পাকিস্তান থেকে সিলেটে ডাকযোগে হেরোইন পাচার এর মামলা ॥ দুই পাচারকারীর ফাঁসির দন্ড

স্টাফ রিপোর্টার :
পাকিস্তান থেকে ডাকযোগে সিলেটে হেরোইন পাঠানোর দায়ে ২ পাচারকারীকে ফাঁসি (মৃত্যুদন্ড) দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ২ পাচারকারীকে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো: মফিজুর রহমান ভূঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে- বিয়ানীবাজার থানার উত্তরবাগ টিকরপাড়ার তমছির আলীর পুত্র পারভেজ আলম সুজন (২৬) ও একই থানার রাজ্জাকপুর গ্রামের মৃত মুহিব আলীর পুত্র হোসেন আহমদ উরফে মানিক (৫১)। রায় ঘোষনার সময় পারভেজ আলম সুজন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও সাজাপ্রাপ্ত আসামী হোসেন আহমদ উরফে মানিক পলাতক ছিলো। আদালতের বেঞ্চসহকারী নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সংক্ষিপ্তি বিবরণে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ দুপুর ১ টার দিকে নগরীর দক্ষিণ সুরমা বৈদেশিক ডাকঘর শুল্ক ইউনিট সিলেটে পাকিস্তান থেকে ডাক বিভাগের মাধ্যমে আগত ৪টি পার্সেল কাপড়ের তৈরী পণ্য ভর্তি ব্যাগ জাকির, গৌরাল, বাবুল ও জামিল সিলেটগণের নামে আসে। শুল্কায়নের নিমিত্তে ডাক বিভাগের প্রতিনিধি সুপারভাইজার ও অন্যান্য লোকের উপস্থিতিতে ডাকটি খোলেন। খোলার পর উক্ত ৪টি পার্সেলের কাপড়ের মধ্যে ১টি নীল রংয়ের পলিথিনের শপিং ব্যাগের মধ্যে পাতলা ও স্বচ্ছ পলিথিনের ৩ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি প্যাকেটের মধ্যে বাতাসশূন্যভাবে রক্ষিত বাদামী রংয়ের গোড়া পদার্থ। যা ৯০টি প্যাকেটে ৭ কেজি ৯৫ গ্রাম কথিত হেরোইন পাওয়া যায়। উক্ত হেরোইনের একটি করে প্যাকেট সলিউশন জাতীয় আঠা দ্বারা ফোমের সহিত কসটেপ দিয়ে সংযুক্ত করে লুকানো অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় সিলেট দক্ষিণ সুরমা বৈদেশিক ডাকঘর শুল্ক ইউনিট এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বাদি হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- ৮ (১৩-৩-২০১৪)।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ২ নভেম্বর মহানগর গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক মো: জামশেদ আলম ২ আসামীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন এবং ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর থেকে আদালত এ মামলার বিচার কায্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানী ও ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামী পারভেজ আলম সুজন ও হোসেন আহমদ উরফে মানিককে ১৯৯০ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৯ (১) এর টেবিল ১ (খ) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদেরকে উল্লেখিত ফাঁসি ও অর্থদন্ড দেয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি এডভোকেট মো: মফুর আলী ও স্টেড ডিফেন্স এডভোকেট মো: শাহ আলম মহি উদ্দিন এবং আসামীপক্ষে এডভোকেট মো: আবু খায়ের হেলাল আহমদ ও এডভোকেট মো: লুৎফুর রহমান মামলাটি পরিচালনা করেন।