বিভাগ: সম্পাদকীয়

পেঁয়াজের দাম কমছে

শীতের সবজির দাম কমলেও স্বস্তি ফেরেনি বাজারে। ভোক্তাদের অস্বস্তির কারণ পেঁয়াজ ও চাল।
আমনের মৌসুমেও চালের দাম কমেনি। অথচ কৃষকের মুখে হাসি। কারণ বন্যার পর ফলন ভালো হয়েছে। সরকারও আমন সংগ্রহের জন্য যে দাম নির্ধারণ বিস্তারিত

তথ্য ও প্রযুক্তির প্রসার জরুরী

প্রযুক্তি, বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। পাঁচ দশক আগেও টেলিফোনে কথা বলার জন্য বুকিং দিয়ে অপেক্ষায় থাকতে হতো।
কখন লাইন পাওয়া যাবে, সেটিও ছিল অনিশ্চিত। আর এখন মোবাইল ফোনে শুধু বাংলাদেশে নয়, দুনিয়ার যেকোনো প্রান্তে যেকোনো সময় কথা বলা যাচ্ছে। যার সঙ্গে কথা হচ্ছে, তাকে দেখাও যাচ্ছে। আশির দশকেও যেখানে একটি পার্সোনাল কম্পিউটার বা পিসিতে তথ্য ধারণের ক্ষমতা ছিল কয়েক মেগাবাইট, এখন সেখানে ছোট ছোট ল্যাপটপেও তথ্য ধারণক্ষমতার হিসাব গিগাবাইট ছাড়িয়ে টেরাবাইটে চলে যাচ্ছে। একজন ব্যবসায়ী আমেরিকায় বসেও বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন। দুনিয়ার যেকোনো বিষয়ে হাতের কাছে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা কয়েক দশক আগেও ছিল কল্পনার অতীত। প্রযুক্তির এই অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যারা এগোতে না পারবে, তারা ক্রমেই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। আমাদের সৌভাগ্য, গত সাত-আট বছরে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই আজ অটোমেশনের ছোঁয়া লেগেছে।
তাতে কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি দুর্নীতি-অনিয়ম ক্রমেই কমে আসছে। এসবের জন্য দ্রুত জনবল গড়ে উঠছে। নতুন নতুন টেক পার্ক গড়ে উঠছে। আর সেসবের ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যেও। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, এক দশক আগেও যা ভাবা যেত না। আউটসোর্সিংয়ের আয় ২০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা যে খুব দ্রুতই অর্জিত হবে, তা এখন এ ক্ষেত্রে ওয়াকিফহাল প্রায় সবাই স্বীকার করছেন। এমন এক পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ডিজিটাল সম্মেলন ২০১৭। গত বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক সফল দৃষ্টান্ত সোফিয়া নামের কন্যা রোবট। রোবট সোফিয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং পরে অতিথিদের উদ্দেশে যে আলাপচারিতা করে, তা যেন কল্পনাকেও হার মানায়। সোফিয়াকে একনজর দেখার জন্য সেখানে প্রচণ্ড ভিড় জমে যায়। সোফিয়ার উদ্ভাবক ড. ডেভিড হ্যানসন প্রযুক্তির প্রতি বাংলাদেশিদের এমন আগ্রহ দেখে অভিভূত হয়েছেন। ভবিষ্যতে সোফিয়ার নির্মাতা হ্যানসন রোবটিক্সের পক্ষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপারেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের জন্য এটি অবশ্যই একটি সুখবর। আর তা সম্ভব হয়েছে গত সাত-আট বছরে বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির একটি ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে বলেই।
তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশে অগ্রগতির যে ধারা সূচিত হয়েছে, তা আরো এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যে সাবমেরিন কেবল ডাবল হয়েছে। মার্চের মধ্যে নিজস্ব কৃত্রিম উপগ্রহ উক্ষেপণের কথা রয়েছে। নেটওয়ার্কিং আরো উন্নত করতে হবে। ইন্টারনেটের ব্যয় কমাতে হবে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের তরুণরা অবশ্যই মেধাবী, তারা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাবেই।

