স্থিতিশীল পুঁজিবাজার সৃষ্টি হউক

পুঁজিবাজারে একধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে মোট ২১ কার্যদিবসের মধ্যে ১৮ দিনই দরপতন হয়েছে। মাত্র তিন দিন সূচক সামান্য বেড়েছে। ফলে গত মাসে মোট সূচক কমেছে ৩৯৫ পয়েন্ট। সূচকের এমন নিম্নগতির জন্য দায়ী কারণগুলোর মধ্যে বিদেশিদের পুঁজি প্রত্যাহারকেই অন্যতম মনে করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, কয়েক মাস ধরে বিদেশিরা যে পরিমাণ শেয়ার কিনছে, বিক্রি করছে তার চেয়ে অনেক বেশি। বিদেশিরা বেশি করে শেয়ার কিনলে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়ে, তারাও বেশি করে বিনিয়োগ করে। এখন হচ্ছে তার উল্টোটা। আস্থার সংকট বাড়ছে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও। ফলে তাদের মধ্যেও শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতে ক্রমাগত দরপতনের ঘটনা ঘটছে।
বিদেশিরা টাকায় শেয়ার কিনলেও তাদের মূল বিনিয়োগ আসে ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার দাম অনেক কমে গেছে এবং এই প্রবণতা অব্যাহত আছে। এতে বিদেশিদের মধ্যে পুঁজি হারানোর শঙ্কা কাজ করছে। কারণ টাকার অঙ্কে কোনো শেয়ারের দাম সামান্য বাড়লেও বাস্তবে দেখা যায় ডলারের হিসাবে তা কমে গেছে। আর শেয়ারের দাম কমে গেলে ডলারের অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এ অবস্থায় বিদেশিদের মধ্যে পুঁজি প্রত্যাহারের প্রবণতা বাড়ছে। তার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও।
কোনো দেশের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে পুঁজিবাজার বিরাট ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশ যেখানে উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখে সেখানে পুঁজিবাজারের এমন অস্থিরতা মোটেও কাম্য নয়। এমনিতেই স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ২০১০ সালের বাজারধসের আতঙ্ক কাজ করছে। বহু মানুষ তখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে সর্বস্ব হারিয়েছে। এমন অবস্থায় শেয়ারবাজারের সামান্য অস্বাভাবিকতাও তাদের কাছে বড় হয়ে ধরা দেয়। বাজারসংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, পুঁজিবাজারে বর্তমান অস্থিরতার প্রধান কারণ ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং ব্যাংকে আমানতের সুদের হার বেড়ে যাওয়া। শেয়ারবাজারকে একটি স্থায়ী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি এই বাজার ব্যবস্থাপনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার পরও বাজারের এমন নাজুক অবস্থা কেন?
শেয়ারবাজারের সঙ্গে কয়েক লাখ দেশীয় বিনিয়োগকারীর স্বার্থ জড়িত। এখানে আবার যাতে ২০১০ সালের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে জন্য আগে থেকেই যথেষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্যই নয়, দেশে শিল্পায়নের গতি কাক্সিক্ষত মাত্রায় উন্নীত করার জন্যও আমাদের একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার সৃষ্টি করতে হবে। আমরা আশা করি, নীতিনির্ধারক ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।