মানবতাবিরোধী অপরাধ ॥ হবিগঞ্জের মধু মিয়াসহ ২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন

45

হবিগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার মধু মিয়া তালুকদার ওরফে মধু মিয়াসহ (৬৬) দুইজনের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
আসামি মধু মিয়া বানিয়াচং থানার মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপির সমর্থক। বর্তমানে তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। তবে এ মামলার অপর আসামি পলাতক থাকায় তার নাম প্রকাশ করেনি তদন্ত সংস্থা।
এটি তদন্ত সংস্থার ৬৭তম প্রতিবেদন। মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজধানীর ধানমন্ডির তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান সমন্বয়ক এম এ হান্নান খান। এ সময় সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান সমন্বয়ক হান্নান খান বলেন, আসামি মধু মিয়ার বিরুদ্ধে একাত্তরে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাটসহ মোট ৫টি অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল তদন্ত শুরু হয়। এরপর গত বছরের ২৩ মে তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে আসামি মধু মিয়া এবং তার বংশের লোকজন মুসলিম লীগের সমর্থক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি বানিয়াচং থানাধীন মুরাদপুর ইউনিয়নে পিস কমিটি ও ‘মধু বাহিনী’ নামে একটি রাজাকার দল গঠন করে বলে সাক্ষীদের থেকে জানা যায়। তখন এ আসামি ওই রাজাকার কমিটির কমান্ডার ছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি পলাতক ছিলেন। ১৯৭৬ সালে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে এসে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০১৬ সালে বিএনপি থেকে বানিয়াচং থানাধীন মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। বর্তমানে তিনি এই ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি পদে রয়েছেন।