শিক্ষার বিদ্যমান অবস্থা নাজুক

দেশে শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু মানসম্মত শিক্ষার প্রসার ঘটেছে বলা যাবে না। তাই দেখা যাচ্ছে, ভাল মানের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। সরকারী বিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত শিক্ষার যথাযথ উপকরণ ও ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষা সেভাবে হচ্ছে না। মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের স্কুলভিত্তিক সর্বশেষ স্ব-মূল্যায়ন প্রতিবেদনে মাধ্যমিক শিক্ষার যে হাল-হকিতের চিত্র ফুটে উঠেছে তা আশাব্যঞ্জক নয়। বরং হতাশাই বাড়ায় ‘দেশে’ খুব ভাল মানের মাধ্যমিক স্কুল এখনও দশ শতাংশের কম। শিক্ষা নিয়ে এত হাঁকডাক শোনা গেলেও ভাল স্কুলের সংখ্যা এখনও দুই অঙ্কের কোটাতেও পৌঁছতে পারেনি। এমন করুণ দশা স্পষ্ট করে আদতে শিক্ষার মান বাড়ানোর কাজটি পিছিয়ে আছে। এই যদি হয় মাধ্যমিক স্তরের অবস্থা, তাহলে শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার কী ফল বয়ে আনবে? জাতির ভবিষ্যৎ তৈরি হচ্ছে তবে দুর্বল ও নিম্ন মানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে। শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় মূলত কোন সুফল বয়ে আনছে না। প্রতিবেদনই বলছে, দুর্বল ও অকার্যকর বিদ্যালয়ে ঠিকমতো পাঠদান হয় না। শিক্ষার পরিবেশও ভাল নেই। ফলে পরীক্ষার ফলাফলও ভাল হবার কোন কারণ দাঁড়ায় না। পাহাড়ী, হাওড়, উপকূলীয় এলাকা ছাড়াও নদীমাতৃক এলাকা এবং সমতল এলাকায় প্রায় দশ শতাংশের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে। সারাদেশের মোট আঠারো হাজার চারশ’ পনেরোটি স্কুল মূল্যায়নের ফলাফলই প্রমাণ, দুর্বল বিদ্যালয়গুলো লেখাপড়াবিমুখ অবস্থানে রয়েছে। শিক্ষণ ও শেখানোর পরিবেশ, প্রতিষ্ঠান প্রধানের নেতৃত্ব, শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব, শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব, সুপেয় পানি এবং টয়লেটের ব্যবস্থা ও সহ-শিক্ষাক্রমিক কর্মসূচী এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম বিষয়ে মূল্যায়ন জরিপ করা হয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তায়। সফল যোগ্যতা বিচারে নব্বই শতাংশের ওপর প্রাপ্ত নম্বরের স্কুলগুলোকে। ‘এ’ ক্যাটাগরি ৮০ থেকে ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ নম্বর ‘বি’, ৭০ থেকে ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাপ্ত নম্বর ‘সি’, ৫০ থেকে ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ ‘ডি’ ক্যাটাগরি এবং ৪৯ দশমিক ৯ শতাংশ নম্বর পাওয়া স্কুলগুলো ‘ই’ ক্যাটাগরি হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরি হচ্ছে অতি উত্তম, ‘বি’ ভাল, ‘সি’ মধ্যম, ‘ডি’ দুর্বল ও ই ক্যাটাগরি হচ্ছে অকার্যকর। ভাল এবং খারাপ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ‘একাডেমিক এক্সচেঞ্জ ভিজিটের’ ব্যবস্থা করা না গেলে এই বিপর্যয় থেকে উদ্ধার পাওয়া অসম্ভব। মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, পরিদর্শন এবং মনিটরিং জোরদার না হবার কারণে মানে হেরফের ঘটছে বলা যায়। দেশে ভাল মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব থাকলেও সে অভাব পূরণ হচ্ছে কমই। মূল্যায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলো আত্মবিশ্লেষণ করলেও সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছে না। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা লাঘবের কাজটি শিক্ষা দফতরের হলেও তারা এতে মনোনিবেশে আগ্রহী নয়। বরং নতুন নতুন বিদ্যালয় স্থাপিত হচ্ছে দফতরের অতি আগ্রহে। কিন্তু এসবের মান ভাল করার ক্ষেত্রটি রয়ে যাচ্ছে অবহেলিত। এটা তো বাস্তব যে, একজন শিক্ষার্থীর জীবনের দিকনির্দেশক কম্পাসের ভূমিকা পালন করে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু সে প্রতিষ্ঠান যদি হয় দুর্বল, অকার্যকর, মধ্যম মানের তবে উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত ও দীক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার সব আয়োজনই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য। জাতীয় শিক্ষানীতি এই করুণ দশা থেকে উদ্ধার করতে পারছে না। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ভাল মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের সকল বিদ্যালয় গড়ে উঠুক এই কামনা সবারই। কর্তৃপক্ষের যদি টনক নড়ে তবে বিদ্যমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

