মা-ছেলে খুনের ঘটনা ॥ উদ্ধার হওয়া শিশু রাইসাকে খালার জিম্মায় প্রদান, আরো একজন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার :
নগরীর খারপাড়ায় দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হওয়া রোকেয়া বেগম লাভলী (৪৫) ও তার ছেলে এসএসসি ফল প্রত্যাশী রবিউল ইসলাম রোকন (১৬) হত্যাকান্ডের ঘটনায় আদালতে (১৬৪ ধারায় সাক্ষী হিসেবে) জবানবন্দি দিয়েছে বেঁচে যাওয়া ৫ বছরের শিশু রাইসা। গতকাল রবিবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) রোকেয়া খানম প্রথমে রাইসাকে সিলেট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে হাজির করলে আদালতের নির্দেশে তাকে নেয়া হয় সিলেট মহানগর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয়) আদালতে। আদালতের বিচারক হরিদাস কুমার প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা রাইসার ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এসময় রাইসাকে নিজ জিম্মায় নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন রাইসার খালা লিপি বেগম। তিনি দক্ষিণ সুরমার উপজেলার মোগলাবাজার থানার কুন্দিয়ারচর গ্রামের ফার্ণিচার ব্যবসায়ী ফারুক আহমদের স্ত্রী।
আদালত সূত্র জানায়- মা ও ভাইকে হত্যা করার পর ৫ বছরের রাইসা গত ১ এপ্রিল রবিবার খারপাড়ার মিতালি ১৫/জে বাসা থেকে শিশু রাইসাকে আহতবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ পরে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায় রাইসাকে। এরপর পুলিশ তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে রাখে। সেখানে তার দেখাশোনা করেন রাইসার খালা লিপি বেগম। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ৮ দিনের মাথায় রাইসাকে গতকাল রবিবার বিকেলের দিকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য নেয়ার জন্য আদালতে নিয়ে আসে পুলিশ। সেখানে সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি নেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) রোকেয়া খানম বলেন- ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে অর্থাৎ সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয় রাইসা। এসময় কয়েকজনের নামও উল্লেখ করে। কিভাবে ঘটনা ঘটেছে কারা এসেছিলো সেবিষয়টিও আদালতকে জানায় রাইসা। জবানবন্দি শেষে রাইসাকে তার খালার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত খালা লিপি বেগমের কাছে রাইসাকে জিম্মায় দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন আদালত।
এদিকে, এ জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশি রিমান্ডে থাকা নাজমুল ইসলামের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এমদাদুর রহমান রাফি (৩০) নামের আরো এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। সে নগরীর আম্বরখানা বড়বাজার ৯৪/২ নং বাসার ইলিয়াছ উর রহমানের পুত্র। গতকাল রবিবার বিকেলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ জোড়া খুনের মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে রাফিকে সিলেট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে আদালতের বিচারক মো: সাইফুজ্জামান হিরো তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এরআগে শনিবার ৯ টার দিকে রাতে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় রাফিকে বন্দরবাজার করিম উল্লাহ মার্কেটের পেছন থেকে গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রোকেয়া খানম বলেন-পুলিশের কাছে রিমান্ডে থাকা নাজমুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাফিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রয়োজনে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।