নাগরিকত্ব আইন ॥ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট

12

কাজিরবাজার ডেস্ক :
সংশোধিত নাগরিক আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট, সেই নোটিশে এসব বিষয়ে সরকারের জবাব চেয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সংশোধিত নাগরিক আইন এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে বহু মামলা হয়েছে। সেসব মামলার জেরেই মোদি সরকারকে এ নোটিশ দিলেন আদালত।
জামাত উলেমা-ই-হিন্দের তরফে আবেদনটি দাখিল করা হয়। সেই মামলাতেই কেন্দ্রকে সর্বোচ্চ আদালতের এই নোটিশ। সেইসঙ্গে এই সংক্রান্ত অন্যান্য বিচারাধীন সব মামলা সংযুক্ত করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত নাগরিক আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং অসম চুক্তির কার্যকর রূপায়নের দাবিতে দাখিল এক মামলায় কেন্দ্রকে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট। সংশোধিত নাগরিক আইন ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে শতাধিক আবেদন দাখিল হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীরা সংশোধিত নাগরিক আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর সংসদে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাস হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতের তিন প্রতিবেশী দেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত অমুসলিম অর্থাৎ হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, পার্সি, ও খ্রিস্টানদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই আইনের বিরোধিতায় এখন বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের মতে, ভারতে নাগরিকত্ব অর্জন বা অস্বীকার করার জন্য ধর্ম কারণ হতে পারে না। এই নাগরিকত্ব আইনটি সর্বাত্মক অসাংবিধানিক।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, এই আইন একেবারেই মুসলিম বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরোধী নয়। তার দাবি, ভারতের মুসলমানদের ওপর এই বিলের কোনো প্রভাবই পড়বে না। তারা যেমন ভারতের নাগরিক আছেন, তেমনই থাকবেন। তবে বহিরাগত মুসলিমদের জন্য ভারতের দরজা খোলা হবে না। নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্তারোপও করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আসতে হবে।
অন্যদিকে আসামে এনআরসি বা নাগরিক তালিকা থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, গায়েব হয়ে যাচ্ছে এনআরসি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ইমেল, আর তাতেই নড়েচড়ে বসেছেন সে রাজ্যের সরকারি আধিকারিকরা। ইচ্ছাকৃতভাবেই গায়েব করা হচ্ছে ওই সব তথ্য, এমনটাই মনে করছেন এনআরসির কাজের সঙ্গে জড়িত কর্তারা।
একটি সূত্র জানিয়েছে ওই ঘটনায় কেন্দ্রকে তদন্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে আসামের পক্ষ থেকে। সূত্রটি জানিয়েছে, গত নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই ওই সংক্রান্ত তথ্য ও ইমেল ডিলিট করা হয়েছে বা গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। ওই সময়েই অসম এনআরসির কাজ পরিচালনাকারী প্রতীক হাজেলাকে বদলি করা হয় এবং তার জায়গায় সেই সময় আসেন হীতেশ দেব শর্মা। অসম এনআরসির দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হতে পারে, কেননা আদালতের নির্দেশ মেনেই ওই নাগরিক তালিকা তৈরি হয়। তবে তার জন্যেও কেন্দ্রের কাছে আবেদন করতে হবে। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ আদালতের কাছে ওই সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করার জন্যে তদবির করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। গত ৩১ আগষ্ট এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই অসমের এনআরসি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে ওই তালিকা দেখা যেত। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে সেই তালিকা আর দেখা যাচ্ছে না। এ নিয়ে অসমের একটা বড় অংশের মানুষদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। বিশেষ করে যে প্রায় ১৯ লাখ মানুষের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাদের মধ্যে এ নিয়ে নানা গুজবও ছড়াচ্ছে।
এদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সভা করার অনুমতি না পেলেও গতকাল শুক্রবার যাদবপুরে এসএফআইয়ের মিছিলে হেঁটে ঝড় তুলেছেন জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ। শুক্রবার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল করে এসএফআই। সেখানেই অস্থায়ী মঞ্চে ঐশী দাবি করেন, এসএফআইকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি ও আরএসএস। যে লড়াই আমরা শুরু করেছি, তা থামবে না। অধুনা বামেদের অন্যতম মুখ ঐশী। জেএনইউর দৌলতে সারা দেশ ঐশীকে চেনে। সেখানে যাদবপুরের সভামঞ্চ থেকে ঐশী অভিযোগ তোলেন, সারা দেশে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্থান মডেল চালাতে চাইছে বিজেপি-আরএসএস-এবিভিপি, এর বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়িয়েছি। যতদিন না এই প্রবণতাকে সমূলে উপড়ে ফেলব, ততদিন আমরা লড়াই থেকে সরে আসব না।