কাজিরবাজার ডেস্ক :
দেশে অতিমারী করোনা ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। নতুন ধরণ ডেল্টার প্রভাবে করোনায় প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। দেশের কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে আইসিইউ ও অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দেশে অক্সিজেন সরবরাহে কোন সঙ্কট নেই। প্রয়োজনের তুলনায় দেশে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদিত হচ্ছে। সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ না মানা এবং স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদাসীনতার কারণেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন সারাদেশে মোট ৮ হাজার ৩৬৪ রোগী শনাক্ত হয়। ওই নমুনা সংগ্রহের বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ২৪ শতাংশ। ২৯ জুন ৭ হাজার ৬৬৬ রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার প্রায় ২৪ শতাংশ। ৩০ জুন মোট শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮২২ রোগী। নতুন রোগী শনাক্তের হার ২৫ শতাংশ। ১ জুলাই রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৩০১ জন। রোগী শনাক্তের হার ২৬ শতাংশ। ২ জুলাই দেশে ৮ হাজার ৪৮৩ রোগী শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২৮ শতাংশ। যা দেশে এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার বিবেচনায় সর্বোচ্চ। ৩ জুলাই রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ৬ হাজার ২১৪ জন। শনাক্তের হার ২৭ শতাংশ। রবিবার সারাদেশে ৮ হাজার ৬৬১ জন নতুন আক্রান্ত হয়েছে। নমুনার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
গত সাতদিন ধরে সারাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ জনের ওপর অবস্থান করছে। ২৭ জুন দেশে মোট ১১৯ জনের মৃত্যু হয়। ২৮ জুন মৃত্যু কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১০৪ জনে। ২৯ জুন মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১১২ জন। ৩০ জুন মোট ১১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২ জুলাই করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৩২ জনের। ৩ জুলাই এই সংখ্যা ছিল ১৩৪। রবিবার দেশে সর্বোচ্চ ১৫৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। যা এখন পর্যন্ত দেশে সর্বোচ্চ।
অর্থাৎ প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে মৃত্যু ঘটছে। এছাড়া সারাদেশে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা রোগীকে অক্সিজেনের সাপোর্ট দিতে অধিকাংশ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা হয়েছে। রাতারাতি সবকিছু পাল্টে দেয়া সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাপী সব দেশ একটি ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যেসব সামগ্রীর প্রয়োজন, সেগুলো অন্যান্য দেশেরও প্রয়োজন। সুতরাং সব সময় চাহিদা অনুযায়ী দ্রুততার সঙ্গে চিকিৎসা সামগ্রী পাওয়া যায় না। এর পরও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ধাপে ধাপে জেলাগুলোতে আইসিইউ, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলাসহ সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন স্থাপন করা হবে। স্বাস্থ অধিদফতরের মুখপাত্র ডাঃ রোবেদ আমিন বলেন, সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধ মানতে আরও উদাসীন হলে সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে চলে যেতে পারে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটবে। আগে থেকেই সরকার থেকে করোনার নতুন প্রজাতির সংক্রমণ নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছিল। তবুও মানুষের মধ্যে কিছুটা শৈথিল্য দেখা গিয়েছিল। বর্তমানে যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে মানুষকে কঠোর বিধিনিষেধে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। করোনা প্রতিরোধে অবশ্যই মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একমাত্র প্রতিরোধই হতে পরে প্রতিকারের উপায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ সায়েদুর রহমান খসরু বলেন, সংক্রমণ বাড়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান কারণ হলো – দেশের অধিকাংশ মানুষই নিয়ম মেনে মাস্ক পরেননি। স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা ছিল, মানেননি। মাস্ক পরা ও সামজিক দূরত্ব বজায় রাখা, এই দুটি উপায় ছাড়া পৃথিবীর কোন দেশই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, গত একমাস যাবত বলা হচ্ছিল সংক্রমণটা আবার বাড়বে। কিন্তু কোন মানুষই কোন ধরনের বিধিনিষেধ, সামাজিক দূরত্ব ও সচেতনতা মানেনি। এক্ষেত্রে শুধু সরকার নয়, সাধারণ জনগণকেও আন্তরিক হতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ তো বিশ্বাসই করে না যে করোনাভাইরাস বলে কিছু আছে। দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে এক কোটি মানুষ হয়ত বিশ্বাস করে, তাও তাদের সবাই মাস্ক পরেন না।








