তুহিন হত্যার বিচার এমন হবে যাতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে – আইনমন্ত্রী

28

কাজিরবাজার ডেস্ক :
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সুনামগঞ্জের ৫ বছরের শিশু তুহিন হত্যার বিচার এমন হবে যাতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। নুসরাত হত্যাকা-ের বিচার নিয়ে জনগণের দাবি এবং সরকারের অঙ্গীকার ছিল। সে অনুযায়ী সরকার এ হত্যাকা-ের বিচার দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর এই মামলার রায় ঘোষণা করবে আদালত। সাংবাদিক দম্পতি সাগর- রুনী ও তনু হত্যা মামলায় ধীরগতি কেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই মামলা দুটির তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। তিনি কেবল বিচার কাজ শুরু হওয়া মামলা সম্পর্কেই বলতে পারেন । বুধবার সচিবালয়ে তার দফতরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের ৫ বছরের শিশু তুহিন হত্যার ঘটনার বিচার এমন হবে যাতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। ভবিষ্যতে এমন হত্যাকা- ঘটানোর চিন্তা কোন মানুষের মাথায় যেন না আসে। তিনি বলেন, শুধু আইন দিয়ে এ ঘটনার বিচার করা যাবে না। সামাজিকভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। সমাজকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।
এ সময় ফেনীর সোনাগাজিতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত হত্যা প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। বলেন, নুসরাত হত্যাকা-ের বিচার নিয়ে জনগণের দাবি এবং সরকারের অঙ্গীকার ছিল। সে অনুযায়ী সরকার এ হত্যাকা-ের বিচার দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে। তবে সাংবাদিক দম্পতি সাগর- রুনী ও তনু হত্যা মামলার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ওই মামলা দুটির তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। তিনি কেবল বিচার কাজ শুরু হওয়া মামলা সম্পর্কেই বলতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন। এর আগে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজি তিরিংয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় তিনি ইইউ প্রতিনিধি দলের কাছে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বৈঠকে প্রতিনিধিদল বলে বাংলাদেশে শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা দেখতে চায় ইইউ। বৈঠকে বেশ কয়েকটি হত্যা ও হত্যা মামলার প্রসঙ্গও তোলেন ইইউ প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা।
এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী তাদের জানান, সরকার মানবাধিকার রক্ষায় যথেষ্ট সচেতন। সরকার তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করছে। আইনমন্ত্রী তখন ফেনীর মাদ্রাসার সাবেক ছাত্রী নুসরাত হত্যার উদাহরণ টেনে ইইউ কর্মকর্তাদের বলেন, ওই মামলায় টানা আড়াই মাস ধরে গণমাধ্যম সক্রিয় ছিল। জনগণ বিচারের দাবিতে ফুঁসে ওঠেছিল আর সরকারের অঙ্গীকার ছিল সুষ্ঠু বিচার করার। সরকার তা দ্রুত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে পেরেছে। সরকারের ইচ্ছায় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা কিভাবে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে তাও তুলে ধরেন।
এ সময় শ্রম আইন নিয়েও কথা বলেন ইইউ প্রতিনিধিরা। জানতে চান সরকার কিভাবে শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠা করছে বা ভবিষ্যতে করবে। সে প্রশ্নে আইনমন্ত্রী উল্টো তাদের কাছে জানতে চান, ইইউ শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠা কেমন দেখতে চায়, সে বিষয়ে কি কি সুপারিশ রয়েছে তাদের। এসবের একটি রূপরেখাও সরকারকে দিতে বলেন আইনমন্ত্রী। ওই রূপরেখার সঙ্গে সরকারের নেয়া উদ্যোগ মিলিয়ে দেখে, কোথায় অসঙ্গতি রয়েছে তা বের করে সংশোধন করার কথা বলেন আইনমন্ত্রী।