সরকারী চাকুরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ॥ মুক্তিযোদ্ধা কোটা রেখে বাতিল হচ্ছে বাকিগুলো

কাজিরবাজার ডেস্ক :
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া সব কোটা বাতিল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
শনিবার রাজধানীতে জাতীয় শোকদিবসের আলোচনায় এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
নাসিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কোটা আন্দোলনকারীদের কথা শুনেছেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন, কোটা থাকবে না। যেহেতু সাংবিধানিক ব্যাপার। একটি সিস্টেমের মধ্যে মীমাংসা করতে চান। তাই কোটা বাতিল নিয়ে কমিটি করে দিয়েছেন তিনি। কমিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে।’
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ফেব্র“য়ারি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পরে জানা যায়, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে।
এর মধ্যে ২ জুলাই কোটা সংস্কার বিষয়ে সুপারিশ করতে একটি কমিটি গঠন হয়। আর ১৩ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম জানান, তারা সব ধরনের কোটা বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছেন।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে রায়ের বিষয়টি জানতে আদালতের দারস্থ হওয়ার কথাও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
সরকারি চাকরিতে বাংলাদেশে যেসব কোটা আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা কোটা। ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের পরেই সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। তবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধারা এই সুবিধা পায়নি বললেই চলে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতসায় আনার পর এই কোটার সুবিধা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদেরকে দেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর এই কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামার চেষ্টা করে জামায়াত অনুসারীরা। সে সময় তারা ব্যর্থ হলেও এরপরও একাধিকবার এই আন্দোলন হয়েছে। তবে এবার কোনো বিশেষ কোটার কথা না বলে কোটা সংস্কারের দাবি সামনে আনা হয়েছে।
আবার কোটা নিয়ে যতবার আন্দোলন হয়েছে, ততবারই ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। বিএনপি বা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এই দাবিটি সামনে আনা হয়নি কখনও।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা ছাড়াও পশ্চাদপদ জেলা ও নারীদের জন্য ১০ শতাংশ করে, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর জন্য পাঁচ শতাংশ এবং এক শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা আছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি ছাড়া তারা (কমিটি) কোটা বাতিল করতে রাজি আছেন। আর সেটি-ই হতে যাচ্ছে। একটি দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা ছিল সেটি পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।’
আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই হবে এবং জনগণ আবার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে বলেও আশাবাদী স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘উপমহাদেশে জওহরলাল নেহেরুর পর সংসদীয় গণতন্ত্রে একটানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হবেন শেখ হাসিনা।’
বিএমএ মহাসচিব এহতেশামুল হক চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।