন সেটা আমার চেয়ে সচেতন নগরবাসী বেশী করে অবগত আছেন। কিন্তু মুখ খুলতে বা রাস্তাগুলির সমস্যা নিয়ে কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে অবাধে হাঁটার ব্যবস্থার দাবিতে কোন আন্দোলন, সভা সমাবেশ করতে শুনা যায়নি। অলস নগরবাসী আয়েসী জীবন যাপনে ব্যস্ত আর নানান অসুখ ব্যাধি সহ ডায়াবেটিকসে ধুঁকে ধুঁকে ভুগছে। বিগত অনেক দিন থেকে লক্ষ্য করা গেছে রাস্তার পাশ দিয়ে জনসাধারণ অবাধে হাঁটার জন্যে কারো মাথা ব্যথা নেই। দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরও কোন দিনই এ নিয়ে কোন ভূমিকা দেখাতে পেরেছেন বলেও মনে হয় না। সিসিকের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচলের অবাধ কোন ব্যবস্থা নেই। ফেরীওয়ালা, ঠেলাওয়ালা, অস্থায়ী দোকানপাট রাস্তার হাঁটার জায়গা সহ মূল রাস্তাই দখল করে যানজট সহ অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে থাকেন। অথচ কেউ কোন দিন প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি, এমনকি বিগত দিনের স্বনামধন্য মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মানুষের অবাধ হাঁটা চলার জন্যে কোন তাগিদই অনুভব করেননি। এই ভোগান্তির তাগিদ থেকে এবারের সিসিকের নির্বাচনে কামরান সাহেবের পরিবর্তনের হাওয়া এক সময় আয়লা হয়ে যায়। প্রচন্ড ক্ষোভ থেকে মানুষ কামরান সাহেব পরিবর্তনের প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে খুঁজে নেয় আরিফুল হক চৌধুরীকে। মেয়র আরিফ যানজট নিরসনে কিছু কাজ করেন। ফুটপাতের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের চেষ্টা করেন। ওদেরকে পুনর্বাসনের চিন্তা ছিল উনার মাথায়। খালগুলি উদ্ধারে জোরালো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। খালে এক্সেভেটর নামিয়ে খনন করে দেয়ায় বৃষ্টির পানি সহজে প্রবাহিত হয়ে সুরমা নদীতে মিশে যেতে পেরেছে। যার কারণে গত বৃষ্টির মৌসুমে সিলেটে জলাবদ্ধতা হয়নি, রাস্তায় সোয়ারেজ ও ড্রেনের  পানি উঠে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করেনি।
যাক প্রসঙ্গতে ফিরে আসি। দেখুন শহরের প্রধান বড় বড় রাস্তাগুলির পাশ দিয়ে হাঁটার কোন ব্যবস্থা আছে কি না? না থাকলে কেন আমরা কোর্ট পয়েন্টে সর্বস্তরের মানুষ জড় হয়ে হুংকার দিতে পারি না যে  আমাদের হাঁটার রাস্তা তৈরী করে দেয়া হউক। আমাদের হাঁটার রাস্তায় দয়া করে কেউ অস্থায়ী-স্থায়ী দোকান নিয়ে বসবেন না, যদি কেহ বসেন মানুষের পদপিষ্টে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাছাড়া আইন শৃংখলা বাহিনী সহ সিসিকের দায়িত্বশীলগণ ব্যবস্থা নেয়ার জোরালো  দাবী  জানাতে পারেন। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যান। জনগণের চেয়ে বড় কেউ নয়। সতর্কতার সহিত অরাজনৈতিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলুন।
মানুষ বেঁচে থাকার জন্যে জীবন যাত্রার  মান নিয়ে সব সময় সচেতন থাকে। আজ খুব বেশী প্রয়োজন সিলেট মহানগরবাসীকে তাদের অবাধে হাঁটার জন্যে একত্রিত হয়ে এ গিয়ে  আসতে হবে। ঘরে বসে আক্ষেপ হতাশা প্রকাশ না করে দাবী আদায়ের পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসুন। আম্বরখানা থেকে বন্দর বাজার পর্যন্ত জরুরী ভিত্তিতে রাস্তার উভয় পাশে বড় করে অবাধে হেঁটে চলাচলের জন্যে ফুট ওয়ে তৈরী করা হউক। প্রয়োজনে  ওভারব্রীজ তৈরী করা হউক যাতে রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে না হয়। বন্দর বাজার থেকে শেখঘাট কীন ব্রীজ পর্যন্ত