গ্লাসগোতে আজ শুরু হচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ॥ ধরিত্রী বাঁচানোর চেষ্টা, ৪ এজেন্ডায় সোচ্চার হবে বাংলাদেশ

6

কাজিরবাজার ডেস্ক :
ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা প্রকৃতির আচরণের মধ্যেই আজ স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো নগরীতে শুরু হচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। করোনা মহামারী পরবর্তী এমন এক সময়ে এবারের জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্বে প্রকৃতি এক ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ নতুন উদ্যম নিয়ে যোগ দিতে যাচ্ছে এবারের সম্মেলনে। সম্মেলনে ধরিত্রী বাঁচাতে চার এজেন্ডা নিয়ে সোচ্চার হবে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতি হিসেবে সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সময়ে গ্লাসগো আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দও। সম্মেলনে দুই নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের নেতৃত্বদানের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সংগঠন সিভিএফ ফোরামের নেতা হিসেবেও সম্মেলনে ভূমিকা রাখবেন তিনি। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সম্মেলন থেকে সুবিধা আদায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু কূটনীতি এবং রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২৬তম জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে আজ রবিবার গ্লাসগো যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১ নভেম্বর তিনি জলবায়ু সম্মেলনে ভাষণ দেবেন। সেখানে তিনি পৃথিবী রক্ষায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চার দাবি তুলে ধরবেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে। সম্মেলনে যোগদানের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ নবেম্বর একটি উচ্চপর্যায়ের ইভেন্টে যোগ দেবেন। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দাবি তুলে ধরতে সিভিএফ ফোরাম এই ইভেন্টের আয়োজন করেছে। এতে সিভিএফের ৪৮টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। উচ্চপর্যায়ের এই ইভেন্টে যোগ দেবেন কপ-২৬ প্রেসিডেন্ট অলোক শর্মা। এই ইভেন্টেও নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ইভেন্ট থেকে সিভিএফ প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করবেন ঢাকা-গ্লাসগো ঘোষণা। এতে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষ থেকে একটি রোডম্যাপ তুলে ধরা হবে উন্নত দেশগুলোর কাছে। এই রোডম্যাপের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে এবারের জলবায়ু সম্মেলনে জোরালো বার্তা যাবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যাওয়া প্রতিনিধি দল ছাড়াও পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে ৫৯ সদস্যের সরকারী প্রতিনিধি দল যাচ্ছে গ্লাসগো জলবায়ু সম্মেলনে। এছাড়া নাগরিক সমাজের আরও অর্ধ শতাধিক প্রতিনিধি যোগ দিচ্ছেন সম্মেলনে। যারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পক্ষে আলোচনার টেবিলের বাইরে সোচ্চার হবেন। সব মিলিয়ে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনের পর সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি দল যোগ দিচ্ছে এবারের সম্মেলনে। এতে আলোচনার টেবিলে এবং বাইরে বাংলাদেশের কণ্ঠ আরও জোরালো হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জানা যায়, ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ধরিত্রী সম্মেলনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিত্রে ১৯৯৪ সালে ১৯৭টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত হয় ইউনাইটেড নেশন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)। জাতিসংঘের নবগঠিত এই সংস্থার আওতায় ১৯৯৫ সালে জার্মানির বার্লিনে প্রথম জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠি হয়। ওই সম্মেলন থেকেই পৃথিবী বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিটি জোরালো হতে থাকে। প্রথম জলবায়ু সম্মেলনের পর গত তিন দশকে ২৫টি জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় দুটি আইনগত চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর প্রথমটি স্বাক্ষরিত হয় ২০০৭ সালে জাপানের কিয়োটো শহরে। সেই শহরের নাম অনুসারেই প্রথম চুক্তির নামকরণ করা হয় কিয়োটো প্রটোকল। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে উন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঐতিহাসিকভাবে দায়ী বলে দায় স্বীকার করে নেয়। পৃথিবী রক্ষায় প্রথম চুক্তির সিদ্ধান্ত ছিল ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ১৯৯০ সালের তুলনায় উন্নত দেশগুলো তাদের কার্বন নির্গমন ৫.২ শতাংশ হ্রাস করবে। সেই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ৩০ বিলিয়ন ডলার দেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলার জন্য। চুক্তি করে দায় স্বীকার করলেও মূলত ওই পাঁচ বছরে উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি বিন্দুমাত্র পূরণ করেনি। ফলে বিশ্বে উন্নয়নের গতি বাড়তে থাকায় কার্বন নির্গমন বেড়ে গিয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতাও দ্রুত বাড়তে থাকে।
