আল হারামাইন হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ

13

স্টাফ রিপোর্টার

নগরীর বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘আল হারামাইন হাসপাতাল’র বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া, অতিরিক্ত বিল আদায়, রোগী ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা, রোগীকে পঁচা-বাসি খাবার সরবরাহ করা ও রোগীর স্বজনদের সাথে র্দুব্যবহার করা, সিসিউ ও আইসিউর ভৌতিক বিলসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে এবং হচ্ছেন।
এছাড়াও হাসপাতালের ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। হাতপাতালের চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান নাসির সেবার চেয়ে আর্থিক সুবিধার প্রতি বেশি আগ্রহি।
জানাগেছে, রোগী ও স্বজনদের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য-সহায়তা না থাকায় বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে ওয়ার্ডÑসব জায়গায়ই ব্যবস্থাপনায় নানা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়।
সম্প্রতি একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণে উদাসীনতা, ভুল ঔষুধ প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো বিলম্বিত করায় রোগীর অবস্থা আরও অবনতি ঘটে।
অভিযোগকারীরা আরোও জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক উপস্থিত না থাকা, প্রশাসনিক গাফিলতি ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেনÑ দ্রæত সেবা না দেওয়ায় রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।
সম্প্রতি একজন বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় তার চিকিৎসক কন্যা ডা. নুরিয়া জাহান কেয়া সংবাদ সম্মেলন করে হাসপাতালের বিরূদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান ৬৯ বছর বয়সী পিতা বেদার আহমেদকে ভুল ইনসুলিন ডোজ দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তার দাবি, ওইদিন সকালে রোগীর রক্তের শর্করা (ঋইঝ) স্বাভাবিক (৭.১) থাকা সত্তে¡ও নার্স একজন ডাক্তারকে না জানিয়েই ১৬ ইউনিট ইনসুলিন প্রয়োগ করেন, যার ফলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
ডা. কেয়া আরও অভিযোগ করেন যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের দেওয়া মৃত্যুর সার্টিফিকেটেও মৃত্যুর আসল কারণ গোপন করেছে।
এছাড়াও একজন সিনিয়র রিপোর্টারসহ অন্য কয়েকজন ভুক্তভোগী ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন যে, হাসপাতালটির বাহ্যিক চাকচিক্য থাকলেও ভেতরের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। ডাক্তার, নার্স ও কর্মীদের অদক্ষতা, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ সেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
সেবায় অবহেলা ও দায়িত্বরতদের অসৌজন্যমূলক আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ ত্রনে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন ‘এখন টিভি’ সিলেট ব্যুরো ইনচার্জ (সিনিয়র রিপোর্টার) গুলজার আহমেদ।
এর আগে, ২০২২ সালের এপ্রিলে, সাংবাদিক শিপন খান তার অন্তঃস্বত্ত¡া স্ত্রীকে ভর্তি করেছিলেন এই হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন স্ত্রীর জন্য হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত স্যুপ পাওয়ার অভিযোগ আনেন তিনি।
তিনি জানান, ১৬ এপ্রিল ২০২২ সকালে রোগীকে সরবরাহ করা হয় হাসপাতালের ক্যান্টিনে তৈরি করা স্যুপ। ওই স্যুপ খেয়ে তার স্ত্রী রাত থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন।
শিপন জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান। তারা ক্যান্টিন থেকে খাদ্য সরবরাহকারী স্টাফকে ক্যাবিনে পাঠায়। ওই স্টাফ রেফ্রিজারেটর থেকে ঠান্ডা খাবার বের করে গরম করে সরবরাহের কথা স্বীকার করে। কিন্তু এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা সৌজন্যবোধ দেখায়নি।
এদিকে আল-হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্ব্যহার ও অপচিকিৎসাসহ একাধিক রোগীর মৃত্্ুযর অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার পারভেজ আহমদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন- অভিযোগ আসলে আমরা সেগুলো শুনি। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। তবে তা আমরা প্রকাশ করিনা। সম্প্রতি ভুল চিকিৎসায় ডাক্তার নূরিয়া জাহান কেয়া নামের একজন নারী চিকিৎসকের বাবার মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এ বিষয়ে ওই চিকিৎসক স্বাস্থ্য মন্ত্রাণলয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। তারা বিষয়টি দেখবেন।
এর আগে গুলজার আহমদ নামে সিলেটের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তার শ্বশুড়ের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এ সম্পর্কে তিনি জানেন না।
শিপন আহমদ নামের একজন সাংবাদিকের স্ত্রী ওই হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে কেন্টিন থেকে ভাসী ও দুগন্ধযুক্ত সুপ সরবরাহ করা হয় এনিয়ে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি বলেন- এটি আমার জানা নেই।
হাসপাতালটি নিয়ে সচেতন নাগরিকদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবহেলা ও অনিয়ম কোনভাবেই বরদাশতযোগ্য নয়। দ্রæত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহŸান জানান।