করোনার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে কানাইঘাট, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

6

কানাইঘাট থেকে সংবাদদাতা :
সিলেট জেলায় দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কানাইঘাট উপজেলা। করোনার সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কানাইঘাটে ৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল বুধবার করোনায় পজেটিভ রিপোর্ট আসা উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ী লক্ষীপুর গ্রামের মৃত কালাই মিয়ার পুত্র আব্দুস সালাম (৬৫) ও একই গ্রামের মৃত তজই মিয়ার পুত্র মাসুক আহমদ (৫৫) সুনামগঞ্জ ফেরত ধানকাটা শ্রমিক বলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রথম করোনা আক্রান্ত উপজেলার লামারতালুক গ্রামের ফারুক আহমদের পুনরায় নমুনা সংগ্রহের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট জেলা সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত কানাইঘাটের সুতারগ্রামের আমিন উদ্দিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন গতকাল বুধবার। প্রতিদিন কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা সংগ্রহের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই দিনে হাসপাতালে ৫৮জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাঃ শেখ শরফুদ্দিন নাহিদ জানান। প্রথমদিকে কানাইঘাট উপজেলায় সরকারী বিধি নিষেধ জনসাধারণ মানলেও সম্প্রতি সময়ে লকডাউন কিছুটা শিথিল করা হলে কানাইঘাটের দৈনন্দিন কার্যক্রম অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ায় করোনার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন উপজেলাবাসী। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার প্রতিটি বাজারে জনসমাগম ব্যাপক হারে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা সরকারী নির্দেশ মানছেন না। কাপড়ের দোকানগুলোতে নারী-পুরুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। কানাইঘাট পৌর শহরের প্রতিটি মার্কেটের কাপড়ের দোকান রাত পর্যন্ত বেঁচাকেনা হচ্ছে। এতে করে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য মানছেন না ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও শত শত অটোরিক্সা সিএনজি গাড়ী আগের মতো অবাধে চলছে। প্রতিদিন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ থেকে লোকজন কানাইঘাটে আসছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-নরসিংদীর কাপড় ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি সময়ে কানাইঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ থেকে ধান কেটে বাড়িতে এসেছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে না। তারা এলাকায় অবাদ বিচরণ করছেন। ধান কাটা ৫ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে অন্যান্য শ্রমিকরা যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি তাদের নিয়ে উৎকন্ঠায় আছেন সবাই। গত কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-নরসিংদী এলাকার অনেক কাপড় ব্যবসায়ী এসেছেন। কানাইঘাটের অনেক ব্যবসায়ী নরসিংদী ও ঢাকায় কাপড় আনতে গিয়েছেন। অনেকে নরসিংদী কাপড় ব্যবসায়ীর দোকান কানাইঘাটে রয়েছে। তাদের শনাক্ত অথবা নমুনা সংগ্রহ না করায় কানাইঘাটে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা করছেন সচেতন মহল। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, থানা পুলিশ, সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করলেও তারা যে এলাকায় যেসময় যান তখন লোকজন সরে যান, আবার হাট-বাজার সহ সবখানে ভিড় করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাঃ উৎপলেন্দু বিশ^াস গত মঙ্গলবার করোনা আক্রান্ত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছেন। কারন তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়ার দিন পর্যন্ত তার চেম্বারে অনেক রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন। যারা গত কয়েকদিনে তার কাছে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন, তারা কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কি না তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করেন, সরকারী নির্দেশনা মানতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরো কঠোর করা না হলে কানাইঘাট উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।