আপীল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চে বিচার শুরু

9

কাজিরবাজার ডেস্ক :
মহামারী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আপীল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত। যেখানে মামলার বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় আপীল বিভাগের ছয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিক ও বিচারপতি মোঃ নুরুজ্জামান। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ চার মাস পর আপীল বিভাগের বিচার কার্যক্রমের শুরুতেই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, ভার্চুয়াল বিচার ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে। এটি সফল হলে সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসেই আপীল বিভাগ বসবে। এ সময় ভার্চুয়ালি আপীল বিভাগের এই বসাকে নিয়মিত আদালতের অংশ বলে মত দেন আপীল বিভাগের অন্য বিচারপতিরা। এ সময় আপীল বিভাগের ভার্চুয়াল বিচারকাজে অংশ নেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনসহ মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীগণ। গত দুই মাস ধরে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ নিরসনে হাইকোর্টে ১১ একক বেঞ্চ ও আপীল বিভাগের চেম্বার আদালতে বিচার কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে আপীল বিভাগে এই প্রথম ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ শুরু হলো।
সোমবার আপীল বিভাগের মামলার কার্য তালিকায় ২০ মামলা তালিকাভুক্ত করা হয়। এর আগে, গত রবিবার সকালে এ বিষয়ে আপীল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোঃ বদরুল আলম ভূঞা বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সেখানে সপ্তাহে দুই দিন বিচার কাজ পরিচালনার কথা জানানো হয়। গত ১৩ মার্চ থেকে সুপ্রীমকোর্টে ছুটি শুরু হয়। এরপর করোনার কারণে ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশের সব আদালতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ কারণে বিগত চার মাস ধরে বন্ধ ছিল আপীল বিভাগের বিচার কাজ। এরপর ১১ মে থেকে ভার্চুয়ালি অধস্তন আদালতসহ হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চে জরুরী মামলার শুনানি শুরু হয়। এরপর চেম্বার আদালতে বিচার শুরু হয়। সর্বশেষ আপীল বিভাগের দরজাও খুলে গেল। গত ৮ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ফুল কোর্ট সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উচ্চ আদালতে ভার্চুয়াল কোর্ট চলবে। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। একক বেঞ্চের পাশাপাশি ডিভিশন (দ্বৈত) বেঞ্চও গঠন করা হবে। ঈদের পর পরবর্তী ফুল কোর্ট সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ওই দিন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ফুল কোর্ট সভায় এ সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয় করোনা পরিস্থিতি যেহেতু ঊর্ধ্বগতি সে কারণে এই মুহূর্তে নিয়মিত আদালত করা কঠিন। নিয়মিত আদালতের কারণে কর্মচারী আইনজীবী, মক্কেলসহ অনেকেই আদালতে আসবে । ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়বে। সভায় বিচারপতিগণ ভার্চুয়াল আদালতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।