শিপন আহমদ ওসমানীনগর থেকে :
ওসমানীনগরে ১১ বছরের এক শিশু সহ নতুন করে ৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত বুধবার মধ্যরাত ও গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসি আর ল্যাব থেকে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট ই-মেইলের মাধ্যমে ৩জনের করোনা সনাক্তের রিপোর্ট আসে।
নতুন করে করোনা শনাক্ত হওয়া শিশু পল্লী বিদ্যুতের করোনা আক্রান্ত লাইন টেকনিশিয়ানের ১১ বছরের ছেলে এবং অন্যজন হলেন তাজপুর কলেজ গেইটের পূর্ব দিকের দুলিয়ারবন্দে গাজীপুর ফেরত করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রিকশা চালক মো. হাবিব মিয়া ও বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্সের বাবা উপজেলার সাদিপুর ইউপির ইব্রাহিমপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। নতুন আক্রান্ত হওয়া এই ৩জন নিয়ে ওসমানীনগরে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬জন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তার করোনা শনাক্ত হওয়া মৃত হাবিব মিয়ার বাড়ি সহ ৩বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা(অতিরিক্ত দায়িত্বে) ডা. এসএম শাহরিয়ার বলেন, বুধবার রাতে ও গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাালের পিসি আর ল্যাব থেকে ৩জনের করোনা সনাক্তের রিপোর্ট ই-মেইলের মাধ্যমে আসে। এর মধ্যে একজন পল্লী বিদ্যুতের করোনা আক্রান্ত লাইন টেকনিশিয়ানের ১১ বছরের ছেলে অপরজন দুলিয়ারবন্দে মারা যাওয়া হাবিব নামের রিকশা চালক ও আরেকজন আমাদের হাসপাতালের সিনিয়ির স্টাফ নার্সের বাবা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাহমিনা আক্তার বলেন, করোন শনাক্ত হওয়া দুলিয়ারবন্দের মৃত রিকশা চালক হাবিব মিয়া বাড়ি সহ ৩টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। মৃত হাবিবমিয়ার পরিবারের ৩জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৫ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসি আর ল্যাবে ই-মেইলের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয় পল্লী বিদ্যুতের লাইন টেকনিশিয়ান তাজপুর বাজারের মশ্রব আলী কমপ্লেক্সের ভাড়াটি করোনা পজেটিব। ১৬ মে দুপুরে উপজেলা প্রশাসন মশ্রব আলীকে কমপ্লেক্সকে লকডাউন করে এবং ঐ দিনই আক্রান্ত টেকনিশিয়ানের স্ত্রী ও ১১ বছরের ছেলের নমুসা সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম। এ দিন তাজপুর কলেজ গেইটের পাশে দুলিয়ারবন্দে করোনা উপসর্গ নিয়ে গাজীপুর ফেতর ৫০ বছর বয়সী মারা যাওয়া মো. হাবিবেরও নমুনা সংগ্রহ করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়।
এর পূর্বে গত ৩০ এপ্রিল প্রথম উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের রাইকদাড়া (নোয়াগাঁও) গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির করোনা সনাক্ত হয়। গত ২৬ এপ্রিল শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে ওই ব্যক্তি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা সন্দেহজনক মনে করে এই ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে প্রেরণ করেন। এরই মধ্যে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন। তারপর ওসমানীনগরের ওই ব্যক্তির করোনা রিপোর্ট পজিটিভ জানিয়ে রিপোর্ট আসে। এর পর গত ৫ই মে ওসমানীনগরে ২য় করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়। আক্রান্ত ঢাকা ফেরত ২৪ বছর বয়সী তরুণ গোয়ালাবাজার ইউপির পূর্ব ব্রাহ্মণ গ্রামে বাসিন্দা। তিনি কয়েকদিন আগে বালাগঞ্জে তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে কিছুটা অসুস্থতা বোধ করলে করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষা করতে দেন। নমুনা প্রদানের ১৪ দিন পর তার রিপোর্ট আসলে করোন ভাইরাস ধরা পরে। সর্ব শেষ নতুন ৩জন করোনা আক্রান্ত নিয়ে ওসমানীনগরে মোট ৬ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন।