 

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা

আগামীকাল পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। এই পবিত্র দিনটিতে মুসলমানরা ঈদগাহে গিয়ে একসঙ্গে নামাজ শেষ করে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দেবেন। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব বয়সী মুসলমান ভাবগম্ভীর পরিবেশে নামাজ আদায় এবং পরস্পর কুশলাদি বিনিময়ের পাশাপাশি কোলাকুলি করেন। ঈদগাহে সমবেত সব মুসল্লি আল্লাহপাকের দরবারে মোনাজাত করেন পার্থিব এবং পারলৌকিক কল্যাণের আশায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য দুই ঈদই অশেষ সংহতি ও সম্প্রীতি বয়ে আনে। কোরবানির মাংসের একটি অংশ দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে ঈদের আনন্দ ভিন্নতর মাত্রা পায়। হযরত ইব্রাহিম (আ) যে উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন সেটাকেই মর্যাদা দিয়ে বিশ্বের মুসলমানরা ঈদ-উল-আযহা পালন করে আসছেন। মূলত কোরবানির মধ্য দিয়ে আত্মোৎসর্গের এক পরম মহিমার নজির স্থাপন করে গেছেন হযরত ইব্রাহিম (আ)। শরীয়তের বিধান অনুসারে কোরবানির পশুর মাংস তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজে, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের এবং এক ভাগ দরিদ্রদের মধ্যে বিলি করার নির্দেশ রয়েছে। ইসলাম ধর্ম সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং পরোপকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ ছাড়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতাকেও। পরিতাপের বিষয়, ইসলামের সঠিক বিধিবিধান আমরা অনেকেই গুরুত্ব না দিয়ে অবাঞ্ছিত প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ি।
আমাদের মধ্যে বিদ্যমান পশু প্রবৃত্তি, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা জাতীয় নেতিবাচক প্রবৃত্তিকে সরিয়ে ফেলে সহজ-সরল মানবিক গুণাবলী অর্জন করাই হচ্ছে ঈদ-উল-আযহার তাৎপর্য। পবিত্র ঈদ-উল-আযহায় আমাদের প্রার্থনা- আল্লাহপাক যেন বিশ্ব মুসলিমের জাতীয় জীবনকে মর্যাদাশীল করেন। সবার জীবন আনন্দময় হোক। ঈদ মোবারক।

