আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ২৭ হাজার সদস্য নিয়োগ

15

কাজির বাজার ডেস্ক

ত্রয়োদশ নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীতে ২৭ হাজারের বেশি সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অপরদিকে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বা নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। এছাড়াও সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্র্নিধারণে আগামী ২৪ থেকে ২৭ আগস্ট শুনানি করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই চার দিনে এক হাজার ৭৬০টি দাবি-আপত্তির শুনানি করার কথা। সোমবার পৃথক বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানা গেছে।
গতকাল বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনকালে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা পুলিশে ১৫ হাজার ৮৫১ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগ দিয়েছি। বিজিবিতে ৪ হাজার ৪৬৯ জন, ৫ হাজার ৫৫১ জন আনসার, ১ হাজার ৫৫৮ জন কারা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ২০৮ জন। এগুলো সব নতুন নিয়োগ। এসব পদের মধ্যে কিছু সৃজিত পদ এও কিছু শূন্যপদ। পুলিশের এসব নিয়োগ সাব ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত। এ ছাড়া আনসার ও বিজিবির ক্ষেত্রেও কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আমরা চাই মব জাস্টিসটা যতটা কমিয়ে আনা যায়। কয়েকদিন আগে রংপুরে একটা মব জাস্টিস হয়েছে। ঢাকায় মব জাস্টিস কমলেও আশপাশে কিন্তু মব জাস্টিস কিছু হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি এটা যতটা কমিয়ে আনা যায়। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আমরা চাই সাধারণ জনগণ বা নির্দোষ জনগণ কোনোভাবেই যেন হয়রানির শিকার না হয়। যে দোষী সে কোনো অবস্থায় ছাড়া পাবে না। আমরা সবসময় চুনোপুঁটিগুলো ধরি। বড় রুই মাছ সবসময় ছাড়া পেয়ে যায়। বড় একটা ধরা পড়েছে, এখন আপনারা সবাই লেগে গেছেন। চুনোপুঁটি সম্পর্কে কিন্তু কেউ কিছু বলছেন না। সুতরাং নির্দোষ এমন কেউ ছোটখাটো কিন্তু তাকে ধরা হলে সে সম্পর্কে আপনারা বলেন। আপনারা সবসময় সত্য ঘটনা বলে থাকেন বলে আপনাদের ধন্যবাদ।
রোডম্যাপ ঘোষণা এ সপ্তাহেই : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, একটি কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) তৈরি করা হয়েছে এবং তা অনুমোদনের জন্য কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বা নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান। সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রসঙ্গে ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকার সীমানা নিয়ে আসা ৮২টি আপত্তির শুনানি আগামী ২৪ আগস্ট থেকে একটানা চারদিন অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে দ্রæত এ বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনআইডি সংশোধনের জন্য দেওয়া যে আবেদনগুলো প্রাথমিকভাবে বাতিল হয়েছে- সেগুলো পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে এ ধরনের আপিলের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। ইসি মনে করে, যদি ডাটা এন্ট্রি আরও নিখুঁত হয়, তাহলে আপত্তির সংখ্যা আরও কমে আসবে।
ভোটকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, কমিশনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়বে না বরং বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোতেই ভোটারদের উপস্থিতি সমন্বয় করা হবে। বর্তমানে প্রতি ৫০০ ভোটারের জন্য একটি বুথ আছে, যা ভবিষ্যতে ৬০০ করা হতে পারে।
