ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড়, টাকা তোলার হিড়িক

4

স্টাফ রিপোর্টার :
চারদিন বন্ধ থাকার পর সিলেটে সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে ব্যাংকের লেনদেন। ব্যাংক থেকে আগে সেবা নেয়ার জন্য গতকাল সোমবার সকাল থেকে মানুষের ভিড় দেখা গেছে।
করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গত বৃহস্পতিবার ১ জুলাই থেকে পরবর্তী ৭ দিনের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে সরকার।
এ অবস্থায় সীমিত পরিসরে ব্যাংক ব্যবস্থা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল সোমবার থেকে সীমিত পরিসরে ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলোতে টাকা জমা দেওয়ার চেয়ে উঠাচ্ছেন বেশিরভাগ করছেন গ্রাহক।
সরেজমিনে সোমবার সকালে সিলেটের তালতলা, লালদীঘিরপার, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, সুবিদবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ব্যাংকের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে শুরু হয় সকাল ১০টায়। কিন্তু সেবা গ্রহাকরা সকাল ৮টা থেকে লাইন করে দাঁড়িয়ে আছেন।
তালতলাস্থ একটি ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বন্দরবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মাহবুব চৌধুরী বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলার জন্য সকাল ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে ব্যাংকে এসে পৌঁছাই ৮টার দিকে। এসে দেখি আমার সামনে আরও ১৭জন দাঁড়িয়ে আছেন। সময় বাড়ার সাথে সাথে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তবে যারা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় অনেককেই ব্যাংকের প্রধান ফটক থেকে ফিরিয়ে দিতে দেখা গেছে। এসময় ব্যাংকগুলোতে মহিলাদের লাইন দেখা গেছে।
লালদীঘিরপার এলাকায় একটি ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিলেট নগরীর উপশহরের বাসিন্দা গৃহীনি নাজমিন বেগম বলেন, বাসা ভাড়ার টাকা ব্যাংক থেকে তুলার জন্য এসেছি। শুনেছি আরও ৭দিনের লকডাউন দেয়া হবে। সেজন্য বাসায় ফেরার পথে কিছু বাজার করে নেবো। তিনি বলেন, ব্যাংকের লেনদেনের সময় আরও একটু বাড়িয়ে দিলে সবার জন্য উপকার হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার ১ জুলাই ছিলো ব্যাংক হলিডে। এ কারণে এদিন কোনো ব্যাংক খোলা হয়নি। পরের দুই দিন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৪ জুলাই রবিবারও ব্যাংক বন্ধ থাকবে। সেই হিসাবে চার দিন ছুটির পর সোমবার থেকে ব্যাংকে লেনদেন শুরু হয়। চালু থাকবে সকাল ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। ৭ জুলাই পর্যন্ত এই সময়সূচিতে ব্যাংকে লেনদেন চলবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অত্যাবশ্যকীয় বিভাগগুলো যথাসম্ভব সীমিত লোকবলের মাধ্যমে খোলা রাখতে হবে। ব্যাংকের প্রিন্সিপাল বা প্রধান শাখা এবং সব বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা সীমিত সংখ্যক অত্যাবশ্যকীয় লোকবলের মাধ্যমে খোলা রাখতে হবে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহের ক্ষেত্রে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার বিবেচনায় প্রতিটি জেলা সদরে ও উপজেলায় একটি করে শাখা খোলা রাখতে হবে। অন্যান্য সব ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলা সদরে ১টি শাখা খোলা রাখতে হবে। এবং জেলা সদরের বাইরে ব্যাংকে ব্যবস্থাপনার বিবেচনায় অনাধিক ২টি শাখা খোলা রাখা হবে।