বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন

রোজার আগে থেকেই নানা অজুহাতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিবছরই এই প্রবণতা লক্ষ করা যায়। অন্যান্য দেশে উৎসবের আগে জিনিসপত্রের দাম কমানো হয়, আমাদের দেশে দেখা যায় এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। এখানে প্রতিবছর উৎসবের আগে নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। রোজার মাসে নানা পণ্যের চাহিদা বাড়ে। দেখা যায়, এসব পণ্যের দাম রোজার মাস শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই বাড়িয়ে দেওয়া হয়। পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে সবাই যেন বছরের সব লাভ এই এক মাসেই করে নিতে চায়। যে যেভাবে পারে দাম বাড়িয়ে অনৈতিকভাবে মুনাফা করতে থাকে। এতে বিপদে পড়ে নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। এবার রোজার মাস শুরু হওয়ার আগে থেকেই বাজারে মাছের দাম বাড়তির দিকে ছিল। রোজার অর্ধেকেরও বেশি চলে গেছে। বাজারে মাছের দাম কমেনি। অন্যদিকে সবজির বাজারও চড়া। বাজারে প্রচুর সবজির আমদানি হলেও বৃষ্টির কারণে সরবরাহে ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে। রোজার আগে যে বেগুনের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। রোজার মাসে মাছ-মাংসের চাহিদা একটু বেশি থাকে। সেই সুযোগ নিয়ে মাছ ও মাংসের বাজারও চড়া।
রোজার সময় বাজার স্থিতিশীল থাকবে এমন কথা সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়ে থাকে। কিন্তু রোজার মাস এলেই দেখা যায় বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বাজার তদারকি কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তায় প্রশ্নবিদ্ধ হয় সরকারের আন্তরিকতা। অন্যান্যবারের মতো এবারও টিসিবির পক্ষ থেকে খোলাবাজারে কিছু পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু তা সাধারণের কতটা প্রয়োজন মেটাতে পেরেছে, সে প্রশ্ন রয়ে গেছে। রোজায় প্রয়োজন হয় এমন সব পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত আছে, এমন কথাও শোনা গেছে। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।
আসলে সব কিছুই নির্ভর করে সরকার ও ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছার ওপর। ঈদের আগে তেল-মসলার দামও হয়তো বরাবরের মতো বাড়িয়ে দেওয়া হবে। নিয়ন্ত্রণহীন বাজারব্যবস্থায় ভোক্তাকেই শুধু প্রতারিত হতে হয়। ব্যবসায়ীরা অনৈতিক মুনাফার লোভ বাদ দিলে এবং সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হলে বাজারে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকত। বাজার নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ কি আদৌ কোনো দিন দেখা যাবে?