কোরবানীর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সতর্কতা

আগামী ২ সেপ্টেম্বর পালিত হবে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। প্রতিবছরের মতো এবারও দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক পশুর হাট বসেছে। এসব হাটে পশু আসতে শুরু করেছে। বহু উৎসাহী ক্রেতা এসব হাটে গিয়ে কোরবানির পশু দেখে আসছেন। এবার নানা পথে ভারতীয় গরু দেশে আসায় হাটগুলোতে পর্যাপ্ত গরুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে কেনাবেচা এখনও পুরোদমে শুরু হয়নি। স্থানীয়ভাবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হাসিল নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এতে কোরবানির পশু কেনার ব্যাপারে ভোগান্তি অনেকটা কমবে বলে আশা করা যায়। বেশিরভাগ হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ভেটেরিনারি টিম সদাতৎপর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। রয়েছে মোবাইল ব্যাকিং ব্যবস্থাও। কোন কোন হাটে সিসি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্রসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে ওঠে। চক্রটি হাটে জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারের হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ যন্ত্র থাকলেও এই চক্রটি যেন হাটে ঢুকতে না পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমাদের ঈদ-অর্থনীতির অন্যতম দিক হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। বাংলাদেশে চামড়া শিল্প প্রসারের অন্যতম কারণ একসঙ্গে প্রায় কোটির মতো পশু কোরবানি দেয়া হয়। এই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে দেশে বিশাল চামড়া শিল্প গড়ে উঠেছে। দেশে প্রায় পাঁচ লাখ ২২ হাজার খামার রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারও কোরবানিকে ঘিরে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ গরু। রয়েছে ভেড়া ও ছাগল। কোরবানি ঘিরে বিপুল পশুর চাহিদা মূলত প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে জোগান দেয়া হতো।
কোরবানির এই পশু সঙ্কটের মধ্যে আমাদের দেশে গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল পালন বেড়ে যায়, যা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। কোরবানির পশু বিক্রি করে খামারিরা প্রতি বছর বড় ধরনের আয় করেন। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য পশু পালন করেন। সারা বছর পশু পালন করার একটাই লক্ষ্য থাকে, কোরবানির হাটে তা বিক্রি করে বড় অঙ্কের আয় করে নেয়া। এ প্রবণতা বেড়েছে ভারত থেকে পশু আমদানি বন্ধ হওয়ায়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে না এলেও চূড়ান্ত মুহূর্তে প্রতিবেশী দেশ থেকে বানের পানির মতো পশু ঢুকতে থাকে। ফলে দেশীয় উৎপাদকরা লোকসানে পড়েন। এবারও এই আশঙ্কা রয়েছে। পশু কোরবানি আমাদের অর্থনীতির জন্য দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ঈদ ঘিরে অর্থনৈতিক লাভালাভের সবটুকু আমাদের ঘরে উঠবে। অর্থনৈতিক লাভালাভের এই সুযোগকে সরকারের প্রণোদনা দেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

