স্টাফ রিপোর্টার
সাগরদিঘীরপাড় এলাকার বহুল আলোচিত ড্রীম সিটির সাইনবোর্ড লাগানো ২৫ কোটি টাকার সরকারি জায়গা উদ্ধার করেছে এসএমপি পুলিশ। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৫ কোটি টাকা।
সিলেট নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানাধীন সাগরদিঘীর পাড়স্থ মৌজা মিউনিসিপালিটি, জে. এল নং- এস. এ – ৯১, বি.এস -৭৬ স্থিত, এস. এ ১৬৮৭ নং খতিয়ানের ৪১নং দাগের ১.১০ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে যার বাজার মূল্য ২৫ কোটি টাকা বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন এসএমপি কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি রেজাউল করিম পিপিএম সেবা। দেবোত্তর এই সম্পত্তি উদ্ধার করে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় দীর্ঘ দিনের সংঘবদ্ধ দখলদার ও জালিয়াতি চক্র যারা পরস্পরে যোগসাজশে সরকারি এই জায়গা দখল করে রাখে। পুলিশের তদন্তে এ পর্যন্ত জালিয়াতি চক্রের সাথে যাদেরকে জড়িত পাওয়া গেছে তারা হলেন সুনামগঞ্জের শশাংক দাস তালুকদার, সিলেট নগরীর ভাতালির শুধাংশু কুমার দত্ত, সিলেট কোম্পানিগঞ্জের তেলিখাল বাজারের লিটন দাস, আম্বরখানা লোহারপাড়ার ইকবাল মিয়া, দর্শনদেউড়ির ছমিরুন নেছা, সিলেট সদরের সোনাতুলা গ্রামের আনোয়ার হোসেন, বিশ্বনাথ উপজেলার মোঃ সামরান হোসেন চৌধুরী, সিলেট নগরীর মিরাবাজারের মোঃ আশরাফ উজ জামান, ঘাসিটুলার এডভোকেট মনজুর আহমদ, বালাগঞ্জের কৃপাশ বৈদ্য ও দিলীপ দেব। এরা এই জায়গা দখল নিতে বিভিন্ন সময় এসএমপি বরাবরে উকিল নোটিশ, জমির মালিকানা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন দপ্তরে প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভ‚য়া অভিযোগনামা দাখিল করেন।
প্রকৃত পক্ষে রজনী রঞ্জন গুপ্ত নামে জনৈক ব্যক্তি এই জায়গার মালিক ছিলেন। রজনী রঞ্জন গুপ্ত ১৯৪৬ সালে ভারতে চলে যান এবং তিনিসহ তার ৩ ছেলে মৃত্যুবরণ করায় প্রতারক চক্র তার ১১০ শতক ভ‚মি আত্মসাৎ করার নিমিত্তে ভ‚য়া দলিল ও জাল-জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহন করে।
সুধাংশু কুমার গুপ্ত প্রকৃত নাম রানু কুমার দাস, হিমাংশু কুমার গুপ্ত প্রকৃত নাম শশাংক দাস, তালুকদার সুনীল প্রসাদ গুপ্ত প্রকৃত নাম লিটন কুমার দাস। বর্ণিত ভুয়া ৩ ছেলের নিকট হতে ২০০৬ সালে ইকবাল আহমেদ কর্তৃক আমমোক্তারনামা দলিল সৃজন করা হয়। ২০০৮ সালে বর্ণিত ৩ ছেলের নামে ইকবাল আহমদ কর্তৃক ভ‚য়া এনআইডি সৃজন করা হয়।
হিমাংশু কুমার গুপ্ত প্রকৃত নাম শশাংক দাস তালুকদার তার প্রকৃত নামে ২০২০ সালে জন্ম নিবন্ধন তৈরী করা হয়। ২০২১ সালে সুধাংশু কুমার গুপ্ত প্রকৃত নাম রানু কুমার দাস মৃত্যুবরণ করেন।
আনোয়ার হোসেন আনা হিমাংশু কুমার গুপ্ত প্রকৃত নাম শশাংক দাস তালুকদারকে ভারতে পাঠানোর লক্ষ্যে হিমাংশুর নামে ২০২২ সালে পাসপোর্ট সৃজন করেন।
হিমাংশু কুমার দত্ত প্রকৃত নাম শশাংক দাস তালুকদার এর এনআইডি ব্যবহার করে ২০২৪ সালে আনোয়ার হোসেন আনা কর্তৃক তার স্ত্রী ছমিরন, সামরান ও আশরাফুজ্জামান আইজাকদের নামে আমমোক্তার নামা দলিল সৃজন করা হয়। সুধাংশু কুমার গুপ্ত প্রকৃত নাম রানু কুমার দাস মৃত্যুবরণ করায় হিমাংশু কুমার দত্ত প্রকৃত নাম শশাংক দাস তালুকদার ও সুনীল প্রসাদ গুপ্ত, প্রকৃত নাম লিটন কুমার দাসদ্বয়ের নিকট হতে ২০২৫ সালে ইকবাল আহমদ কর্তৃক পূণরায় আমমোক্তারনামা দলিল সৃজন করা হয়। এই জায়গা নিয়ে শুধু কোতোয়ালি মডেল থানায় ৪টি মামলা চলমান রয়েছে। এই বিশাল জালিয়াতি চক্রের অন্যতম সদস্য হিমাংশু কুমার গুপ্ত প্রকৃত নাম শশাংক দাস তালুকদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদানসহ জালিয়াতি চক্রের নাম পরিচয় প্রকাশ করে।
সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম, সাগরদিঘীরপাড় সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাহেদ আহমদ, শশাংক দাস তালুকদার এর ভাই অনীল দাস বক্তব্য রাখেন।





