Tag:

পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ॥ আ’লীগ ৩২, বিএনপি ১২

কাজিরবাজার ডেস্ক :
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকারের যেসব এলাকায় নৌকা ও ধানের শীষে লড়াই হয়েছে তাতে বড় ব্যবধানে জয় হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের। যে ৫১টি ইউনিয়নে সাধারণ এবং উপনির্বাচনে ভোট হয়েছে, সেগুলোর চেয়ারম্যান পদের ২৮টিতেই জিতেছে আওয়ামী লীগের নৌকা। বিএনপির ধানের শীষ জিতেছে ১১টিতে।
এসব ইউনিয়নে দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জিতেছেন ১০টি ইউনিয়নে। এদেরও প্রায় সবাই আওয়ামী লীগেরই নেতা।
যে চারটি পৌরসভার ভোট হয়েছে তার মধ্যে তিনটিকে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে বিএনপি জিতেছে।আর শেরপুরের নকলা উপজেলায় পরিষদে চেয়ারম্যান পদেও জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকারের মোট ১৩৩টি এলাকায় বিভিন্ন পদে ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের সাগরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই নির্বাচনী সহিংসতায় সেখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন এলাকায় ভোট হয়। মোট ১৩৪টি নির্বাচনী এলাকায় ভোট হওয়ার কথা থাকলেও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে একটি ইউনিয়নে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায় ভোটের আগে আগে। আর টাঙ্গাইলের একটি ইউনিয়নে ভোট হয়নি ভোটের আগেই কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় একজনের মৃত্যুর পর।
যেসব এলাকায় ভোট হয়েছে তার মধ্যে ৪৭ ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ নির্বাচন, চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে উপনির্বাচন বা বিভিন্ন কেন্দ্রে স্থগিত নির্বাচন হয়েছে ৭২টি এলাকায়।
এর বাইরে চারটি পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচন এবং বিভিন্ন পদে উপনির্বাচন/স্থগিত সাতটি এবং খুলনা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ডের একটি করে নির্বাচনে ভোট হয়।
এসব নির্বাচনের মধ্যে কুমিল্লার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিকে বিএনপির প্রার্থীরা ভোট বর্জন করে কারচুপির অভিযোগে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে গোলযোগের পর সেটিতে ভোট স্থগিত করা হয়। আর যশোরের শার্শার লক্ষণপুর ইউনিয়নে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল অস্বাভাবিক।
বাকি নির্বাচনী এলাকাগুলোতে ভোট নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ উঠেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও নির্বিঘেœ ভোটের খবরই এসেছে গণমাধ্যমে।
সাম্প্রতিক সময়ের স্থানীয় নির্বাচনগুলোর মধ্যে বৃহস্পতিবারের ভোটেই বিএনপি অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় বেশি সংখ্যক এলাকায় জিতেছে।
এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘যে সকল জায়গায় বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে সেগুলোতে আমাদের বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে তারা বিজয়ী হয়েছে। আমাদের অন্তঃকলহের ফসল বিএনপি ঘরে তুলেছে।’
অবশ্য বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভোটের দিন দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনেছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল এবং চট্টগ্রামের নাজিরহাট পৌরসভায় ভোট নিয়ে আপত্তি জানান। তবে পরে নাজিরহাটে বিএনপির প্রার্থী এবং টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপির প্রার্থীরাই বেশি জিতেছেন।
পৌরসভা নির্বাচন : মোট পাঁচটি পৌরসভায় সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছিল। এর মধ্যে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় সেখানে ভোটের দরকার পড়েনি। বাকি চারটির মধ্যে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা, সুনামগঞ্জ ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আওয়ামী লীগের জয় হয়েছে। আর চট্টগ্রামের নাজিরহাটে জিতেছে বিএনপি।এর মধ্যে সুনামগঞ্জ এবং এলেঙ্গায় বিএনপির প্রার্থী তৃতীয় হয়েছেন।
হালুয়াঘাট পৌসবলায় ৩ হাজার ৮৩৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুল আলম ভুঁইয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হামিদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন তিন হাজার ৫১ ভোট।