ফলে দীর্ঘমেয়াদী নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয় জাতিসংঘ। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয় বিশ্ব বাঁচাতে একটি নতুন চুক্তির সমঝোতার জন্য। কিন্তু উন্নত দেশ এবং দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর পরস্পর দোষারোপের মধ্য দিয়ে ভেস্তে যায় সেই সম্মেলন। যদিও প্রতি বছর উন্নত দেশগুলোর ১০০ বিলিয়ন ডলার করে প্রদান এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রী ও দুই ডিগ্রীর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয় কোপেনহেগেন এ্যাকর্ডে। পরের বছর ২০১০ সালে মেক্সিকোর কানকুন শহরে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে এ বিষয় দুটি চুক্তি আকারে আসে। কানকুন জলবায়ু চুক্তিতে ঠাঁই পায়, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমিত রাখা হবে এবং উন্নত দেশগুলো ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ১০০ বিলিয়ন ডলার করে দেবে। এই বছরই বাংলাদেশের নেতৃত্বে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের উত্থাপিত জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয় ও ক্ষতির (লস এ্যান্ড ডেমেজ) দেখভাল করার জন্য একটি ওয়ার্ক প্রোগ্রাম স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে লিমা জলবায়ু সম্মেলনে এসে উন্নত দেশগুলোর চাপে সব দেশ মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে, ধরিত্রী বাঁচাতে সব দেশ প্রত্যেকে স্বেচ্ছায় কি পরিমাণ কার্বন কমাবে তা জাতিসংঘের কাছে পেশ করবে। যাকে ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অনেক প্রচেষ্টার পর বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ২০১৫ সালে প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বিশ্বকে রক্ষার জন্য নতুন চুক্তিতে উপনীত হন। যাকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস সম্ভব হলে দেড় ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখা। এজন্য প্রতি পাঁচ বছর পর পর বিশ্বের সকল দেশ কী পরিমাণ কার্বন নির্গমন করাবে স্বেচ্ছায় তার প্রতিশ্রুতি দেবে। ২০২০ সাল থেকে উন্নত দেশগুলো প্রতি বছর জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় ১০০ বিলিয়ন করে ডলার দেবে। এছাড়া উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করবে।
প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে স্থির হয়েছিল বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য কার্বন নির্গমন ৫৫ শতাংশ কমানো হবে। কিন্তু দেশগুলো স্বেচ্ছায় কার্বন কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পৃথিবী কার্বন কমানোর ওই লক্ষ্যমাত্রা থেকে বহু দূরে আছে দেশগুলো। গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের কারণে দূষণ যেভাবে হচ্ছে তা চলমান থাকলে শতাব্দী শেষে পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়তে পারে। দ্রুত লক্ষ্যপূরণ করতে না পারলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া এবং পরিবেশের অবস্থা আরও খারাপ হবে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সর্বশেষ রিপোর্ট।
তাই এবারের জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রথম দাবি হবে যে কোন উপায়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলোর কাছে আরও বেশি করে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উচ্চাভিলাসী এনডিসি দাবি করবে।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় যে দাবিটি জোরালোভাবে তুলে ধরবে তা হলো অর্থায়ন নিয়ে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী জলবায়ু তহবিলের জন্য উন্নত দেশগুলো বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার অঙ্গীকার করে। কিন্তু সেই অঙ্গীকার তারা বাস্তবায়ন করছে না। তাই ওই তহবিল থেকে অভিযোজন ও প্রশমনের জন্য ৫০:৫০ হারে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। এ তহবিল যেন নিশ্চিত করা হয় বাংলাদেশ জোরালোভাবে সেই দাবি জানাবে।
বাংলাদেশের তৃতীয় দাবিটি হচ্ছে সহজ শর্তে প্রযুক্তি প্রদান। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের তেমন কোন ভূমিকা নেই। অথচ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অসহায় শিকার। বাংলাদেশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য খুব কমই দূষণ করছে। মাথাপিছু মাত্র দশমিক ৪ টন। বাংলাদেশ এই দূষণ আরও কমাতে চায়। এজন্য উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন। কিন্তু ওই প্রযুক্তি বাংলাদেশের কাছে নেই এবং তা খুবই ব্যয়বহুল। কিন্তু সেজন্য উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতা লাগবে। এজন্য বাংলাদেশ উন্নত দেশগুলোর কাছে প্রযুক্তি চাইবে। উন্নত দেশগুলো যেন বাংলাদেশকে গ্রিন প্রযুক্তি সরবরাহ করে এবং সেই প্রযুক্তি যেন স্বল্পব্যয়ে পেতে পারে।