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিষয়ে তিনি জানান, যে ২২টি রাজনৈতিক দলের আবেদন মাঠপর্যায়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল, তাদের কাজ চলছে। যাদের আবেদন বাতিল বা বিবেচনাযোগ্য মনে হয়নি, তাদের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। বাতিল হওয়ার পেছনে কোন কোন শর্ত পূরণ হয়নি, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আগাম প্রস্তুতি নিয়ে ইসির সচিব বলেন, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এই মুহ‚র্তে কোনো উদ্বেগ নেই। সবার নিজস্ব কাজ গুছিয়ে নিলেই হবে।
সীমানা পুনর্র্নিধারণে শুনানি ২৪-২৭ আগস্ট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্র্নিধারণে আগামী ২৪ থেকে ২৭ আগস্ট শুনানি করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই চার দিনে এক হাজার ৭৬০টি দাবি-আপত্তির শুনানি করার কথা। সোমবার (১৮ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আগামী রোববার (২৪ আগস্ট) থেকে আমরা সীমানা নির্ধারণে দাবি-আপত্তির যে আবেদনগুলো এসেছে সেগুলোর শুনানি শুরু করব। যা চলবে বুধবার (২৭ আগস্ট) পর্যন্ত।
দাবি-আপত্তির বিষয়ে শুনানি গ্রহণের পর পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
এ সংক্রান্ত একটি চিঠি থেকে জানা যায়, আগামী রোববার (২৪ আগস্ট) কুমিল্লা অঞ্চলের ১৮টি আসনের বিপরীতে ৬৮৩টি দাবি-আপত্তির শুনানি গ্রহণ করা হবে। পরদিন সোমবার (২৫ আগস্ট) খুলনা অঞ্চলের ৯৮টি, বরিশাল অঞ্চলের ৩৮১টি এবং চট্টগ্রামের ২০টি শুনানি গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ঢাকা অঞ্চলের ৩১৬টি আসনের দাবি-আপত্তির শুনানি গ্রহণ করবে ইসি এবং সবশেষ বুধবার (২৭ আগস্ট) রংপুরের ৭টি, রাজশাহীর ২৩২টি ময়মনসিংহের ৩টি, ফরিদপুরে ১৮টি এবং সিলেট অঞ্চলের ২টি আসনের দাবি-আপত্তি শুনবে সংস্থাটি।
দাবি-আপত্তির আবেদনের সংখ্যাগত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মোট ৮৩টি আসনের সীমানা পরিবর্তনে এক হাজার ৭৬০টি আবেদন জমা পড়েছে। সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে কুমিল্লা অঞ্চল থেকে ৬৮৩টি। সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে রংপুর অঞ্চলে সাতটি। সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে একক আসন হিসেবে কুমিল্লা-১ আসনে, ৩৬২টি। পিরোজপুর-১, পিরোজপুর-২ ও পিরোজপুর-৩ আসন থেকে আবেদন পড়েছে ২৮৭টি। সিরাজগঞ্জ ৫ ও সিরাজগঞ্জ ৬ আসন থেকে আবেদন পড়েছে ২২০টি। এদিকে ঢাকার মধ্যে ঢাকা-১ আসনে আবেদন পড়েছে সবচেয়ে বেশি ৭৯টি।
গত ৩০ জুলাই ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করে খসড়া প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটার সংখ্যার সমতা আনতে গিয়ে গাজীপুর জেলায় একটি আসন বাড়িয়ে ছয়টি করা হয় এবং বাগেরহাটের আসন চারটি থেকে কমিয়ে তিনটির প্রস্তাব করা হয়।
এ ছাড়া পরিবর্তন আনা হয় ৩৯টি আসনে। এগুলো হলো-পঞ্চগড় ১ ও ২; রংপুর ৩; সিরাজগঞ্জ ১ ও ২; সাতক্ষীরা ৩ ও ৪; শরীয়তপুর ২ ও ৩; ঢাকা ২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯; গাজীপুর ১, ২, ৩, ৫ ও ৬; নারায়ণগঞ্জ ৩, ৪ ও ৫; সিলেট ১ ও ৩; ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ ও ৩; কুমিল্লা ১, ২, ১০ ও ১১; নোয়াখালী ১, ২, ৪ ও ৫; চট্টগ্রাম ৭ ও ৮ এবং বাগেরহাট ২ ও ৩ আসন।
ইসির প্রকাশিত ওই খসড়ার তালিকার ওপর ১০ আগস্ট পর্যন্ত আপত্তি আহŸানও করা হয়। দাবি-আপত্তি এলে তা শুনানি করে চ‚ড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে সংস্থাটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই আবেদনগুলো জমা পড়েছে।