কৃষি কাজে ভর্তুকির ব্যবস্থা জরুরী

25

বাংলাদেশের অস্তিত্বের ভিত্তিমূলে কৃষি তথা শস্য উৎপাদন। এখনো কৃষিপ্রধান জীবিকা, যদিও জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা শীর্ষস্থানে নেই। ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দিচ্ছে কৃষি খাত; অথচ কৃষির ভূমিকা ও কৃষকের আর্থিক এবং সামাজিক অবস্থান ক্রমাবনতিশীল। জিডিপিতে কৃষির অবদান ও কৃষকের আয়ের দিকে খেয়াল করলে তা অনুধাবন করা যায়। ১৯৪১-৫০ সালে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ৭০ শতাংশ, ১৯৬১-৭০ সালে ৫৫ শতাংশ, ১৯৮১-৯০ সালে ৩২ শতাংশ, ২০০১-১০ সালে ছিল ১৮ শতাংশ। ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা; ২০১৭-১৮ সালে নামে ১৪.২৩ শতাংশে। শুধু যে জিডিপিতে অবদান কমেছে তা নয়, কৃষকের আয়েও ভাটার দশা চলছে। কৃষি এখন আর কাউকে আশ্বস্ত বা সমৃদ্ধ করছে না।
একটি জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮৩ শতাংশের বেশি কৃষকের আয় পরিবারের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ কারণে ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক সময়ে সময়ে অন্য পেশায় যুক্ত হতে চায়, হয়ও। সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে অ্যাকশনএইড ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের এই জরিপ-প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ৬৫.৪৮ শতাংশ কৃষক কৃষিকাজ করলেও বিভিন্ন সময়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। কারণ কৃষি থেকে যে আয় হয় তা পারিবারিক চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। ৮৯৯ জন কৃষকের ওপর জরিপটি চালানো হয়েছে। তাদের ৮৩.১৫ শতাংশই এ কথা বলেছে। ১৯৩ জন কৃষকের মাসিক আয় মাত্র এক হাজার টাকা, ১০৫ জনের আয় এক হাজার এক টাকা থেকে চার হাজার টাকা, ১৫৫ জনের চার হাজার এক থেকে সাত হাজার টাকা, ১৫৪ জনের সাত হাজার এক থেকে ১০ হাজার টাকা, ৮০ জনের ১০ হাজার এক থেকে ২০ হাজার টাকা, ২১ জনের ২০ হাজার এক থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং ২২ জনের মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকার বেশি। জরিপকৃতদের ৬০৭ জনেরই মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার নিচে। আত্মপরিচয়-সংকট, মর্যাদাহীনতা, শুধু বাজার ও একক শস্য উৎপাদনের নিরিখে বিবেচনা করা, অলাভজনকতা, কৃষিজমির নির্বিচার দখল ও অকৃষি খাতে ব্যবহার, জমির মালিকানা-জটিলতা, পারিবারিক কৃষির জন্য সহায়ক নীতি-কর্মসূচির অভাব, রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা ও বাজেটের অভাব, কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত নানা ধাপে নির্ভরযোগ্য আন্ত সম্পর্ক না থাকা প্রভৃতি কারণে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
সরকার কৃষি খাতকে খাদ্য উৎপাদনের প্রধান খাত বলছে; অথচ এ খাতে নিয়োজিতদের প্রতি তার নজর খুবই কম। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখার স্বার্থেই কৃষকের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং কৃষি খাতে বিশেষ নজর দিতে হবে। কৃষিজমি সুরক্ষা ও কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, কৃষিকাজে যুবসমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য শস্যবীমা এবং সার্বিকভাবে পেনশন স্কিম, বীজবীমা ও বিভিন্ন প্রকারের ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে।