স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৪ নেতাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-পুলিশ। বুধ ও বৃহস্পতিবার পৃথক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে- বিশ্বনাথে হামলা-ভাঙচুর মামলার আওয়ামী লীগের পলাতক এক আসামি, হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নাইন মার্ডার মামলার আসামি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা, সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে দরগাপাশা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের এক নেতা এবং সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ স্থল বন্দর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন।
বিশ্বনাথঃ বিশ্বনাথে হামলা-ভাঙচুর মামলার পলাতক আসামি আওয়ামী লীগ নেতা সুজন মিয়াকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিশ্বনাথের জানাইয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সুজন মিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলার জানাইয়া গ্রামের আবদুল মালিকের ছেলে। পুলিশ জানায়, বিশ্বনাথ পৌর শহরের আল-হেরা শপিং সিটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি আওয়ামী লীগ নেতা সুজন মিয়া। বিশ্বনাথ থানার একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
এ ব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে দ্রæত বিচার আইনে থানায় মামলা রয়েছে। ওই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হবিগঞ্জঃ হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রাসেল মিয়া (৩২) কাতার যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে গ্রেফতার হয়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ বুধবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার সকালে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত রাসেল বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ও বানিয়াচং উপজেলার কালিকাপাড়া মহল্লার আরজু মিয়ার ছেলে।
ওসি বলেন, রাসেল বানিয়াচংয়ে ছাত্রজনতার আন্দোলনে নাইন মার্ডার মামলার আসামি। তার ব্যাপারে ইমিগ্রেশনে চিঠি দেওয়া ছিল। সেখানকার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বানিয়াচং থানায় খবর দেয়। তাকে থানায় আনার পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে অপারেশন ডেভিল হান্ট পরিচালনা করে দরগাপাশা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ছহিল মিয়া চৌধুরী (৬৫) কে গ্রেফতার করেছে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত ছহিল মিয়া উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপারেশন ডেভিল হান্ট পরিচালনা করে দ্রæত বিচার আইনে দায়ের করা মামলায় ছহিল মিয়া চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকরাম আলী বলেন, অপারেশন ডেভিল হান্ট পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যান রাজধানী ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছেন। গ্রেফতারকৃত ইউপি চেয়ারম্যানের নাম মো. আজাদ হোসাইন (৫২)। তিনি তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ স্থল বন্দর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক।
জানা যায়, রাজধানীতে ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণকারী আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১১ সদস্য সহ তাকে গ্রেফতার করে ডিএমপি’র গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।