অবাধে হাঁটার ব্যবস্থা নিতে হবে। চৌহাট্টা থেকে স্টেডিয়াম হয়ে রিকাবীবাজার, রিকাবী বাজার থেকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে অবাধে হাঁটার ব্যবস্থা করতে হবে। তেমনি বন্দর বাজার থেকে ধোপাদীঘির পার হয়ে নাইওরপুল, মিরাবাজার শিবগঞ্জ টিলাগড় পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে হাঁটার জন্যে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে হাঁটার রাস্তা তৈরী করে দিতে হবে। আর তার সঙ্গে সকল হাঁটার রাস্তাগুলি অবৈধ দখলদারদের থেকে এবং ফেরী ওয়ালাদের দখল মুক্ত রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। নাইওরপুল পয়েন্ট থেকে সোবহানীঘাট হয়ে শাহজালাল ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে অবাধে হাঁটার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। তাছাড়া সকল রাস্তাগুলোতে সাধারণ মানুষ যান চলাচল ছাড়াও হাঁটার অবাধ সুন্দর ব্যবস্থা রাখার  উদ্যোগ নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে জনবহুল রাস্তাগুলির যান চলাচলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার সাথে করে অবাধে হাঁটা চলার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরী বিষয়।
লক্ষ্য করা গেছে সিলেট মহানগরের মধ্যে জনবহুল রাস্তাগুলি দিয়ে মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। ছেলে-মেয়ে, পুরুষ-নারী, শিশু সহ সকল  পথচারী চলাচলে এক অবর্ণনীয় বিব্রতকর অবস্থা। মেয়েছেলেদের সম্ভ্রমহানী ধাক্কাধাক্কি নিত্যদিনের বিষয়। ভদ্রভাবে অবাধে চলাচলের উপায় নেই। এ অবস্থা কি চলতে থাকবে?
এর সমাধান কোথায়? আমরা কি পারি না এর সমাধানের জন্য জোরালো দাবী জানাতে। যদি সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে বন্দর থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত রাস্তার উভয় পায়ে হেঁটে চলার রাস্তা থাকে আমার মনে হয় অনেকেই রিক্সার চিন্তা না করে এই রাস্তাটুকু  হেঁটে যাতায়াত করতে পছন্দ করবেন।
প্রতিটি ব্যস্ত রাস্তার উভয় পাশে হাঁটার জন্যে লেন থাকলে অধিকাংশ মানুষই হেঁটে চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিকস রোগীরে হাঁটা অত্যন্ত অপরিহার্য একটি বিষয়।
অবাধে হাঁটার মত পরিবেশ আমরা কখন পাবো এই প্রশ্নটা অনেকেরই মনে জাগে; কিন্তু নীরবে শুধু সয়ে গেছেন। বাস্তবের জন্যে কী করা দরকার বা কী পদক্ষেপ সকলে মিলে নেয়া দরকার সে বিষয়টি উপেক্ষিত। সিসিকের ব্যস্ত ও জনবহুল রাস্তাগুলিতে অবাধে হাঁটার সুন্দর ব্যবস্থার জন্যে দলমত নির্বিশেষে সকল মহলের এগিয়ে আসা আজ বিশেষ প্রয়োজন। এর জন্য একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা উচিত। হকার ও হাঁটার রাস্তা দখলকারীদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করে তাদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে রাস্তায় দোকান নিয়ে বসা থেকে বিরত রাখতে হবে। তবেই সুস্থ পরিবেশে নগর জীবনে  একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা সম্ভব হবে।
দৈহিক শ্রমে চলার বা হাঁটার অভ্যাস হবে প্রতিটি মানুষের। ডায়াবেটিকস হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও দিন দিন কমে আসবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। কাজেই সিসিকের মাধ্যমে সিলেট মহানগরের অস্বস্তিকর পরিবেশের বর্তমান অবস্থা উত্তরণের মাধ্যমে নগরবাসীকে অবাধে সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে হাঁটার সুযোগ করে দিতে হবে।