গোলাপগঞ্জে ৪০ পরিবার ঘরবন্দি

60

স্টাফ রিপোর্টার

গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা ইউনিয়নের উত্তর আলমপুর লম্বাহাটি গ্রামের রাস্তা বন্ধ করে সেফটি ট্যাংকি নির্মাণ করায় চল্লিশটি পরিবারের চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। জয়নাল উদ্দিন, মিনহাজ উদ্দিন ও সাকের হাসান সেফটি ট্যাংকি নির্মাণ করতে আশ্রয় নিয়েছেন চল চাতুরির। গতকাল সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি জাকির হোসাইন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় চল্লিশটি পরিবারের লোকজনকে ঘরবন্দী জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এতে তারা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগের প্রেক্ষিতেও প্রতিপক্ষ তাতে কর্ণপাত করছেন না। যার প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর গোলাপগঞ্জ ক্যাম্প থেকে ডাক পড়লে সেখানে উপস্থিত হয়ে আপোষ মীমাংসার পক্ষে মুচলেকায় স্বাক্ষর করেন। ওই মুচলেখায় সেফটিক ট্যাংকি ভেঙ্গে মাটি ভরাট করে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেও তারা সেটি করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে জাকির হোসাইন বলেন, আমরা রাস্তা উদ্ধার কাজে ব্যস্থ থাকায় সুচতুর প্রতিপক্ষ জয়নাল উদ্দিন বাদী হয়ে রাস্তাটি দখলে নিতে গত ৩ ডিসেম্বর আছকর আলীদের বিবাদী করে অতিরিক্ত জেলা হাকিম আদালত, সিলেটে মামলা দায়ের করেন। লিখিত মুচলেকা অমান্য করে মামলা চুড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৩য় কোন পক্ষ যাতে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বাথরুমের সেফটিক ট্যাংকি সরাতে না পারে সে বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে ১৪৪ ধারা জারি করেন। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য গোলাপগঞ্জ মডেল থানাকে নির্দেশ দেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মোল্লা ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই বিভাষ সিংহ এ ব্যাপারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। টাকার বিনিময়ে তৈরী করা এই প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের পরিবর্তে জয়নাল উদ্দিনের লোকজনের স্বাক্ষী নেওয়া হয়েছে। এএসআই বিভাষ সিংহ তার প্রতিবেদনে এই রাস্তাকে বাড়ির উঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ, পরপর লিখিত দু’টি আপোষ নামায় প্রতিপক্ষ সেটাকে ইজমালী রাস্তা হিসেবে স্বীকার করেছেন। বিভাষ সিংহ তার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেন, মামলার বাদী জয়নাল উদ্দিন তার উঠানে সীমানা দেওয়াল নির্মাণের উদ্যোগে নিয়েছে। অথচ, বাথরুমের সেফটিক ট্যাংকি নির্মাণের শুরুর সময়ের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্বেও এসকল বিষয় এড়িয়ে গেছেন। আদালতের নিদের্শ অমান্য করে ইতিমধ্যেই জয়নাল উদ্দিন সেফটিক ট্যাংকি নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন বলেও জানান। চল্লিশটি পরিবারের দুর্দশা লাঘবে তিনি সরকারের উর্ধতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।