দক্ষিণ সুনামগঞ্জে তৃতীয় দফায় বন্যার আশঙ্কা

13

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় আবারও তৃতীয় ধাপে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যে আবারও পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষজন।
সোমবার সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়, আবারও রাস্তাঘাট ঘর বাড়ি ডুবছে, এবং পানি বাড়তেই আছে। যেভাবে পানি বাড়ছে আর নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এতে তৃতীয় ধাপে আরও বড় বন্যার আশঙ্কা করছেন উপজেলাবাসী।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে গত ২৬ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত প্রথম দফা বন্যা হয়। বন্যায় পুরো দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই বন্যায় রাস্তাঘাট, মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে ৯ জুলাইকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ফের দ্বিতীয় দফা বন্যা হয়। এই বন্যায়ও মানুষের অনেক ক্ষতি হয়।
এই দুই বন্যার ক্ষত না শুকাতেই আবারো তৃতীয় ধাপে বন্যার মুখে এখন হাওর জনপদ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ। দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি কিছুটা কমলেও এখনো নিম্নাঞ্চল থেকে পানি পুরোদমে সরে নি। এই অবস্থায় তৃতীয় ধাপে বন্যায় ব্যাপক আতঙ্ক আর কষ্টের প্রহর গুণছেন হাওরপাড়ের মানুষজন।
উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া গ্রামের কৃষক নাজির মিয়া বলেন, পানি এভাবে বাড়তে থাকলে আমরা আবারও আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হবে। এধরনের বন্যা থেকে নিজে বাঁচতে পারলেও আমাদের গবাদি পশু, হাস মুরগি নিয়ে বড় কষ্ট পোহাতে হয়।
সুলতানপুর গ্রামের আরেক কৃষক আরশ আলী বলেন, আমার গরু ছাগল নিয়া আমি বড় বিপদে আছি। আমার গরুর খাবার এর সংকট দেখা দিয়েছে। নিজের কাজ নাই কাম নাই, আবার এক মাসের মধ্যে দুইবার তিনবার বন্যা, আল্লাহই ভাল জানেন আমাদের কপালে কি আছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের পক্ষথেকে যতটুকু পারছি বন্যার্তদের পাশে আছি আমরা। আমরা চারিদিকে খোঁজ খবর রাখছি।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে যারা ছিলেন সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয় হয়েছে৷ প্রথম থেকে এই পর্যন্ত আমাদের ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।