শ্রম বাজার বৃদ্ধির পদক্ষেপ

বিদেশে যেসব বাংলাদেশি কাজ করেন, তাঁদের একটি বড় অংশই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সৌদি আরবে। কয়েক বছরে তেলের বাজারে ব্যাপক দরপতন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধবিবাদে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেই বেকারত্বের হার বেড়ে গেছে। এর ফলে দেশগুলো বিদেশি শ্রমিক নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। অনেক খাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশিসহ বিদেশি শ্রমিকরা কাজও হারাচ্ছেন। তার ধাক্কা বাংলাদেশের শ্রমবাজারেও পড়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে এবং সে অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
সৌদি আরবের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও একসময় প্রচুর বাংলাদেশির কর্মসংস্থান ছিল। কয়েক বছরের যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের কারণে ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়ার অর্থনীতি আজ প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত। দেশগুলো থেকে দলে দলে মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। এসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই বললেই চলে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে সৌদি আরবে বেকারত্বের হার ১২ দশমিক ৮ শতাংশ, ওমানে ১২ শতাংশ, কুয়েতে ২ দশমিক ২ শতাংশ। তাই এসব দেশও স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে অনেক খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে দেশগুলোতে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়া যেমন কমে গেছে, তেমনি যাঁরা সেখানে কর্মরত ছিলেন তাঁরাও বেকার হয়ে পড়ছেন। প্রবাসী আয়ের ওপরও তার প্রভাব পড়ছে। তাই বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিকল্প উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা প্রয়োজন। অদক্ষ কর্মীর বদলে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পেশায় দক্ষ কর্মী প্রেরণের ওপর জোর দিতে হবে। এ জন্য দেশে পেশাভিত্তিক দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার প্রক্রিয়া জোরদার করতে হবে। নতুন নতুন শ্রমবাজার খোলার ওপর জোর দিতে হবে। অনেক দেশেই এখনো বিদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বাজার সৃষ্টির ওপর জোর দিতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো অনেকাংশেই প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই এই খাতের উন্নয়নে আমাদের আরো বেশি মনোযোগ দিতে হবে। তাই বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ ও সহজ করতে হবে। অনেক বেশি বিকল্প খুঁজতে হবে।