শিপন আহমদ ওসমানীনগর থেকে :
ছোট শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় অংশ গ্রহণ প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। কোমলমতি শিশুদের জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা এটি। জীবনের সূচনালগ্নের এ পাবলিক পরীক্ষায়ও ওসমানীনগর উপজেলায় চলছে নানা অনিয়ম। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মরত ব্যাক্তিরা এ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি পর্ব থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করে যাচ্ছেন। উপজেলার একাধিক কেন্দ্র প্রধান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে দায়িত্ব প্রাপ্তরাসহ সাধারণ শিক্ষক সমাজ ও অভিভাবকের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে উপজেলার বুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে হল সুপার স্বপন কেন্দ্রের ভিতরে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে ধূমপান করার কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হওয়ায় গোটা উপজেলায় জড় উঠেছে। তবে এসব বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মুমিন মিয়া ও প্রশাসনের অনান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বিষয়টি নিয়ে দায়সারা ভাব দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একজন শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের সামনে প্রকাশ্যে ধূমপান করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরও এখনও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।
সূত্র জানায় সমাপানী পরীক্ষার প্রথম দিনের পরীক্ষায় কেন্দ্রের ভিতরে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে ধূমপান করে সমালোচনায় আসেন উপজেলার ফকিরাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার দাস। তিনি বুরুঙ্গা ইকবাল আহমদ স্কুল এন্ড কলেজের হল সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন। সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায় কেন্দ্রের ভিতরে প্রকাশ্য ধূমপানরত অবস্থায় কেন্দ্রের অনান্য দায়িত্বরতদের সাথে কথা বলছেন। ফেসবুকে আপলোডকৃত ছবিতে বিভিন্ন জন সমালোচনা করে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন। Jafar Ahmed নামের একজন Muzibur Rahman Sayed নামের অপর এক ব্যক্তি একজন মন্তব্য করেন, কতো বড় অসভ্য বেয়াদব হলে এমন করে ধূমপান করতে পারে? এমন অসভ্যদের কারণে আজ সমাজের মানুষ শিক্ষিতদের কে গালি দিয়ে কথা বলে। মাওলানা আব্দাল হুসাইন হাজীপুরী নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করে লিখেন, আমাদের ঐতিহ্যকে নষ্ট করল। এ ছাড়া ছবিগুলো সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর থেকে গোটা সমালোচনার ঝড় বইছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল মুুমিন মিয়া বলেন, সমাপনী পরীক্ষার সকল কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিক ভাবেই হচ্ছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: তাহমিনা আক্তার বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বায়োজিদ খান বলেন, এ বিষয়গুলো আমি শুনেছি, তদন্তপূর্ব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।