প্রবাসীদের নিরাপত্তা জোরদার করুন

দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিকরা বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাজনিত সঙ্কটে পড়েন। নিরাপত্তাহীনতার কারণ ও ধরন একেক দেশে একেক রকম। সম্প্রতি বাংলাদেশীদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিমাসেই দেশটির বিভিন্ন স্থানে দুষ্কৃতকারীদের হাতে একাধিক বাংলাদেশী নিহত হচ্ছেন। বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা প্রদানে দেশটির সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদনের পরও এ বিষয়ে সাড়া মিলছে না। গত চার মাসে দেশটিতে নিহত হয়েছেন ১০ বাংলাদেশী। ২০১৫ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী আন্দোলন চলছে। তারপর থেকেই অভিবাসীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বেসরকারী উদ্যোগে বিদেশ গিয়ে নানাভাবে প্রতারিত হতে হয় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী জনশক্তিকে। বেতন-ভাতা নিয়ে প্রবঞ্চনা, চাকরির নিশ্চয়তা না থাকা, অবৈধ হিসেবে পরিগণিত হয়ে দুর্বিষহ জীবন-যাপনে বাধ্য হতে হয় তাদের। দেশের জন্য ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জনকারী প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বার বার কথা ওঠে। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বা নিয়োগকর্তার দেশের সরকার তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে কতটুকু খেয়াল রাখে, সেটা প্রশ্ন। বেশকিছু দেশে শ্রমিকদের ভালমন্দ দেখভাল করার জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং আছে। এসব উইং-এ লেবার এ্যাটাশেও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, থাকার জায়গাসহ নানা ইস্যুতে শ্রমিকরা দূতাবাসে অভিযোগ করলেও তাতে ফল হয় না।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, বর্তমানে প্রায় ৯৬ লাখ বাংলাদেশী অভিবাসী হিসেবে বিশ্বের ১৬০টি দেশে কর্মরত আছেন। তবে এই সংখ্যা আরও বেশি, এক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যে চাকরি নামক সোনার হরিণের সন্ধানে এ পর্যন্ত যে কতজন প্রাণ দিয়েছেন তার হিসাব নেই সংশ্লিষ্ট দফতর ও মন্ত্রণালয়ে।
প্রবাসীদের কল্যাণে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে ‘প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন-২০১৭’ খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বোর্ডের কর্মতালিকা দীর্ঘ হলেও বাস্তবে সুফল কতটুকু মিলছে? এই বোর্ড অভিবাসীদের পরিবারের সদস্যদের কল্যাণার্থে প্রকল্প গ্রহণ ও পরিচালনা করবে; প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের কল্যাণার্থে তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ দেবে; প্রবাসীদের মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ, বকেয়া বেতন, ইন্স্যুরেন্সের অর্থ ও সার্ভিস বেনিফিট আদায়ে সহায়তা করবে; প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি প্রদান ও তাদের আইনী সহায়তা দেবে; প্রবাসী কর্মীদের জন্য তথ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করবে। এছাড়া বিদেশে কর্মরত কোন নারী অভিবাসী বিপদগ্রস্ত বা দুর্ঘটনার শিকার হলে তাকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত আনা, চিকিৎসা ও আইনী সহায়তা প্রদান করা; দেশে প্রত্যাগত নারী অভিবাসী কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা এবং নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তার জন্য দেশে কিংবা বিদেশে সেফ হোম প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা হবে প্রবাসীকল্যাণ বোর্ডের কাজ। প্রশ্ন হচ্ছে, এই বোর্ডের সক্রিয়তা এখনও দৃশ্যমান হচ্ছে না কেন? বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশের মানুষের বিপদে-আপদে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস আন্তরিকভাবে তৎপর হবেÑ এটাই দেশবাসীর চাওয়া।

অতি মুনাফার প্রবণতা রোধ করুন

বন্যার অজুহাতে বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। সবজি থেকে শুরু করে সব ধরনের খাদ্যপণ্য, ভোজ্য তেল ও মসলার দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অজুহাত একটাই, বন্যা; যদিও বন্যার কারণে সরবরাহে কোনো টান পড়েনি। পরিবহন খরচ সামান্য বাড়লেও বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বরং পরিবহন খরচের তুলনায় মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক। ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার প্রবণতাই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ বলে ধরা হচ্ছে।
বাজারে মূল্যবৃদ্ধির এ প্রবণতা শুরু হয় চালের মূল্যবৃদ্ধি দিয়ে। হাওরে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ফসল উঠতে পারেনি। সরকার দ্রুত চাল আমদানির ব্যবস্থা নিলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। ওদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের এই সময়ে ভারতীয় যে চালের দাম ছিল ৩৬৭ ডলার, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪০৪ ডলারে।
থাইল্যান্ডের যে চাল গত বছর টনপ্রতি ৩৯৪ ডলারে বিক্রি হয়েছে, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৪৭ ডলারে। সরকার চালের আমদানি শুল্ক সর্বনিম্ন নির্ধারণ করার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে এখানে দাম স্থির থাকছে না। অবশ্য এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি নেই এমন কথাও বলা যাবে না। ঘূর্ণিঝড় মোরা, পাহাড়ধস ও হাওর এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বর্ধিত হারে ত্রাণ বিতরণ এবং বোরো ফসল থেকে কাক্সিক্ষত মাত্রায় চাল সংগ্রহ করতে না পারার জন্য মজুদ হ্রাস পায়। অনিবার্যভাবেই বাজারে তার প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে কাঁচা পণ্যের বাজারেও অব্যাহতভাবে মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে থাকে। উৎপাদন ব্যাহত হলে বা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেলে সংকট দেখা দেবে। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি এখন থেকেই ভেবে দেখতে হবে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের বাজার যাতে অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

