কালবৈশাখীর তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, অন্ধকারে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর

ওসমানীনগর থেকে সংবাদদাতা :
কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলা। বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত তিন দফায় ঝড়ের কবলে পড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রায় আধা ঘন্টা ব্যাপি স্থায়ী ঝড়ে দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দোকানঘরসহ শতাধিক ঘরের টিনের চালা উড়ে যায়। এছাড়া দুই উপজেলায় কয়েক শতাধিক গাছসহ অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার বিকেলে পর্যন্ত দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঝড়ের তান্ডবে শুক্রবার সন্ধ্যায় ওসমানীনগরে এক নারী ও এক শিশুর মুত্যু হয়েছে। ওসমানীনগরের তাজপুর ইউনিয়নের দশহাল গ্রামের নূরুল আলমের নির্মাণাধীন ঘরের উড়ে যাওয়া টিনের আঘাতে সাবিয়া বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। তিনি বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের খালিছ মিয়ার স্ত্রী। ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সদস্য আকলু মিয়া জানান, শুক্রবার বিকেলে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে ঝড়ের আঘাতে হাসান আহমদ নামের ১৬ মাসের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। সে উমরপুর ইউপির সিকন্দরপুর রংবরণ গ্রামের সুমন আহমদের ছেলে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত শিশু হাসানের লাশ নিজ বাড়ির পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এদিকে ঝড়ের সময় উপজেলার বুরুঙ্গা ইউপির পূর্ব তিলা পাড়ার ইউছুফ আলীর ৪টি গরু মুক্তারপুর হাওরের তেতইখালিতে থাকাবস্থায় বজ্রপাতের আঘাতে মারা যায়। ঝড়ের আঘাতে বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুড় বাজারের ৮-১০টি দোকানের চাল উড়িয়ে নিয়ে বালাগঞ্জ-তাজপুর সড়কের ওপর ফেলে দেয়। সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন বালাগঞ্জ (কাশিকাপন) জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম জানান, ঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের ৯টি ফিডারের (সঞ্চালন লাইনের) প্রায় অর্ধশতাধিক খুঁটি উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিড়ে গিয়ে গোটা ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগের বিঘœ ঘটছে। বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত তিন দফায় কাল বৈশাখী ঝড়ে বালাগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে অনেক মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে এবং পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, কাল বৈশাখী ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হক বলেন, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষতির পরিমাণের তালিকা তৈরী করা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে।