লকডাউনে সাধারণ গাড়ি চলাচল বন্ধ নিশ্চিত করতে সড়কে জনতার বিক্ষোভ

18

বাবরুল হাসান বাবলু তাহিরপুর থেকে :
করোনা পরিস্থিতিতি মোকালোয় লকডউন চলছে সুনামগঞ্জ। কার্যক্রম বাস্তবায়নের ১৩ এপ্রিল থেকে মাঠে রয়েছে প্রশাসন। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বন্ধের মধ্যেই রাতের অন্ধাকারে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরছে লোকজন। রাতের অন্ধকারে সুনামগঞ্জ নামছে অনেকে, আবার অনেকে সরাসরি চলে আসছে তাহিরপুর। আর ভোরের আলো ফোটার আগেই ছড়িয়ে পড়ছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে।
গত কিছিুদিন ধরে এ চিত্র দেখা যাচ্ছে তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কে। ভোর ৪ টা থেকে ৫ টার মধ্যে প্রচুর সিএনজি, ট্রাক, পিক আপ ভ্যান,অটো,মোটরবাইক চলছে রাস্তায়। এদের অনেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে আসছে শহর থেকে, অনেকে যাত্রী নিয়ে আসছে দেশের বিভিন্ন স্থানের। মাঝে মধ্যে দু’একটি গাড়ি প্রশাসনের নজরে পড়ছে আর অধিংকাশ গুলো যাত্রীদের নামিয়ে যে যার মত চলে যাচ্ছে। গাড়ি থেকে নেমে যাত্রীরা কোথায় যাচ্ছে জানছে না কেহই। তাই ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টইনও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিষয়টি তাহিরপুরে স্থানীয় লোকজনদের নজরে এলে গত কিছু দিন ধরে একাধিক স্বেচ্ছাসেবক দল বেশ কয়েকটি গাড়ির আটিয়ে দেয়। এর মধ্যে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহিরপুর নারায়নগঞ্জ থেকে নিয়ে আসা একটি ট্রাক কে ৫ হাজার টাকার জরিমানা করেন। এতে করেও থামানো যাচ্ছিলনা যাত্রীবাহি গাড়ি চলাচল।
পরিস্থিতিতে শনিবার ভোরে উজান তাহিরপুর এলাকার শত শত বিক্ষুব্ধ লোকজন সড়কে এসে একাধিক গাড়ি আটকিয়ে যাত্রী নামিয়ে গাড়ি ফেরৎ পাঠিয়ে দেয়। সেই সাথে বিক্ষুব্ধ জনতারা জানিয়ে দেয় যতদিন লক ডাউন থাকবে ততদিন এ পথে দুর দূরান্ত থকে আসা যাত্রীদের এভাবেই গাড়ি থেকে নামিয়ে বিদায় করে দেয়া হবে। প্রয়াজনে তারা আরও কঠোর হবেন বলেও একাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা জানান।
উজান তাহিরপুর এলাকার বাসিন্দা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদিন বলেন, লকডাউনের মধ্যে কিভাবে লোকজন আসে এটাই বোধগম্য নয়। তবে শুনেছি ভোরে একাধিক গাড়ি আটকিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে গাড়ি ফিরিয়ে দিয়েছে স্থানীয় লোকজন।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেরাহান উদ্দিন বলেন, লকডাউন এর মধ্যেও ভোর রাতে প্রচুর গাড়ি চলাচল করে তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতি মোকাবেলায় সরকারের সিদ্বান্ত বাস্তায়ন করতে প্রতিটি মানুষের এগিয়ে আসতে হবে,তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা করোনা নিয়ন্ত্রনে নিতে পারবো। তাছাড়া লকডাউন চলাকালীন সময়ে আইন অমান্য করে যারা চলাচল করবে অবশ্যই তাদের আইনেই আওতায় আনা হবে।