যোগাযোগ মন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি ॥ বিজয় দিবস শেষ হলেও শেষ হয়নি কাজিরবাজার সেতুর কাজ ॥ এগিয়ে চলেছে সংযোগ সড়কের কাজ

45

sylhet photo 1সিন্টু রঞ্জন চন্দ :
নগরীর কাজিরবাজার সেতুর সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আগামী মাসে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিলেটে এসে ওই সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দিয়েছিলেন ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সিলেটবাসীকে বিজয় দিবসের উপহার হিসেবে কাজিরবাজার সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। কিন্তু, ডিসেম্বর পেরিয়ে ২০১৫ সালের ফেব্র“য়ারী শেষ হয়ে গেছে, অথচ এখনোও সেতু দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়নি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সেতুর মূল সুপার স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনো বাকী রয়েছে। সেতুর দক্ষিণ অংশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য কয়েকটি স্থাপনা এখনো ভাংগা হয়নি। তবে, সেতুর উভয় অংশে সংযোগ সড়কের জন্য মাটি ভরাটের কাজ এগিয়ে চলেছে। গত সোমবার অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী  এম,এ, মান্নান আকস্মিকভাবে সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে আসেন। এ সময় এই প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আগামী এপ্রিল মাসেই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে ইনশাআল্লাহ। সওজ-এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন জানান, উত্তর প্রান্তের এপ্রোচের কাজ শেষ হওয়ার পথে। আর দক্ষিণ প্রান্তের এপ্রোচ নির্মাণের জন্য শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, রেলওয়ে ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে।  এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সিলেট’র নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ। সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করেই সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
জানা যায়, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কীনব্রীজ ভেঙ্গে সেখানে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের কথা বলেছিলেন তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম, সাইফুর রহমান। কিন্তু বিভিন্ন মহলের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত কীনব্রীজ না ভেঙ্গে কয়েকশ গজ পশ্চিমে শেখঘাটে সুরমা নদীতে নির্মাণের উদ্যোগ নেন একটি কংক্রিট গার্ডার সেতু। ২০০৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর এম, সাইফুর রহমান ব্রীজটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। কাজিরবাজার সেতু নামে পরিচিত চারলেন বিশিষ্ট এ  ব্রীজটির দৈর্ঘ্য ৩৬৬ মিটার এবং প্রস্থ ১৮ দশমিক ৯০ মিটার। শুরুতে ব্রীজ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। চারদলীয় জোট সরকারের পর তিন দফা সরকার পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু, দীর্ঘ ৯ বছরেও ব্রীজটির নির্মাণ কাজ  এখনো শেষ হয়নি। ব্রীজের নির্মাণ ব্যয় তিনগুণ বেড়ে এখন প্রায় ১২৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম,এ, মান্নান আগামী এপ্রিল মাসে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা জানালেও যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে ওই সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন হবে কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবুও দক্ষিণ সুরমাবাসীর প্রত্যাশা, আর আশ্বাস নয়, এবার সত্যি সত্যিই সেতু দিয়ে যান চলাচল করবে।