ওসমানীনগরে আটকৃতদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী ॥ ধর্ষণের ঘটনা দেখে ফেলায় মা-ছেলেকে হত্যা

ওসমানীনগর থেকে সংবাদদাতা :
ওসমানীনগরে জোড়া খুনের ঘটনায় মামলা দায়েরের ৯ দিন পর তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দিনগত রাতে ও মঙ্গলবার ভোরে ওসমানীনগর থানার একদল পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো-উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গদিয়ারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নানের ছেলে নজরুল ইসলাম (২৭), একই গ্রামের আবুল কালামের ছেলে জয়নাল মিয়া (২৮) ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন গ্রামের জবেক মিয়ার ছেলে জকরুল মিয়া (২২)।
ধৃত তিনজন পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা ও ছেলেকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। আটককৃতদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে ওসমানীনগর থানার তদন্ত ওসি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসএম মাইন উদ্দিন বলেন, প্রথমে ধর্ষনের পর মাকে হত্যা করা হয়। মাকে হত্যার ঘটনাটি দেখে ফেলায় তার শিশু ছেলেকেও হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে হাওরে নিয়ে ফেলে রাখা হয়। আটককৃতদের ভাষ্যমতে ধারণা করা হচ্ছে ১৭ মার্চ রাতে এই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছে।
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সহিদ উল্যা বলেন, আটককৃত তিনজন মা ও তার শিশু ছেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হলে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৪ মার্চ উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের একারাই গ্রামের হাওর এলাকা থেকে মৃত দেবেন্দ্র মালাকারের স্ত্রী দিপু মালাকার (৩৬) ও তার শিশু পুত্র পিয়াস মালাকারের (৭) গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার কাচারী মালাকার পাড়া গ্রামে। নিহত দিপু মালাকার দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার দক্ষিণ গোয়ালাবাজার সারং মিয়ার বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। মা ও ছেলে হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে বিজয় মালাকার বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২৪ মার্চ সকাল থেকে স্থানীয় একারাই এলাকার বাসিন্দারা লাশের দূর্গন্ধ অনুধাবন করেন। স্থানীয়রা কৌতুহলবশত: দুর্গন্ধের কারণ তালাশ করে পরিত্যক্ত কৃষি জমিতে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় প্রথমে এক নারীর গলিত লাশের সন্ধান পেয়ে থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। তখন ওই লাশটির পরিচয় শনাক্ত হয়নি। নারীর লাশ উদ্ধারের দুই-তিন ঘন্টা পর স্থানীয়রা একই স্থানে অনুরুপ ভাবে আরো একটি শিশুর গলিত লাশ দেখতে পান। লাশ দুটি উদ্ধারের ঘটনা জানাজানি হলে রাতে তাদের স্বজনরা লাশগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম হন।