৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে বহু প্রতীক্ষিত জাফলং সেতুর উদ্বোধন আজ

গোয়াইনঘাট থেকে সংবাদদাতা :
গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং নদীর উপর নির্মিত জাফলং সেতুর কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১১টায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে তা শুভ উদ্বোধন করবেন।
জানা যায়, প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনশ’ ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থের এ সেতুটি বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএনও (জেভি)। পি.সি গার্ডার প্রকল্পের এ সেতুটিতে অর্থায়ন করছে এলজিইডি। ২০১৩ সালের নভেম্বরে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। টানা চার বছর নির্মাণ কাজ শেষে তা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেতুটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার ফলে গোয়াইনঘাটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন তেমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
সেতুটির বাস্তবায়নের ফলে সিলেট শহর থেকে পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ের দুরত্ব কমে আসছে প্রায় ১৮ কিলোমিটারের অধিক পথ। তাছাড়াও সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় উপজেলা সদরের সাথে জাফলংয়ের দুরত্বও অনেকটাই কমে আসছে। যা জাফলং তথা গোয়াইনঘাটবাসীর জন্য কাঙ্খিত ফসল।
অপরদিকে জাফলং কোয়ারি থেকে উত্তোলিত পাথর ও বালু সরবরাহ হবে রাধানগর-গোয়াইনঘাট হয়ে সালুটিকরে। এতে করে পাথর ও বালুকে কেন্দ্র করে গোয়াইনঘাট-সালুটিকর রাস্তার উভয় পার্শ্ব বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান লেবু জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ’র নিরলস প্রচেষ্টার ফলে গোয়াইনঘাটবাসীর বহুল প্রত্যাশিত জাফলং নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির বাস্তবায়ন হয়েছে। সেতুটি উদ্বোধন হওয়ার ফলে জাফলং কোয়ারি থেকে উত্তোলিত পাথর ও বালু সরবরাহ হবে রাধানগর-গোয়াইনঘাট হয়ে সালুটিকরে। এতে করে বালু ও পাথরকে কেন্দ্র করে গোয়াইনঘাট-সালুটিকর রাস্তার উভয় পার্শ্ব বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে গড়ে উঠবে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সাথে জাফলংয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে
জাফলং নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। একটি মাত্র সেতুর কারণে গোয়াইনঘাট উপজেলাসহ সিলেটের সীমান্ত জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।