উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপিত

17

স্টাফ রিপোর্টার

সারা দেশের ন্যায় সিলেট মহানগরী, জেলা ও বিভাগে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপিত হয়েছে। এ বছর সারাদেশে এ ক্যাম্পেইনে ২ কোটি ২৬ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা, ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা, রাস্তা-ঘাট, রেলওয়ে স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড ও ভ্রাম্যমানের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।
এবার মহানগরীর ৪২টি ওয়ার্ড এলাকায় ৩৬৮টি কেন্দ্রে মোট ৭৮ হাজার ২৪১ জন ও জেলার মোট ২৪১৩ টি কেন্দ্রে ৪৪০০২ জন ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে ১টি করে নীল ক্যাপসুল এবং ৩৫৯৫২৬ জন ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে ১টি করে লাল ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।
সিলেট সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ‘এ’ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুপুষ্টি। ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রাতকানা থেকে শুরু করে জেরোপথ্যালমিয়া’র মত রোগ হতে পারে যাতে চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ লোপ পেতে পারে। ভিটামিন ‘এ’ শুধুমাত্র অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে শিশুদের রক্ষা করে তাই নয়, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল ও জটিলতা কমায় এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। বাংলাদেশে ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবজনিত সমস্যা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় পুষ্টিসেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান বছরে দুইবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন করে থাকে। এছাড়া জন্মের পর পর-ই নবজাতক-কে শাল দুধ খাওয়ানো, জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো, শিশুর ৬ মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি অন্যান্য সুষম খাবার খাওয়ানো, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ সবুজ শাক সবজি ও হলুদ ফল মূল খাওয়ানো এবং রান্নায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল ব্যবহার করা এ সকল পুষ্টি বার্তা ও প্রদান করে।
সিলেট মহানগর:
সিলেট নগরীতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার শনিবার সকালে ধোপাদিঘির পাড়স্থ বিনোদিনী নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে একজন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, বেসরকারি সংস্থা সীমান্তিকের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ আহমদ, সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, উর্ধ্বতন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ভ‚পাল রঞ্জন চন্দ প্রমুখ।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের আর ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে স্থায়ী, অস্থায়ী, ইপিআই ও অতিরিক্ত মিলিয়ে সর্বমোট ৩৬৮টি টিকাদান কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ইপিআই স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র ১টি, ইপিআই নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্র ২৭টি, অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র ২৫৯টি, ভিটামিন ‘এ’ অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র ৬০টি এবং অতিরিক্ত কেন্দ্র ছিলো ২১টি। এই ক্যাম্পেইন সফল করতে ৮৪ জন সুপারভাইজারের অধীনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন ৭৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবী।
জৈন্তাপুর:
জৈন্তাপুরে জাতীয় ভিটামিন -এ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপিত হয়েছে। সারাদেশে এ ক্যাম্পেইনের ধারাবাহিকতায় শনিবার জৈন্তাপুরেও উদ্বোধন করা হয় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের।
জাতীয় পুষ্টিসেবা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে সকাল ৮টায় জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মিলাদুর রহমান, মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুজয় চৌধুরী ও ডা. হিল্লোল সাহা।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, সারা দেশের ন্যায় জৈন্তাপুর উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এই ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। চলতি বছর ক্যাম্পেইনে জৈন্তাপুর উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াও পুরো উপজেলায় ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক সহ মোট ১২০টি অস্থায়ী টিকাদন কেন্দ্রে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। ক্যাম্পেইন চলে বিকেল ৪টায় পর্যন্ত।
তিনি আরো বলেন, এ বছর জৈন্তাপুর উপজেলায় ৬-১১ বয়সী ৩ হাজার ৩ শ ৭ জন শিশু ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ২৫ হাজার ৩ শ ৩১ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য প্রস্তুতি ছিলো। মুলত শৈশবকালীন অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশু মৃত্যুর হার কমাতে সরকার এই ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ক্যাম্পেইন পরিচালিত করে।
কানাইঘাট:
কানাইঘাটে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপিত হয়েছে। শনিবার সকালে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবল চন্দ্র বর্মন।
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারাদেশের ন্যায় কানাইঘাট উপজেলায় শনিবার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদেরকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম শুরু হয়। ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ৩৫৫ জন শিশুকে খাওয়ানো হয় একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩৩ হাজার ৯৪০ জন শিশুকে খাওয়ানো হয় একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল।
সুনামগঞ্জ:
সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে, জাতীয় পুষ্টি সেবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন এর উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন শরিফী ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুকান্ত সাহা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. যশোবন্ত ভট্টাচার্য, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ডা. ইকবাল হাসান, আরএমও ডা. তারিক জামিল অপু, মেডিকেল অফিসার ডা. সৈকত দাস, উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. শহীদুল্লাহ, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ, ইপিআই ইনচার্জ জ্যোতির্ময় তালুকদার প্রমূখ।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন শরিফী বলেন- ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে নীল ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে লাল ক্যাপসুল উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৯২ টি টীকা কেন্দ্রে একযোগে ২৮ হাজার ৬শ ৯২ জনকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজারে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপিত হয়েছে। শনিবার সকালে পৌর মিলনায়তন কক্ষে এ টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন। মৌলভীবাজার পৌর প্রশাসক বুলবুল আহমদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো.ইসরাইল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন- সিভিল সার্জন ডা: মামুনুর রহমান।
এসময় প্রধান অতিথি বলেন, মৌলভীবাজার জেলায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করার লক্ষ্যে সবাই স্ব-স্ব অবস্থান থেকে কাজ করেছেন।
মৌলভীবাজার জেলায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন উল্লেখ করে বিশেষ অতিথি সিভিল সার্জন ডা: মামুনুর রহমান বলেন, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সের ২৭ হাজার ৫৯০ জন শিশু ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সের ২ লাখ ২০ হাজার ৮৭৫ জন শিশুকে ১ হাজার ৬৮৮ টি কেন্দ্রে ভিটামিন এ টিকা খাওয়ানো হয়েছে। যে শিশু টিকা খাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে তাদেরকে পরদিন ইপিআই কেন্দ্রে খাওয়ানো হবে। তিনি শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
হবিগঞ্জ:
এবার হবিগঞ্জ জেলায় এবার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শনিবার জেলার সকল উপজেলা ও পৌরসভায় এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। শিশুদের মধ্যে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩১১৭৪১ জন পাবে লাল রঙের ক্যাপসুল এবং ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪১৫৮৪ জন পাবে নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এছাড়াও জেলার ১৯২৭টি স্থায়ী ইপিআই কেন্দ্রে ক্যাম্পেইন সফলের জন্য মাঠে ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ৩২৪, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে ৪৪৭, সিএইচসিপি থেকে ২১৭ ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ৩৮৫৪ জন।