শোকাবহ ১৫ আগষ্ট

আজ শোকাবহ ১৫ আগষ্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বিপথগামী কতিপয় সেনা সদস্যের হাতে সপরিবারে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। শোকসন্তপ্ত জাতি আজ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধুকে বিশেষভাবে স্মরণ করছে। যাঁর গৌরবময় নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই মহান নেতাকে সপরিবারে হত্যা শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক ঘটনা। ঘাতক দল ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তাঁর নাম ইতিহাস থেকে চিরতরে মুছে ফেলবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন সফল হয়নি। যে বাড়িতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শহীদ হয়েছেন সেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি এখন জাতির অন্যতম আবেগময় স্মৃতিচিহ্নে পরিণত হয়েছে। আর তিনি বাঙালি জাতির প্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ঘাতকরা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার যে পথ সৃষ্টি হয়েছিল সেখান থেকে দেশকে সরিয়ে বিপরীতমুখী করার উদ্দেশ্য ছিল তাদের বড় একটি লক্ষ্য। তাদের লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলিয়ে দেয়া। মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর অবদানকে খাটো করা এবং যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার মধ্যে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল সেটা নস্যাৎ করে দেয়া। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে শুরু হয় এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। একটা পর্যায় দেশে এসেছিল যখন বঙ্গবন্ধুর নামটাও জাতীয় প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হতে পারত না। ইতিহাস থেকে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। তরুণদের দীর্ঘকাল জানতে দেয়া হয়নি মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুকে শুধু অস্বীকার করাই নয়, নানাভাবে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। তাঁর অবদানকে নানাভাবে খাটো করা, এমনকি অস্বীকারও করা হয়েছে। কিন্তু কুচক্রীদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে। এ দেশের ইতিহাসের সঙ্গে যাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত, দেশের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় যাঁর স্থান, কোন হুকুম বা ফরমান দিয়ে তাঁর নাম মুছে ফেলা যায় না, তাঁর অবদানকে খাটো করা যায় না। দেশকে তিনি ভালবেসেছেন অকৃত্রিমভাবে, দেশের মানুষও তাঁকে দিয়েছে হৃদয় উজাড় করা ভালবাসা। তাই খুনী, ঘাতকচক্র ও তাদের পৃষ্ঠপোষকের সব চক্রান্ত, চেষ্টা, তৎপরতা ব্যর্থ হয়ে গেছে।
বঙ্গবন্ধু শারীরিকভাবে আজ না থাকলেও মানুষের হৃদয়জুড়ে তাঁর অবস্থান। তাঁর হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ঘাতকদের দন্ডাদেশ কার্যকর হয়েছে। তবে এখনও কয়েক ঘাতক পালিয়ে রয়েছে নানা দেশে। তাদের অতিদ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে দন্ডাদেশ কার্যকরের ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা সবার দাবি। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলা গড়ার। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার মাধ্যমেই তাঁর প্রতি সর্বোৎকৃষ্ট শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। সে কাজটাই এখন করতে হবে।

চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণ জরুরী

প্রথমে হাওরে অকালবন্যা, এরপর অতিবৃষ্টি ও ব্লাস্ট রোগে বোরোর ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবধারিতভাবেই এর প্রভাব পড়ে দেশের চালের বাজারে। সব ধরনের চালের দাম বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের মোটা চালের দাম চলে যায় তাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। সরকারের মজুদে টান পড়ায় দেখা দেয় বড় ধরনের সংকট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধান্ত নিতেও সরকার খুব একটা বিলম্ব করেনি। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চালের আমদানি শুল্ক ২৮ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার পাশাপাশি শূন্য মার্জিনে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দেওয়া হয়। সরকারও জিটুজি পদ্ধতিতে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যবসায়ীদের চাল এরই মধ্যে দেশের পাইকারি বাজারে পৌঁছে গেছে। সরকারের আমদানি করা চালের প্রথম চালানও চট্টগ্রাম বন্দরে চলে এসেছে। ১৮ জুলাই দ্বিতীয় ও ২২ জুলাই তৃতীয় চালান এসে পৌঁছবে। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই বললেই চলে। পাইকারি বাজারে চালের দাম কিছুটা কমলেও খোলাবাজারে চালের দাম একেবারেই কমেনি। আসেনি সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার নাগালে।
বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশের বাজারে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট সব সময় সক্রিয়। পণ্যমূল্য ওঠানামায় এই সিন্ডিকেটের হাত থাকে। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রেও থাকে নানা অজুহাত। এ ছাড়া এখানে কোনো পণ্যের দাম একবার বেড়ে গেলে সহজে তা কমানো যায় না। চালের ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়েছে বলে ধারণা করা যেতে পারে। আবার এক শ্রেণির মিল মালিক চাল মজুদ করে থাকতে পারে এমন ধারণাও করা হচ্ছে। সরকারের গুদামে চাল বিক্রির কথা থাকলেও অনেক মিল মালিক তা করেনি। এমন ১৬ হাজার মিলারের তালিকা এখন সরকারের হাতে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সবার আগে বাজার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হতে হবে। টিসিবিকে সক্রিয় করে খোলাবাজারে সীমিত আয়ের মানুষের কাছে নিয়মিত চাল বিক্রির উদ্যোগ এখনই নেওয়া গেলে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা যায়। সরকারের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা সব সময় দুর্বল বলে অভিযোগ আছে। মনিটরিংয়ের অভাবেও অনেক সময় বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কাজেই এদিকেও সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে। সর্বোপরি আমদানি করে হলেও সরকারের মজুদ বাড়াতে হবে। হাওরের বন্যার পর সরকারের মজুদ থেকে চাল বাজারজাত করলে কোনো ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর সুযোগ পেত না। আমরা আশা করব, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেবে।

নগরীতে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ আবশ্যক

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন শহরের সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এবার বর্ষায় এটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। মূলত সময়জ্ঞান ভুলে বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ সড়কজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি এ অবস্থার জন্য দায়ী। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রƒক্ষেপ আছে বলে মনে হয় না! ফলে নিত্যদিন যানজট-জলাবদ্ধতায় নাকাল হচ্ছে নগরবাসী। সাধারণত বর্ষাকে মানুষ স্বস্তির ঋতু মনে করে। বর্ষা মৌসুমে উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুঁড়ির এ মহাযজ্ঞ নগরবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়েছে। সড়ক খনন নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। নীতিমালা কেন মানা হচ্ছে না।
প্রতিবছর জলাবদ্ধতায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়লেও এ থেকে উত্তরণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না। বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাই শুধু ভেঙে পড়ে না, পাশাপাশি রাস্তায় আটকে পড়ে শ্রমজীবী-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সমন্বয়হীনতা, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব এবং অদূরদর্শী পদক্ষেপের কারণেই জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, এতে কোনো সন্দেহ নেই। জলাবদ্ধতা সমস্যা আমাদের সামনে যে সত্যটি তুলে ধরেছে তা হল- উন্নয়নের নামে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও এর কোনো সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।
জলাবদ্ধতা সমস্যা কোনো দৈব-দুর্বিপাক নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর অধিকাংশ রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মূলে রয়েছে অসময়ে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হলেও কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন। উচিত সমন্বিত প্রকল্পের আওতায় নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তা সার্বক্ষণিকভাবে পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দেয়া। একইসঙ্গে আরও একটি কাজ করা জরুরি : নগরীর চারপাশের নদ-খাল-নালা সংস্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা। নয়তো সাংবাৎরিক জলাবদ্ধতার আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা পড়বে নগরবাসী।জলাবদ্ধতা যাতে চলার গতি শ্লথ না করে, সে লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে এ সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনের উদ্যোগ নিতে হবে। যা সকল নাগরিকের প্রত্যাশা।