শাবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের স্কুল অফ এপ্লাইড সায়েন্সস এন্ড টেকনোলোজির আয়োজনে ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিক্ষা বিষয়ক তিন দিনব্যাপী অষ্টম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
প্রধান অতিথি অন্তবর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন ‘৮ম আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিক্ষা সম্মেলন অংশগ্রহণ করা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার এই প্ল্যাটফর্মে আমরা একত্রিত হয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তন, সম্পদ সংকট ও সামাজিক বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে প্রকৌশলীদের ভ‚মিকাকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার সময় এসেছে। পরিবেশ সচেতনতা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে পরিচালিত ইঞ্জিনিয়ারিং চর্চা আমাদের ভবিষ্যতকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করে তুলবে। এই সম্মেলনের ইতিবাচক দিক হলো, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক, শিল্প প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন নতুন জ্ঞান ও ধারনা উপস্থাপিত হবে এবং একাডেমিক ও অংশীজনদের মধ্যে কোলাবরেশন বৃদ্ধি পাবে। যা বাংলাদেশের ঠেকসই উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী অনলাইনে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, “এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে অংশীদারিত্বকে আরো সুদৃঢ় করবে এবং শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক স্থাপন করবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় উৎকর্ষতা সাধনের জন্য প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। এই সম্মেলন নিঃসন্দেহে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক প্রোফাইলকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”
তিনি অংশগ্রহণকারী সকলকে উৎসাহিত করে বলেন, “এই সম্মেলন নতুন সহযোগিতার দ্বার উন্মোচন করবে এবং রূপান্তরমূলক উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, উপ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন এবং জিআইএলডিএএন’র এইচআর লিড গ্যাব্রিয়েলা মুনোজ।
আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, বিশ্বের আটটি দেশ-অস্ট্রেলিয়া, ব্রæনাই, সিঙ্গাপুর, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ভারত ও বাংলাদেশ-থেকে গবেষক ও শিক্ষাবিদরা মোট ৮৫৩টি গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ জমা দেন। প্রাপ্ত সারসংক্ষেপগুলোর ৩৬৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনার জন্য চ‚ড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। নির্বাচিত গবেষণাপত্রসমূহ উপস্থাপনের জন্য সম্মেলনে মোট ৬৩টি টেকনিক্যাল সেশন আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশি ও আন্তর্জাতিক গবেষকবৃন্দ তাঁদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করবেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে শাবির স্কুল অফ অ্যাপলাইড সায়েন্সস এন্ড টেকনোলোজির আয়োজনে দুই বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি।





