আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আরও বাড়তে পারে

8

 

কাজির বাজার ডেস্ক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, আমরা জানি বাংলাদেশে ডেঙ্গু অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশে ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ হাজার আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ৯ হাজারের বেশি লোক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। দেশে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আরও বাড়তে পারে। সেজন্য এখন থেকেই সবাইকে সজাগ এবং সচেতন হতে হবে। রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জের গড়পাড়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, মশা বেশি থাকার কারণে এ বছর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি। বৃষ্টি এবং বিভিন্ন জায়গায় পানি আটকে থাকায় মশা বেশি জন্ম নিচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের একমাত্র পথ হচ্ছে মশা কমানো। মশা কম হলে মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত কম হবে।
মন্ত্রী বলেন, আশঙ্কাজনক বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের এখন সব জেলার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। লেটেস্ট পরিসংখ্যান হচ্ছে দেশের ৬৭টি জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, দেশে যত ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে তার মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি। সারা দেশের ডেঙ্গু আক্রান্তের ৬০ ভাগই ঢাকায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক রোগী আছেন। ডেঙ্গু মোকাবেলায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সিটি করপোরেশন, পৌরসভাকে আহবান করব তারা যেন বেশি বেশি স্প্রে করে এবং যেখানে পানি জমে সেগুলো পরিষ্কার করে ফেলে। মন্ত্রী আরও বলেন, যেখানে বহুতল ভবন আছে সেখানে ডেঙ্গু বেশি দেখা দিচ্ছে। কারণ সেসব ভবনের নিচে গ্যারেজ আছে এবং পানি জমে থাকে। নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে বেশি পানি জন্মে থাকায় সেখানে এডিস মশা জন্ম নেয়। শুধু সরকার ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না, পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। যার যার বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার করতে হবে এবং যেখানে মশা জন্ম নেয় সেখানে স্প্রে করে লার্ভাগুলোকে ধ্বংস করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত বছর এ সময় অনেক ভালো অবস্থায় ছিলাম। বর্তমানে মশা এবং ডেঙ্গু অনেক বাড়তি, এখন থেকে যদি আমরা সজাগ না হই তাহলে এটা আরও বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের ডিপার্টমেন্টে যারা মশা নিয়ে গবেষণা করেন তারা জানিয়ে দিয়েছেন কোথায় কোথায় মশা ভেসে আছে এবং ঘনত্ব বেশি আছে। এখন বাকি কাজটুকু সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশন স্প্রে করেছে কিন্তু আমার কাছে মনে হয় তারা সেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। যার ফলে ডেঙ্গু এত বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মেয়ররা বিভিন্ন ভবনে যাচ্ছেন তদারকি করছেন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য; কিন্তু সেভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে নাই। তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে ডেঙ্গু মোকাবেলায়।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালগুলোর কী ব্যবস্থা আছে? এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের সমস্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে এবং ডাক্তার নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া আছে। এছাড়া ওষুধপত্রের সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে এখনো সিট খালি আছে। সেগুলোই এখনো ভরেনি। আশা করি চিকিৎসার কোনো সমস্যা হবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদেব কুমার সাহা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবছার সরকার, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বাবুল সরকারসহ অনেকে।