কানাইঘাটে আড়াই মাস পূর্বে পুুকুরে ডুবে প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের তদন্ত শুরু

4

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
প্রায় আড়াই মাস পূর্বে রহস্যজনক ভাবে পুকুরে ডুবে মৃত্যু বরণকারী কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউপির দূর্গাপুর উত্তর সরুফৌদ গ্রামের সৌদি ফেরত প্রবাসী হাফিজ রফিক আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করেছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। গত রবিবার দুপুরে থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল হক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেবাশীষ শর্ম্মা সরেজমিনে রফিক আহমদের বাড়ীতে যান। এ সময় পুলিশ গ্রামের অনেক লোকজন সহ মামলার সাক্ষীদের বক্তব্য নেন। তদন্তকালে মামলার অনেক সাক্ষী সহ স্থানীয় কয়েকজন কি ভাবে রফিক আহমদ পুকুরে ডুবে মারা যান ও তার স্ত্রীর পরিকল্পনায় পরিকল্পিত ভাবে অসুস্থ হাফিজ রফিক আহমদকে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে নিহতের স্বজনরা জানান।
জানা যায় রফিক আহমদের ভাতিজা জুবায়ের আহমদ বাদী হয়ে গত ১৬ জানুয়ারি সিলেটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫নং আমলী আদালতে কানাইঘাট সিআর মামলা নং-১৭ দায়ের করেন। পরবর্তীতে থানা পুলিশ আদালতের দরখাস্ত মামলাটি এফআইআর করে। মামলায় হাফিজ রফিক আহমদের স্ত্রী হাসনা নার্গিস (৩৫) ও তার ভাই স্থানীয় সরুফৌদ গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিন আহমদের পুত্র আমিন উদ্দিন, ইমাম উদ্দিন ও হাসনা নার্গিসের বোনের জামাই জয়নালকে আসামী করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বাদী জুবায়ের আহমদ উল্লেখ করেছেন তার আপন চাচা হাফিজ রফিক আহমদ দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। স্টুক করে অসুস্থ অবস্থায় ৭/২/২০২০ইং তারিখে সৌদি থেকে নিজ বাড়ীতে চলে আসেন উন্নত চিকিৎসার জন্য। কিন্তু তার চাচা গুরুতর অসুস্থ হলেও চিকিৎসায় চরম গাফলতি করেন তার স্ত্রী হাসনা নার্গিস ও তার পরিবারের লোকজন। এমনকি তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ ও দেওয়া হয়নি। হাফিজ রফিক আহমদের স্থাবর সম্পত্তি দখল করার জন্য তার চিকিৎসার কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন না করায় রফিক আহমদের সার্বিক অবস্থার দিন দিন অবনতি ঘটে। মামলার আসামীরা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয় তাকে জানে মারার জন্য। গত ১২ অক্টোবর বিকেল দেড়টার দিকে অসুস্থ চলাফেরায় অক্ষম হাফিজ রফিক আহমদকে নিজ বাড়ীর পুকুরে গোসল করার জন্য তার স্ত্রী হাসনা নার্গিস পুকুর ঘাটে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিত ভাবে পুকুরে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে মসজিদের মাইকে জানানো হয় তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। আবার তার স্ত্রী বলেন পুকুরে গোসল করতে গিয়ে ছিটকে গিয়ে পানিতে তলিয়ে গেছেন। তার স্বামী রফিক আহমদ। ঘটনার সময় হাসনা নার্গিস বাড়ীর বাউন্ডারীর গেইট বন্ধ করে রাখেন। লোকজন বাউন্ডারীর দেওয়াল টপকিয়ে পুকুর থেকে মৃত অবস্থায় রফিক আহমদকে উদ্ধার করা হয় বলে মামলার বাদী ও সাক্ষীরা জানান। থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদুল হক জানান, পুকুরে ডুবে মারা যাওয়া রফিক আহমদের ভাতিজার দায়েরকৃত মামলার তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।