জগন্নাথপুরে বোরো ধান কাটা শুরু, কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি

মো. শাহজাহান মিয়া জগন্নাথপুর থেকে :
জগন্নাথপুরে বোরো ধান কাটা শুরু হওয়াতে কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। হাওরে হাওরে পাকা ও আধা পাকা ধান বাতাসের তালেতালে দুলছে। ধানের মৌ মৌ গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। জমিতে পাকা ধান দেখে কৃষক-কৃষাণীসহ জনমনে স্বস্তি বিরাজ করছে।
৩ এপ্রিল মঙ্গলবার সরজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওর সহ অন্যান্য ছোট বড় হাওরে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান কাটা শ্রমিকদের সাথে জমির মালিকরাও আনন্দে ধান কাটছেন। এ সময় জগন্নাথপুর পৌর শহরের ইকড়ছই গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আশিক আলী বলেন, এবার বোরো ফসল কাটতে পেরে আমরা অনেক আনন্দিত। এবার ব্রি ২৮ ধানে ছিটা হয়েছে। ফলনও ভাল হয়নি। তবে ব্রি ২৯ ধানের ফলন খুবই ভাল হয়েছে। এবার আমি ৬ কেদার ২৮ ও ৬ কেদার ২৯ ধান চাষাবাদ করেছি। আশা করছি ২৮ ধানের ক্ষতি ২৯ ধান দিয়ে পুষানো যাবে। কৃষক আশিক আলীর মতো অন্যান্য কৃষকরাও এভাবে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
এছাড়া জমির পাকা ধান গোলায় তুলতে অন্যান্য কৃষকরাও ধান কাটার মেশিন, ধান কাটার শ্রমিক সংগ্রহ, ধান মাড়াইয়ের মেশিন সংগ্রহ, ধান শুকানোর খলা ও ধান রাখার গোলা তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে আর মাত্র ২ সপ্তাহের মধ্যে কৃষকরা জমির ধান গোলায় তুলতে পারবেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, এবার জগন্নাথপুরে ২০ হাজার ৩৩৩ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে ব্রি ২৮ ধান কাটা শুরু হয়েছে। প্রকৃতি অনুকুলে থাকলে এবার বাম্পার ফলন গোলায় উঠবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লাল সার কম দেয়া, তাপমাত্রার ভারসাম্যহীনতা সহ বিভিন্ন কারণে ২৮ ধানে সামান্য ছিটা হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। অন্য ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী জগন্নাথপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত (এসও) নাসির উদ্দিন বলেন, ধান কাটা শুরু হওয়াতে কৃষকদের সাথে আমরাও আনন্দিত। যদিও এবার হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের খুবই ভাল হয়েছে। এরপরও প্রকৃতির সাথে কারো হাত নেই। যদি প্রকৃতি অনুকুলে থাকে তবে এবার বাম্পার ফসল পাবেন কৃষকরা।
উপজেলার নলুয়ার হাওর পারের বাসিন্দা চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আরশ মিয়া বলেন, গত বছর হাওর ডুবিতে ফসল হানির ঘটনায় কৃষকরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। এবার বাম্পার ফসল গোলায় উঠলে কিছুটা হলেও পুরণ হবে। এছাড়া ধান কাটা শুরু হওয়াতে কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আলাদা আনন্দ বিরাজ করছে। জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী, পিআইসি কমিটির সভাপতি ও কৃষক ছালিকুর রহমান বলেন, প্রথমে আমরা বেড়িবাধের কাজ দ্রুত শেষ করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। বর্তমানে জমির পাকা ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এবার জমিতে ভাল ধান উৎপাদন হয়েছে। ধান গোলায় উঠলে কিছুটা হলেও গত বছরের ক্ষতি পুষানো যাবে।
প্রসঙ্গত-গত বছর হাওর ডুবিতে কাচা ফসল হানির ঘটনায় কৃষকদের আহাজারিতে চারদিকে হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সারা বছর কৃষকদের চাল ও টাকা দিয়ে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখে। এতে ভাতের অভাবে কোন মানুষকে কষ্ট পেতে হয়নি। এবার জমির পাকা ধান কাটতে পেরে কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। কৃষকদের সাথে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।