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নাদের বখত ১৬ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে জিতেছেন।তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গনিউল সালাদীন পেয়েছেন নয় হাজার ৪৮৫ ভোট। বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী পেয়েছেন এক হাজার ৮০৭ ভোট।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির এস এম সিরাজ উদ দৌলা। তিনি পেয়েছেন নয় হাজার ৫৮২ ভোট। আওয়ামী লীগের মজিবুল হক চার হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন।টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌর নির্বাচনে ১৪ হাজার ১৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের নূর-এ-আলম সিদ্দিকী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম শফিকুল ইসলাম সাফি তালুকদার ৫ হাজার ৫৫৭ ভোট পেয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী শাফি খান পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৭৪ ভোট পান।
নকলা ‘দুর্গ’ আ’লীগেরই : শেরপুরের এই উপজেলাটি এমনিতে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবারের ভোটে দুর্গের দখল বজায় রেখেছে ক্ষমতাসীন দল।
চেয়ারম্যান মাহাবুবুল আলম মুনীর চৌধুরী মারা যাওয়ায় ফাঁকা হওয়া পদ পূরণে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ কে এম মাহবুবুল আলম সোহাগ জিতেছেন ৫১ হাজার ৫৫২ ভোট পেয়ে। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ্ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬৩৬ ভোট।
ইউপি নির্বাচন: ফরিদপুরের ১১টির ছয়টিতে নৌকা : ফরিদপুর সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত ছয়জন প্রার্থী জিতে। দুটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং দুটিতে বিএনপির প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। একটি ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।
ফরিদপুর সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
অম্বিকাপুরে আওয়ামী লীগের আবু সাইদ বারী চৌধুরী, কানাইপুরে বেলায়েত ফকির, ঈশান গোপালপুরে শহিদুল ইসলাম মজনু, গেরদায় জাহিদুর রহমান, আলিয়াবাদে ওমর ফারুক ডাবলু, কৈজুরীতে ইফতেখার আহম্মেদ ইকু নৌকা প্রতীকে জিতেছেন।
ডিক্রীরচরে মেহেদী হাসান মিন্টু এবং মাচ্চর ইউনিয়নে জাহিদ মুন্সী জিতেছেন। তাই দুই জনই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও নির্বাচনে অংশ নেন।
অন্যদিকে নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক এবং চরমাধবদিয়া ইউনিয়নে বিএনপির সাইফুল ইসলাম আজম জিতেছেন।
কিষ্ণনগর ইউনিয়নের একটি সেন্টারে ভোট গণনা নিয়ে প্রার্থীদের আপত্তি থাকায় ওই ইউনিয়নের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।
কুমিল্লার চার ইউনিয়নে একচেটিয়া নৌকা : কুমিল্লার চার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সবগুলোতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। জেলার বরুড়ার তিনটি ইউনিয়ন ও বুড়িচংয়ে এক ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন।
বরুড়ার খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়নে আবদুর রব, শিলমুড়ী দক্ষিণ ইউনিয়নের ফারুক হোসেন ভূঁইয়া এবং শিলমুড়ী উত্তর ইউনিয়নে আবু ইসহাক। বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের আব্দুল করিম বিজয়ী হয়েছেন।
এই চারটি ইউনিয়নের মধ্যে বরুড়ার খোশবাস (দক্ষিণ),শিলুড়ী (উত্তর) এবং শিলমুড়ী (দক্ষিণ) ইউনিয়নের বিএনপি ভোট বর্জন করে কারচুপির অভিযোগ এনে।
রাজশাহীর পুঠিয়ায় দুটি ইউপিতেই বিএনপির হার : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার দুই ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ জিতেছে। এর একটিতে বিএনপির ধানের শীষের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নৌকার লড়াই হয়েছে। অন্যটিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী পেয়েছেন অনায়াস জয়।
শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাজ্জাদ হোসেন মুকুল ১৩ হাজার ৩৩০ ভোট পেয়ে জিতেছেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী আবু হায়াত পেয়েছেন ৮ হাজার ৬৪৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন।
ভাল্লুকগাছি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের তাকবির হাসান ৯ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে জিতেছেন। এখানে বিএনপির তৌহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৮ ভোট।
গাজীপুর ‘দুর্গে’ আ’লীগের হার : ক্ষমতাসীন দলের ‘দূর্গ’ হিসেবে পরিচিত রাজধানী লাগোয়া গাজীপুরের তিনটি ইউনিয়ন পরিষদেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হেরে গেছেন।
মির্জাপুর ইউনিয়নে পাঁচ হাজার ৩১১ ভোট পেয়ে জিতেছেন বিএনপির ফজলুল হক মুসুল্লী। তার চেয়ে ৯ ভোট কম পেয়েছেন আওয়ামী লীগের মোশারফ হোসেন দুলাল। তার পক্ষে পড়েছে পাঁচ হাজার ৫৩০২ ভোট।
ভাওয়ালগড় ইউনিয়নে বিএনপির মআবু বকর ছিদ্দিক জিতেছেন ১৪ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে। এখানে নৌকা নিয়ে সালাহ উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১৩ হাজার ৯৩৫ ভোট। অর্খাৎ তিনি হেরেছেন ১৬৫ ভোটে।