বাংলাদেশের চতুর্থ দাবি হচ্ছে, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি বাড়ছে। বাড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা। নদীর ভাঙ্গন, বন্যা ও খরার কারণেও বাস্তুচ্যুত হচ্ছে দেশের মানুষ। এই উদ্বাস্তু মানুষদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব উন্নত দেশগুলোকে নিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৭ নম্বর ক্ষতিগ্রস্ত দেশ। ফলে বাংলাদেশের নিজের দাবি এবং ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের দাবিগুলোও অভিন্ন। তাই জলবায়ু সম্মেলনে এই চার দাবি বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ নভেম্বর জলবায়ু সম্মেলনে বক্তব্য রাখবে। সেই বক্তব্যেই প্রধানমন্ত্রী এসব দাবি তুলে ধরবেন।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, আগামী ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী কপ-২৬ শীর্ষক বৈঠকে ভাষণ দেবেন। সেখানে পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য তিনি কথা বলবেন। পৃথিবীকে রক্ষা করতে কী কী প্রয়োজন, এখানে প্রথম হচ্ছে, প্রতিটা দেশ তাদের এমডিসি এমনভাবে তৈরি করবে যাতে প্রাকৃতিকভাবে আমাদের জলবায়ু তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। বিশেষ করে শিল্পসমৃদ্ধ দেশগুলো তারা গুরুত্বসহ কাজ করবে। যাতে জলবায়ুর তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রীর মধ্যে চলে আসে। দ্বিতীয় হচ্ছে, ২০১৫ সালে যারা অঙ্গীকার করেছে যে জলবায়ু ফান্ডে ১০০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে প্রতিবছর। আমরা সেটা চাইব।
তিনি বলেন, গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ আমাদের একেবারেই কম। সেখানে আমরা আরও কমাব। এজন্য আমরা মুজিব প্রোসপারিটি প্ল্যান নিয়েছি। আমরা ৩ কোটি গাছ লাগিয়েছি। পৃথিবীকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী যে মুজিব প্রোসপারিটি প্ল্যান নিয়েছে আমরা চাই অন্যান্য দেশ তার অনুকরণে এরকম একটি প্ল্যান তৈরি করবে। যাতে করে পৃথিবীকে বাঁচানো যায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে প্রতিবছর বহুলোক নদী ভাঙ্গনের জন্য বাড়িঘর হারিয়ে উদ্বাস্তু হচ্ছে। আমরা চাই তাদের পুনরায় বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে। এছাড়া আমাদের এ ধরনের অনেক কর্মসূচী রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে অর্থের প্রয়োজন। এজন্য বিভিন্ন ফোরামে এসব খাতে অর্থায়নের জন্য তাগাদা দিচ্ছি। এজন্য আমরা ১০০ বিলিয়ন ডলার দিতে বলেছি। এটা অর্জনের পথে আছি আমরা।
তিনি বলেন, জলবায়ু আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। আমাদের প্রায় ২২ থেকে ২৫ শতাংশ জমি পানির নিচে চলে যাবে। অর্থাৎ ১২টি জেলা পানিতে ডুবে যাবে। এতে প্রায় ৩ কোটি লোক গৃহহীন হবেন। তাদের নিরাপত্তা কীভাবে দেব। আমরা এ বিষয়গুলো তুলে ধরব। একা এ সমস্যা সমাধান করা যাবে না। এজন্য সব দেশকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।
এ বিষয়ে পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কপ-২৬ এর সম্মেলনে যোগ দিতে রবিবার রওনা হচ্ছি। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় কিছু করা। আমরা এবার অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়ার কথা থাকলেও এ বছর আমরা সেটা পাব বলে আশা করছি। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জলবায়ুর সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৯ সালের কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনের পর এবারেই সবেচেয়ে বেশি মানুষ জড়িত হবে গ্লাসগো জলবায়ু সম্মেলনে। চীন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যোগ না দিলেও বিশ্বের শীর্ষ নেতারা এ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর জো বাইডেন থাকছেন এ সম্মেলনে। যা নাগরিক সমাজের মধ্যে প্রত্যাশার মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সম্মেলনে নতুন কী কী সিদ্ধান্ত আসে কিভাবে বিশ্ব নেতারা ভয়ঙ্কর জলবায়ু দুর্যোগ মোকাবেলার পদক্ষেপ নেন সেদিকে নজর থাকবে নাগরিক সমাজের। আগ্রহ নিয়ে দৃষ্টি রাখবে জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়শীল দেশগুলোর মানুষেরা।
সরকারী প্রতিনিধি দল ছাড়াও বিপুল সংখ্যক নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি যোগ দিচ্ছেন এবারের সম্মেলনে। যোগ দিচ্ছে জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্বের যুব কণ্ঠ গ্রেটা থানবার্গের নেতৃত্বে যুব সম্প্রদায়। ফলে সবার চাপ থাকবে বিশ্ব নেতাদের ওপর। এই চাপে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ অনড় থাকেন না ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়ার পদক্ষেপ নেন সেদিকেই থাকবে সবার চোখ।