শেষ পর্যন্ত আরিফেই আস্থা বিএনপির ॥ নির্বাচনে অংশ নিতে মেয়র পদ ছেড়ে দিলেন

কাজিরবাজার ডেস্ক :
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।
বুধবার বিকালে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানান।
রিজভী বলেন, ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সিলেটে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে।
বুধবার দুপুরে ঢাকায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।
বৈঠকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ, আবদুল মঈন খান।
এছাড়া সিলেটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি নেতা ও সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামিম, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, ডা. শাহরিয়ার হোসেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, আজমল বখত সাদেক, ইশতিয়াক সিদ্দিকী।
এবার সিলেটে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেটের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সহ-সভাপতি ও প্যানেল মেয়র-১ রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও মহানগর যুবদল নেতা ছালাহউদ্দিন রিমন।
এদিকে মসনদের জন্য পুনরায় ভোট যুদ্ধে অংশ নিতে সিলেট সিটির মেয়র পদ ছাড়ছেন আরিফুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র থেকে পদত্যাগ করবেন তিনি।
মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিব। তবে এর আগে নিয়মানুযায়ী আমাকে ওই দায়িত্ব ছাড়তে হবে।
বুধবার (২৭ জুন) বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আরিফুলকে নিশ্চিত করা হয়। যে কারণে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র পদে নির্বাচন করবেন আরিফ।
এর আগে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বিএনপি’র অর্ধ ডজন প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতা না হওয়াতে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অনেকটা দোদুল্যমান ছিলেন আরিফ। অবশেষে সে শঙ্কা কাটিয়ে তার হাতেই উঠলো ধানের শীষ।
তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জুলাই সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। আর বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাই রোব-সোমবার (০১ ও ০২ জুলাই) ও প্রত্যাহার সোমবার (০৯ জুলাই)।
অপর দিকে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনীত পাওয়া মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সহ সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নেতাকর্মী ও নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, বিএনপি একটি বড় দল ও নির্বাচন মূখি দল। তাই বড় দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকাটাই স্বাভাবিক।
এজন্য সিসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদে একাধিক প্রার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বিচার বিশ্লেষণ করে ধানের শীষের বিজয় ধরে রাখতে আমাকে মনোয়ন দেয়া হয়েছে। দলের সিদ্ধান্তের উপর বিএনপির তৃণমূলের নেতারাও একাত্ম হয়ে কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সিলেটের বাসায় ফিরলে দলীয় নেতা-কর্মী ও নগরবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি একথা বলেন।
আরিফ বলেন, এই নির্বাচন দলীয় প্রতিকে হওয়ার কারণে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতে পাড়া মহল্লায় কাজ করার আহবান জানান। নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতের মধ্যদিয়ে বিএনপির চেয়াপার্সননের মুক্তি ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলার প্রতিবাদ ও আওয়ামীলীগের সরকারের দু:শাসনের বিরুদ্ধে নগরবাসী প্রতিবাদ করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে আরিফুল হক চৌধুরীকে কুমারপাড়া পয়েন্টে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা আশিকুর রহমান আসুক, উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিএনপি নেতা ছালেহ আহমদ খছরু, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, সহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল সহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।