পিরুজালী ইউনিয়নে জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাইফুল্লাহ সরকার মনজু। তিনি পেয়েছেন ছয় হাজার ৩৩৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাসুদুল কবীর মোনায়েম পেয়েছেন তিন হাজার ১৬৯ ভোট।
চুয়াডাঙ্গার পাঁচটির চারটিতে নৌকা : চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন।
জীবননগর উপজেলার বাকা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে আবদুল কাদের প্রধান, রবি বিশ্বাসহাসাদহ ইউনিয়নে রবি বিশ্বাস, আলমডাঙ্গা উপজেলার আইলহাস ইউনিয়নে আব্দুল মালেক, নাগদাহ ইউনিয়নে আবুল কালাম আজাদ জিতেছেন।
অন্যদিকে জীবননগর উপজেলার আবদুর রশিদরায়পুর ইউনিয়নে পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রশিদ শাহ নির্বাচিত হয়েছেন।
বরগুনার তালতলীতে নৌকার জয় : বরগুনার তালতলী উপজেলার সারিকখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ আবুল বাশার তালুকদার জিতেছেন দুই হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারফ হোসেন বিশ্বাস পেয়েছেন এক হাজার ৯৭৪ ভোট।
টাঙ্গাইলে আ’লীগকে ছাড়িয়ে বিএনপি : টাঙ্গাইলের তিন উপজেলার আট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটিতে আওয়ামী লীগ, তিনটিতে বিএনপি ও তিনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন।
সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নে বিএনপির মাজেদুর রহমান এবং ঘাটাইল উপজেলায় ধলাপাড়ায় বিএনপির এজহারুল ইসলাম ভুইয়া এবং সন্ধানপুরে বিএনপির শহিদুল ইসলাম শহিদ জিতেছেন।
নৌকা জিতেছে কেবল ঘাটাইলের সংগ্রামপুরে। সেখানে বিজয়ীর নাম আব্দুর রহিম মিয়া।
কালিহাতী উপজেলার বাংড়া হাসমত আলী, ঘাটাইলের রসুলপুরে এমদাদুল হক সরকার এবং লক্ষীন্দর ইউনিয়নে একাব্বর আলী জিতেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে।
উপজেলার সাগরদিঘী ইউনিয়নে সোনামুড়ি গুপ্ত বৃন্দাবন কেন্দ্রে একজন নিহত হওয়ায় সেখানকার ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এজন্য ইউনিয়নের নির্বাচনের ফলও স্থগিত রাখা হয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া, দুমকিতে বিএনপির ভরাডুবি : কলাপাড়ায় ও দুমকি ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়-জয়কার। বিএনপিকে ছাপিয়ে ইসলামী আন্দোলনের পাখা প্রতীক আলোচনায় উঠে এসেছে।
সাতটি ইউপির ছয়টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে এবং একটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন।
কলাপাড়ার পাঁচ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিজয়ীরা হলেন: মিঠাগঞ্জে কাজী হেমায়েত উদ্দীন হিরন, বালিয়াতলীতে এবিএম হুমায়ুন কবির, ডালবুগঞ্জে আব্দুস সালাম সিকদার, চম্পাপুরে রিন্টু তালুকদার। ধানখালীতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রিয়াজ তালুকদার।
দুমকি উপজেলার লেবুখালীতে শাহ আলম আকন ও শ্রীরামপুর আমিনুল ইসলামও জিতেছেন নৌকা নিয়ে।
নেত্রকোণায় নৌকা নিয়ে ‘বিএনপি নেতা’র জয় : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে তেতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদকে নৌকা প্রতীক দেয় আওয়ামী লীগ। তিনি চার হাজার ৮৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জিতেছেন। আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়া সামিনা সুলতানা পেয়েছেন চার হাজার ২৬৬ ভোট।
মাগুরার মহম্মদপুরে বিএনপি তৃতীয় : মাগুরার মহম্মদপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জিতেছেন রাবেয়া বেগম। তিনি পেয়েছেন পাঁচ হাজার ২৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইকবাল আখতার কাফুর পান চার হাজার ২৮৯ ভোট। বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে মহিদুল ইসলাম পেয়েছেন তিন হাজার ৮৬৩ ভোট।
শার্শায় অস্বাভাবিক ব্যবধান : যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আনোয়ারা খাতুন জিতেছেন ১০ হাজার ২৭২ ভোট পেয়ে। তার তিন প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পেয়েছেন ৩১৯ ভোট।
লক্ষ্মণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন শান্তি গত ৯ জানুয়ারি মারা যাওয়ায় পদটি ফাঁকা হয়। আর তার স্ত্রী আনোয়ারাকে প্রার্থী করে বাজিমাত করে আওয়ামী লীগ।
শিবপুরে স্বতন্ত্রের জয় : নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি-দুই দলই হেরে গেছে। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মেরাজুল হক জিতেছেন। বিএনপির প্রার্থী মাহফুজুল হক দ্বিতীয় এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের মরিয়ম বেগম হয়েছেন তৃতীয়।
বগুড়ার কাহালু দুর্গ বিএনপির : বগুড়ার কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে বিএনপির মর্জিনা বেগম। তিনি ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা প্রয়াত আব্দুল মোত্তালেব মণ্ডলের স্ত্রী।
মর্জিনা পেয়েছেন আট হাজার ৫৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে আব্দুল হাকিম পান সাত হাজার ৩১৬ ভোট।